Printed on Mon Jul 26 2021 4:44:19 AM

কোরবানির অনলাইন বাজারে ঢুকে পড়ছে ভারতীয় গরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
অনলাইন বাজারে
অনলাইন বাজারে
ঈদুল আজহার মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। প্রতি বছর এ সময় সারা দেশে জমে ওঠে কোরবানির পশুর হাট। খামারিদেরও আয়ের অন্যতম উৎস কোরবানির এ মৌসুম। কিন্তু করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে সারা দেশে চলছে কঠোর বিধিনিষেধের লকডাউন।

এ  বিধিনিষেধে দেশের কোথাও কোরবানির পশুর হাট বসার অনুমতি দেয়া হয়নি। হাটে পশু বিক্রির পরিবর্তে এবার অনলাইন বাজারে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। যদিও এতে কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে অনলাইন হাটেও ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করছেন খামারিরা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছর ভারতীয় গরু তুলনামূলক কম আসায় দেশে এ খাতে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে এসেছেন অনেকেই। নিজস্ব বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যাংকঋণে তারা গড়ে তুলেছেন গরু-ছাগলের খামার। কোরবানির বাজার ধরতে এসব খামারে কয়েক লাখ পশুও প্রস্তুত রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিধিনিষেধের কারণে পশুর হাট চালু না হওয়ায় বড় লোকসানের আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৯ হাজার বেশি। গত বছর হূষ্টপুষ্টকরণের আওতায় কোরবানির জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশে গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি। এ বছর এ কার্যক্রমের আওতায় মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার ছাগল-ভেড়া এবং অন্যান্য ৪ হাজার ৭৬৫টি পশুসহ মোট ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু রয়েছে।

জয়পুরহাট জেলা ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অরণ্য এগ্রো ডেইরির স্বত্বাধিকারী শাদমান আলিফ মীম রায়হান জয় জানান, জেলায় গরুর হাট বন্ধ থাকায় খামারিসহ ক্রেতারাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা গরু যাচাই-বাছাই করে বাজার অনুপাতে দাম নির্ধারণে কিনতে পারতেন। কিন্তু বাড়ি থেকে বা খামার থেকে সামান্য কিছু গরু বিক্রি হলেও লোকসানে তাদের গরু বিক্রি করতে হচ্ছে। মফস্বল শহর জয়পুরহাটে অনলাইনে গরু বিক্রি করার সে রকম সুযোগ গড়ে ওঠেনি। অনলাইন পদ্ধতিটা এখনো সবাই জানে না, তবে এ পদ্ধতি সম্পর্কে যদি আরো আগে থেকে সাধারণ মানুষকে জানানো যেত এবং জেলার সব খামারিকে নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া যেত, তাহলে আমরা এর সুফল পেতাম।

তবে অনলাইনে স্বল্প পরিসরে বাইরের ব্যাপারীদের কাছে পশু কেনা-বেচা শুরু হয়েছে। বর্তমানে তার খামারে যেসব গরু রয়েছে, তা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু পালন করা হয়েছে। গো-খাদ্যের মূল্য বেশি থাকায় বাজার পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় করোনার কারণে এবার গরুপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার জামালপুর গ্রামের কৃষক তারাজুল ইসলাম জানান, হাট না থাকায় তারা বাড়ি থেকে গরু বিক্রি করছেন। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম পাননি। ব্যাপারীরা বাড়িতে এসে কম দাম দিয়ে গরু কিনছেন। হাট হলে বাজার যাচাই-বাছাই করার সুযোগ থাকত, সে সুযোগ এবার পাচ্ছেন না তারা।

আরও পড়ুন : লকডাউনে দুশ্চিন্তায় খামারীরা : চাহিদার চেয়েও ৯ লাখ বেশি উৎপাদন

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ২৭৬টি। জেলায় রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার খামার। এসব খামারে এবং ব্যক্তিগতভাবে জেলায় এ বছর মোট উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭১টি গবাদিপশু। এর মধ্যে মহিষ, ছাগল ও ভেড়া উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ২৩০টি। বাকি সবগুলো ষাঁড়। জেলার চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত থাকবে ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৯৫টি গবাদি পশু। আর জেলার ২৮টি স্থায়ী এবং ২৭টি অস্থায়ী হাটের মাধ্যমে এসব গবাদিপশু বেচা-বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু লকডাউনের কারণে জেলার সব হাট বন্ধ রয়েছে।

জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহাবুদ্দিন বলেন, এ অবস্থায় খামারিদের সঙ্গে আমরাও চিন্তিত। তবে সময়ের পরিস্থিতি সবাইকে মেনে নিতে হবে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় খামারিদের কিছুটা চিন্তামুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ফেসবুক গ্রুপ খুলে সেখানে জেলার খামারিদের যুক্ত করা হচ্ছে। সেই গ্রুপে নানা ধরনের পশুর ছবি, রঙ, ওজন, কাঙ্ক্ষিত দাম ও খামারিদের সেলফোন নম্বরসহ বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে অনলাইন ও ফেসবুকে আপলোড করা হচ্ছে। এতে জেলায় উৎপাদিত মোট গবাদিপশুর ২৫ শতাংশ যদি বিক্রির ব্যবস্থা করা যায়, তাহলেও খামারিদের কিছুটা উপকার হবে বলে মনে করি।

তবে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের বাইরে থেকে গবাদিপশু আসতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য  ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, গত দুটি কোরবানির ঈদে আমরা দেশের বাইরে থেকে পশু আসতে দিইনি। তাতে পশুর সংকট হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, এ বছরও সীমান্তে আমরা যোগাযোগ করছি, যাতে চোরাই পথে বা অন্য কোনো পথে একটা পশুও দেশের ভেতর প্রবেশ করতে না পারে। খামারিদের পশু বিক্রি হবে না, বাইরে থেকে আসবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

ভয়েস টিভি/ডি
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48520
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ