Printed on Wed Oct 20 2021 5:56:52 AM

আঙ্গুলের ছাপ না মেলা একটি রোগ, চিকিৎসায় মিলতে পারে সমাধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
আঙ্গুলের
আঙ্গুলের
ইমিগ্রেশন ডিলে ডিজিজ বা অভিবাসন বিলম্ব রোগ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে বলা হয় অ্যাডার্মাটো লাইফিয়া। বিচিত্র এই রোগটি আঙুলের ছাপ মুছে দেয়। ফলে আক্রান্তদের ব্যাংক, এয়ারপোর্টে, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোবাইল ফোনের সিম উত্তোলনসহ নানা কাজে পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শরীরের অন্যান্য সমস্যার কারণে অ্যাডার্মাটো লাইফিয়া হয়ে থাকে। এতে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুছে যায় আঙ্গুলের ছাপ। চিকিৎসায় এর সমাধান মিলতে পারে। তাই এ সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত একজন চর্মরোগ চিকিৎসককের স্মরণাপন্ন হতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক (বারডেম) হাসপাতালের ভাস্কুলার সার্জারি বিভাগের প্রধান ও লাইফস্টাইল মোডিফায়ার চিকিৎসক ডা. এসএম জি সাকলায়েন রাসেল জানান, অনেকের জন্মগতভাবেই রোগটি হয়ে থাকে। এছাড়া জন্মের পর অন্যান্য সমস্যা থেকেও এটি হয়। জন্মগতভাবে হলে এটি আর ভালো হয় না। বাকিদের চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হয়।

বিষয়টি নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আঙ্গুলের ছাপ মুছে গেলে নাগরিক সেবা পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এজন্য পাসপোর্ট, এনআইডিসহ সব কর্তৃপক্ষের উচিত হাতের আঙুলের বিকল্প কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করা। এতে করে সহজেই নাগরিক সেবা গ্রহণ ও প্রদান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ব্যাংকসহ ১৪০ ধরনের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া জাতীয় পরিচয়ত্রের (এনআইডি) সার্ভার থেকে তথ্য নিয়ে ব্যক্তিকে শনাক্ত করছে। ভোটার হওয়ার সময় নেওয়া আঙ্গুলের ছাপসহ ব্যক্তির দুই ডজনেরও বেশি তথ্য নিয়ে রাখে ইসি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন সময় শোনা যায়, বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে মিলছে না আঙ্গুলের ছাপ। কিন্তু ইসির সার্ভারে তাদের আঙ্গুলের ছাপ রয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আঙ্গুলের ছাপ ভোটার হওয়ার পরে যে কোনো সময় মুছে গেছে।

আঙ্গুলের ছাপ বয়স বাড়লে কিংবা ভারী কাজ করলেও অনেকের কিছু অংশ মুছে যায়। কিংবা অস্পষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রেও সেবা নিতে গেলে এনআইডি সার্ভারের সঙ্গে মেলে না। এটির সমাধানে প্রায় পাঁচ বছর আগে থেকে চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি নিতে শুরু করে ইসি। এর সাথে নেওয়া হয় হাতের ১০ আঙ্গুলের ছাপ।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুতে দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি আর তর্জনীর ছাপ নিতো নির্বাচন কমিশন। কিন্তু অনেকের আঙুলের ছাপ পাওয়া যেত না। পরে ১০ আঙ্গুলের ছাপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যাতে করে অন্তত একটি আঙ্গুলের ছাপ হলেও পাওয়া যায়। বর্তমানে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করে সেখানে একজন ব্যক্তির ১০টি আঙ্গুলের মধ্যে যে কোনো একটি আঙ্গুলের ৩৫ শতাংশ ছাপ পাওয়া গেলেও তা নেওয়া হয়। এরপরও কারও আঙুলের ছাপ পাওয়া না গেলে ভোটার ফরমে ‘আঙ্গুলের ছাপ নাই’ লিখে রাখা হয়। এ ধরনের ব্যক্তির ক্ষেত্রে কিংবা যার দু’টি হাতই নেই; তাদের পরিচয় শনাক্তের জন্য চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. নুরুজ্জামান তালুকদার। তিনি এ বিষয়ে বলেন, আঙ্গুলের ছাপ যাতে মেলানোর জন্য ১০ আঙ্গুলের ছাপ সংরক্ষণ করা হয়। ব্যক্তি চিহ্নতকরণে নিশ্চয়তার জন্য চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি নেওয়া হয়। সার্ভারে সেটা সরক্ষিত থাকে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আইরিশ চিহ্নিত করার যন্ত্র ব্যবহার করে, তাহলে আঙুলের ছাপ না মেলায় যে সমস্যা পড়তে হয় তা থেকে ভুক্তভোগীরা পরিত্রাণ পাবেন।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/50600
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ