Printed on Wed Mar 03 2021 5:28:36 AM

শহীদ দিবস থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

তৌহিদুর রহমান
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
১৩৫৮ বঙ্গাব্দের ৮ ফাল্গুন বা বায়ান্নোর ২১শে ফেব্রুয়ারি। বাধা উপেক্ষা করে পিচঢালা রাজপথে তাজাপ্রাণ নেমেছিল রাষ্ট্রভাষার অধিকারের কথা জানাতে।

বুকের তাজা রক্ত দিতেও পিছপা হয়নি ছাত্রসমাজ। শত শোকের মাঝেও মাতৃভাষার অধিকার ফিরে পাওয়া এক গৌরবময় অর্জন। সেই গৌরব আজ বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশকে পরিচিত করে তুলেছে। আর ভাষার জন্য রক্তে রঞ্জিত শহীদদের স্মৃতি ধরেই বিশ্ব পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত দুটি ভূখণ্ড এবং দুটি ভিন্ন ভাষার জাতিসত্তাকে মিলিয়ে জন্ম হয়েছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের। জন্ম থেকেই মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে সূচনা হয় আন্দোলন। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ আন্দোলন শুরু হয় সীমিত পর্যায়ে। এর পর নভেম্বর-ডিসেম্বরে শুরু হয় ভাষা-বিক্ষোভ। যা ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে এসে চরম আকারে প্রকাশ ঘটে। সেদিন ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাষ্ট্রভাষার অধিকারের কথা জানাতে রাজপথে নেমে আসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

অধিকার আদায়ের সেই লড়াইয়ে ঘাতকদের গুলিতে রক্তে রঞ্জিত হয়েছিলো পিচঢালা রাজপথ। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে করা আন্দেলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিলো সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরসহ নাম না-জানা আরও অনেকে। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে রচনা করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি।

আরও পড়ুন : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম

এই হত্যাকাণ্ড মাতৃভাষার অধিকারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে দমিয়ে দেয়নি। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ঢাকাবাসী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে সমবেত হয়। নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসে। তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করে।

ভাষাশহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয় পাকিস্তান সরকার। একুশে ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়।

১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। আর বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি।

১৯৯৮ সালে কানাডায় বসবাস করা দুই বাঙালি রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালাম প্রাথমিক উদ্যোক্তা হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার আবেদন জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে। দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেত পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে দুজনের প্রচেষ্টা।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগ পর্যন্ত শুধু বাংলাদেশেই দিনটিকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হতো।

২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়। পরবর্তিতে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন হয়ে আসছে।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/36584
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ