Printed on Fri Feb 26 2021 1:16:39 AM

আদালতের আদেশে ফেলে যাওয়া সন্তানকে বুকে নিলেন মা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সারাদেশ
আদালতের আদেশে ফেলে যাওয়া সন্তানকে বুকে নিলেন মা
আদালতের আদেশে ফেলে যাওয়া সন্তানকে বুকে নিলেন মা
সন্তানের পিতার পরিচয় দিতে পারবে না, সমাজের মানুষ নানা কথা বলবে এসব ভেবে সদ্যজাত সন্তানকে ফেলে পালিয়ে যান মা। গত ১৯ দিন আগে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে ঘটে এমন নির্দয় ঘটনা। তবে অনুতপ্ত হয়ে ফেলে যাওয়া সেই সন্তানের কাছে ফিরেছেন সেই মা। তবে নিজের সন্তানকে ফিরে পতে যেতে হয়েছে আদালতে। ৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমানের আদেশে সন্তানকে ফিরে পান তিনি।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের হাড়দ্দহ গ্রামের নুরনাহার হীরা। তিন বছর আগে স্বামী নুরনাহারকে ছেড়ে ভারতে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন। বাবা আব্দুর রশীদ ভ্যান চালান দেবহাটা উপজেলার পূর্ব কুলিয়া এলাকায়।

অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে নুরনাহার হীরার গর্ভে জন্ম নেয় একটি ছেলে সন্তান। গত ২১ জানুয়ারি সকালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গ্যারেজের পাশে একটি কম্বলের মধ্যে জড়িয়ে সন্তানটিকে ফেলে যায় নুরজাহান। এরপর থেকে শিশুটি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি লিখিতভাবে সমাজসেবা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, বাচ্চাটিকে দত্তক নেওয়ার জন্য সাতক্ষীরা শিশু আদালতে আবেদন করেন মাসহ পাঁচ দম্পত্তি।

বাচ্চাটির মা নুরনাহার হীরা জানান, আমি ১০ মাস ১০ দিন পেটে রেখে নিজের সন্তানকে ফেলে গিয়েছিলাম, আমি অনুতপ্ত লজ্জিত। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। বাচ্ছাটিকে ফিরে পেতে আমি উকিলের কাছে গিয়েছিলাম। আদালতের বিচারক আমাকে আমার বাচ্ছা ফিরিয়ে দিয়েছে। সন্তান বাবার পরিচয় দিতে পারবে না, সমাজের মানুষ নানা কথা বলবে এটা ভেবে আমি সন্তানকে ফেলে গিয়েছিলাম। আমি আমার সন্তানকে মানুষ করবো।

আদালতে নিযুক্ত নুরনাহার হীরার আইনজীবী অ্যাড. শাহনয়াজ পারভীন মিলি জানান, বাচ্ছাটি ফেলে যাওয়ার পর মা হিরা অনুতপ্ত হন আবারও নিজের সন্তানকে কাছে পেতে চান। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাচ্চাটি দেয়নি যেহেতু ঘটনাটি তারা আগেই আদালতকে অবহিত করেছেন। এরপর বাচ্ছাটির মা নুরনাহার হীরা ও চার নিঃসন্তান দম্পত্তি বাচ্চাটিকে নিজের কাছে নিতে আবেদন করেন। আদালত যাচাই বাছাই করে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনায় বিচারক উল্লেখ করেছেন, মায়ের কাছে সন্তানকে প্রদান করাই সমীচীন এবং সর্বোত্তম বিকল্প।

আইনজীবী বলেন, নুরনাহার হীরার দাবি কুলিয়া এলাকার আনোয়ারুল ইসলাম এই সন্তানের বাবা। তার সঙ্গে হীরার সম্পর্ক রয়েছে। তবে আনোয়ারুল জানিয়েছেন, আমার সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও এই সন্তানের বাবা আমি নই। এ ব্যাপারটিও কিভাবে আইনগতভাবে সমাধান করার চেষ্টা করা হবে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. শামসুর রহমান, বাচ্চাটিকে আমরা নিজের মত করে দেখভাল করছি। আমি নিজেই তার পেছনে ১০ হাজার টাকা খরচ করেছি। তাছাড়া হাসপাতালের স্টাফ, নার্সরাও করেছেন। সকলেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বাচ্চাটিকে সুস্থ ও ভালো রাখতে। বাচ্চাটির অবস্থা এখন ভালো রয়েছে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আদালতের নির্দেশনায় বাচ্চাটিকে তার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই-খোদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/35287
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ