Printed on Tue Sep 21 2021 8:08:19 AM

আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে গ্রেনেড হামলা : রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে গ্রেনেড হামলা
আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে গ্রেনেড হামলা


দেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দেয়া সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে রাজধানীতে দলটির সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ১৬তম বার্ষিকী আজ শুক্রবার।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তারা বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।

২০ আগস্ট শুক্রবার রাষ্ট্রপতি ২১ আগস্ট উপলক্ষে দেওয়া  বাণীতে, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ঘাতকচক্রের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রুখে দেওয়া এবং দেশে স্বৈরশাসন ও জঙ্গিবাদ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তা হতে দেয়নি।

বাণীতে রাষ্ট্রপতি বাঙালি জাতির ইতিহাসে ২১ আগস্ট একটি শোকাবহ দিন উল্লেখ করে বলেন, ২০০৪ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় শহীদ হন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী।

দেশের স্বাধীনতা লাখো শহীদের আত্মত্যাগের ফসল উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ‘৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৮ এর সামরিক শাসনবিরোধ আন্দোলন, ’৬৬ এর ৬ দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০ এর নির্বাচন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে শাসকের বুলেটের আঘাতে। স্বাধীন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ওপর প্রথম আঘাত আসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। এদিন স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে অকালে জীবন দিতে হয়েছে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। এরপরও ঘাতকচক্র থেমে থাকেনি। তারা পরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ইতিহাসের বর্বরতম গ্রেনেড হামলা চালায়। আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে সেদিন শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও প্রাণ হারান দলের ২৪ জন নেতাকর্মী। আহত হন অনেকে। এ হামলায় বেঁচে থাকা অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে আজও  দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতার পাশাপাশি পরমতসহিষ্ণুতা অপরিহার্য।

দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে সব রাজনৈতিক দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এ গ্রেনেড হামলায় দলের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন প্রাণ হারান।

অল্পের জন্য বেঁচে যান হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু বতর্মান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তবে গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ হামলায় তিন শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

গ্রেনেড হামলার এ ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের অধীনে একটি এবং হত্যার জন্য আরেকটি মামলা। সব প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর গ্রেনেড হামলার দুই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালাত।

এছাড়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

প্রতি বছর দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করে। তবে এবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতির প্রভাবে কর্মসূচি পালনের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে।


আরও পড়ুন : বিশ্ব নেতৃত্ব ও শেখ হাসিনা

ভয়েস টিভি/ এএন
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/51716
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ