Printed on Wed May 05 2021 10:05:21 PM

আগুনের ঝুঁকিতে ঢাকার সব হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
আগুনের
আগুনের
দেশের হাসপাতালগুলোতে আগুন লাগার ঘটনা বেড়েছে। সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে হাসপাতালের অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খোদ স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে ঢাকার সব হাসপাতালই আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এর কারণ হিসেবে বিশষজ্ঞরা বলছে, হাসপাতলগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও নেই পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা। করোনার কারণে অধিকাংশ হাপাতালে আইসিইউ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সংযুক্ত করা হয়েছে হাই ফ্লো অক্সিজেন। এ কারণে সামান্য স্পার্ক থেকেও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

গত ১৭ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউতে আগুন লেগে চার জন রোগী মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেলে গত জানুয়ারিতেও আরেকবার আগুন লেগেছিল। সেবার পুরনো ভবনের আইসিইউতে আগুন লেগেছিল।

এর আগে গত বছর মে মাসে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসাপাতালে করোনা ইউনিটে আগুন লেগে পাঁচ জন মারা যান

ফায়ার সার্ভিসের হিসেব অনুযায়ী গত বছর (২০২০) সারাদেশে মোট আগুনের ঘটনা ঘটেছে ২১ হাজার ৭৩টি। এর মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আগুনের ঘটনা ঘটেছে ৯০ টি। আর ২০১৯ সালে সারাদেশে আগুনের ঘটনা ছিল ২৪ হাজার। তারমধ্যে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আগুনের ঘটনা ছিল ৭৭৮টি। কিন্তু করোনার সময় আইসিইউতে আগুন লাগার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. ফরিদ হোসেন জানান, ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে সর্বশেষ আগুনের ঘটনা সামান্য একটা স্পার্ক থেকে। আর তা থেকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, ‘আরও অনেকের প্রাণহানি হতে পারতো। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমত দ্রুত রোগীদের সরিয়ে নেয়ায় প্রাণহানি কম হয়েছে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই পরিচালক জানান, ‘করোনার সময়ে হাসপাতালের আইসিইউগুলোতে আগুনের ঝুঁকি বেড়েছে। এর প্রধান কারণ লোড বেড়ে যাওয়া। আইসিইউতে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা থাকায় সেখানে অক্সিজেনোর চাপ অনেক বেশি। তাই সামান্য একটি স্পার্ক হলেও আগুন ধরে যায়। ঢাকা মেডিকেলে তাই হয়েছে।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক দাবি করেন, ‘সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুনের পর সতর্ক করা হয়েছে। সব হাসপাতালের আইসিইউ পুরোপুরি ফায়ার প্রুফ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটা আমরা মনিটরিং করবো।’

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) লে. কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে অনেক বেশি ইলেকট্রিক এবং ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম থাকে। হাসপাতালে এখন অত্যাধুনিক এমআরআই মেশিন, এক্স-রে মেশিন আছে। কিন্তু হাসপাতাল ভবনগুলো অনেক পুরনো। আবার আইসিইউতে হাই অক্সিজেন ফ্লো থাকে। তাই পুরনো অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়।’

ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক ছালেহ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই তাদের নতুন করে নোটিশ দিই। আমাদের পরিদর্শন টিমও যায়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি হয় না।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালগুলোর ফায়ার সেফটি খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালেরই একই অবস্থা। অনেক হাসাপতালে ফায়ার সেফটি বলতেই কিছু নেই। কিন্তু প্রত্যেক হাসপাতালে ফায়ার সেফটি থাকা বাধ্যতামূলক।’

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/39176
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ