Printed on Sat May 15 2021 9:20:03 PM

ফুলবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীতে স্বপ্ন দেখছে বিএনপি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
সারাদেশ
আওয়ামী লীগের
আওয়ামী লীগের
দ্বিতীয় দফায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জানুয়ারি।
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা বিএনপিকে জয়ের স্বপ্ন জাগাচ্ছে। রয়েছে প্রচারণায় বাধার অভিযোগ। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে কাজ করছেন প্রশাসন।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীরাও ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো নির্বাচনী এলাকা পোস্টারে ছেয়ে গেছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে গানে গানে চাওয়া হচ্ছে ভোট, দেয়া হচ্ছে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। হাটবাজার দোকানপাট ও চা স্টলে নির্বাচনী খোশগল্পে মেতে উঠেছে নানা বয়সীরা। সাধারণ ভোটাররাও কথা বলার ফাঁকে পছন্দের প্রার্থীর জন্যে চাচ্ছেন ভোট। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড (মধ্যপাড়া) এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন এবার নতুন ভোটার হয়েছেন। তিনি বলেন, শুনেছি ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইভিএমে ভোট দেয়ার পদ্ধতি শেখানো হয়নি। তবুও কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবো। আমরা জানি বিগত সময়ে কে কেমন উন্নয়ন করেছে। আমার ভোটটা যাকে দেবো সেই যেনো পায়।

৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ আব্দুল কাদির জানান, খালি হুনি পাশ করলে এইডা করবো ওইডা করবো। পাশ করার পর খোঁজ থাহে না। তহন সবাই ব্যস্ত থাহে। এইবার ভোটটা বুইজা হুইনা জায়গা মতো দিমু।

আ'লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন দুই বারের মেয়র গোলাম কিবরিয়া। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম কিবরিয়া সেলিম। বিদ্রোহীরাও হ্যাভিওয়েট হওয়ায় অনেকাংশে বিপাকে নৌকার প্রার্থী।

এদিকে দলের জন্যে বহু ত্যাগ স্বীকার করার পরেও মনোনয়ন না পাওয়ায় জনগণের আশা পূরণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানিয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। অভিযোগ তুলেছেন প্রচারণায় বাঁধার।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গোলাম মোস্তফা বলেন, ২৯ বছর যাবত আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। এবার নিয়ে তিনবার মনোনয়ন চেয়ে পাইনি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আমার সমর্থক ভোটারদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কিন্তু কোনো লাভ হবে না। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয় তাহলে পৌরসভার প্রায় অর্ধেক ভোট আমি পাবো। আমি অভূতপূর্ব সারা পাচ্ছি। পৌরসভার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে আমার পক্ষে জনমত রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া সেলিম বলেন।

মেয়র পদে নৌকার প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমি মেয়র থাকাকালে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, ড্রেনেজ, কালভার্টসহ পৌরসভার যথেষ্ট উন্নয়ন করেছি। সরকারের নির্দেশনা হতদরিদ্র মানুষদের বিজিএফের চাল বিতরণ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং পঙ্গু ভাতার কার্ডগুলো তালিকা করে যথাযথভাবে দেয়ার চেষ্টা করেছি। অতিতের উন্নয়ন বিবেচনায় নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদী তিনি।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা তাদের দুর্বলতা ঢাকতে মিথ্যে অভিযোগ এনেছেন।

ময়মনসিংহ জেলা জাতীয় পার্টির দফতর সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান আরজু জানান, স্থানীয়ভাবে দলে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকায় জাতীয় পার্টির কোনো নেতা ফুলবাড়িয়া পৌর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।

বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন মো. চাঁন মাহমুদ চানু। তিনি বলেন, ভোটাররা যদি কেন্দ্রে যেয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এবং নির্বাচনে কারচুপি না হয় তাহলে বিএনপির জয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকায় নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে উল্লেখ করে ময়মনসিংহ নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন কালাম জানিয়েছেন, নির্বাচনে ২৩ হাজার ৭৫১টি ভোট। প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি ভোট চাচ্ছেন। বিএনপি প্রার্থীর নিজ দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকলেও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের সঙ্গে আরও দুজন প্রার্থী লড়াই করছে। ফলে নির্বাচনে ফলাফল শেষ পর্যন্ত বিএনপির দিকে গড়ায় কিনা সেটিও ভাবার বিষয়।

তিনি বলেন, দলীয় স্বীদ্ধান্তে নৌকার প্রার্থী দেয়া হয়েছে। তবে বিদ্রোহীরাও হ্যাভিওয়েট প্রার্থী। এজন্যে নৌকার অনেক ভোট ভাগ হয়ে যাবে। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে এক সঙ্গে নৌকার পক্ষে কাজ না করায় বিএনপি জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র ছাড়াও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন ও নারী কাউন্সিলর পদে ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ৭৫১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৮০৬ জন ও নারী ভোটার ১১হাজার ৯৪৭জন।

তিনি আরো বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। কোনো প্রার্থী নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভয়েস টিভি/এমএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/31367
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ