Printed on Wed Aug 10 2022 4:36:06 PM

আগস্টে শহুরে বস্তিবাসীর আয় কমেছে ১৮%

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
আগস্টে
আগস্টে
২০২১ সালের মার্চ মাসের তুলনায় আগস্ট মাসে শহরের বস্তিবাসীর আয় ১৮ শতাংশ এবং গ্রামীণ বস্তিবাসীর আয় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যা পুনরুদ্ধারের ধারার বিপরীত। সবশেষ লকডাউনের সিদ্ধান্ত ভালো হলেও জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেকই জানিয়েছেন তাদের জীবিকার সংকটের কথা।

জীবন ও জীবিকা নিয়ে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) জরিপের চতুর্থ ধাপে উঠে এসেছে এই চিত্র।

৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার চলতি বছরের আগস্টে শহুরে বস্তি এবং গ্রাম মিলিয়ে ৪ হাজার ৮৭২ পরিবারের ওপর করা জরিপে উঠে এসেছে, সর্বশেষ লকডাউনের ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার হার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

স্বল্পশিক্ষিত ও দরিদ্রদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জানিয়েছেন, তারা প্রত্যাশিত কাজ পাননি। প্রথম লকডাউনে ৪৫ শতাংশ পরিবার সামান্য ত্রাণ পেলেও দ্বিতীয় লকডাউনে সেটি নেমে এসেছে ২৩ শতাংশে।

ফলে, জীবিকার যে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলমান ছিল, তা কিছুটা ঘুরে গেছে এবং আগস্টে মানুষের আয় করোনার আগের তুলনায় ২৩ শতাংশ কমেছে।

এই আয় কমার হার শহুরে বস্তির তুলনায় গ্রামে কিছুটা কম ছিল। কোভিড-পূর্ব সময়ের তুলনায় তা গ্রামে ১২ শতাংশ কম এবং শহুরে বস্তিতে ৩০ শতাংশ কম। মহামারির পূর্বে কাজে নিয়োজিত ছিলেন এমন ১০ শতাংশ মানুষ এখনও কোনো কাজ পাননি।

কাজ এবং আয়ের অনিশ্চয়তায় গত ১৮ মাসে মানুষের জীবনযাপনের ঝুঁকি বেড়েছে। জীবনযাপনের জন্য অনেকেই পেশা পরিবর্তনের মাধ্যমে আয়ের চেষ্টা চালিয়েছেন। এমনকি তারা তাদের দক্ষতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কাজেও নিয়োজিত হয়েছিলেন।

১৭ শতাংশ দক্ষ কর্মী উদাহরণ হিসেবে, ইলেকট্রিশিয়ানরা দিনমজুরের মতো অদক্ষ কর্মী হিসেবেও কাজ করছেন। মহামারিতে পরিবারগুলোর ঋণের পরিমাণও বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। মহামারির আগে অর্থাৎ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঋণের পরিমাণ তাদের বাৎসরিক আয়ের মাত্র ১৩ শতাংশ থাকলেও চলতি বছরের আগস্টে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশে।

অনেক পরিবারে মাংস, দুধ, কিংবা ফল খাদ্য তালিকায় থাকছে না এবং তাদের মাথাপিছু খাদ্যব্যয় মহামারির আগের তুলনায় এখনও কম। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষত শিশুদের ওপর এমন অবস্থা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। শহরের ব্যয় নির্বাহ করতে না পেরে গ্রামে কিংবা তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল শহরে চলে যাওয়া ১০ শতাংশ বস্তিবাসী এখনও ফিরে আসেনি।

জরিপে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলোর দারিদ্র্যের হার মহামারি পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে ১৭ শতাংশ পয়েন্ট উপরে অবস্থান করছে এবং শহুরে বস্তিতে এই হার ২২ শতাংশ। দৈনিক আয়ের ভিত্তিতে বর্তমানে শহরের বস্তির ৭৭ শতাংশ পরিবার দরিদ্র, যা উদ্বেগজনক।

গ্রামের এবং শহুরে বস্তির যেসব ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার গড়ে কম আয় করলেও দারিদ্র্যসীমার উপরে ছিল, তারা লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমন পরিবারের দুই-তৃতীয়াংশই আগস্টে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। এদের বাংলাদেশের ‘নতুন দরিদ্র’ জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আগস্টে জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, বর্তমানে জাতীয় জনসংখ্যার ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী ‘নতুন দরিদ্র, যা ২০২১ সালের মার্চে অনুমিত ধারণার চেয়ে ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

গবেষনায় উঠে এসেছে অনেক নতুন দরিদ্র পরিবার দীর্ঘমেয়াদী দারিদ্রে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মহামারি আসার পর দারিদ্র্যসীমার উপরে অবস্থানরত অন্তত ২৯ শতাংশ পরিবার দরিদ্র হয়ে পড়ে। সেই থেকে তারা নিজেদের অবস্থান এখনও উন্নত করতে পারেনি। দীর্ঘমেয়াদী এই দারিদ্র্যের কারণে পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবিকা ব্যাহত হতে পারে এবং তারা দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে পড়তে পারে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন ও ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/57611
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ