Printed on Tue Sep 21 2021 8:56:37 AM

আফগানে ভারতের স্বপ্ন ভঙ্গ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বভিডিও সংবাদ
আফগানে
আফগানে
নতুন আধিপত্যবাদের স্বপ্ন নিয়ে ২০ বছর ধরে দিল্লি ও কাবুলের মধ্যে যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠছিল তা এক মুহূর্তেই উবে গেল।ইতোমধ্যে ভারতের ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ অনেকটাই ভেস্তে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ভারত সরকার জানিয়েছিল বর্ষা আসার ঠিক আগেই ২০ বছরের নীতিতে পরিবর্তন এনে আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে তালেবানদের সঙ্গেও আলোচনা করবে। কিন্তু নয়াদিল্লি চিন্তাও করতে পারেনি যে তাদের সেই শান্তি প্রক্রিয়ার এই হাল হবে। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি যে এত দ্রুত অবনতির দিকে যাবে তা কখনও কল্পনাও করতে পারেনি দেশটির ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্পের অংশীদার ভারত। আর এ কারণেই আঞ্চলিক কূটনীতিতে হতচকিত নয়াদিল্লি।

এই অবস্থায় ভারতকে এক প্রকার হুমকি দিয়েই তালেবান জানিয়ে দিয়েছে,যদি আফগানিস্তানে তাদের উপস্থিতির জানান দেয়া হয়,তাহলে ভালো হবে না। আফগানিস্তানে অন্যান্য দেশের সেনাদের কী অবস্থা হয়েছে,সেটা সবাই দেখেছে। তাতে বোঝাই যাচ্ছে যে আফগানিস্তানে স্বপ্ন ভঙ্গ হতে চলেছে দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি দেশ ভারতের।

সেতু নির্মাণ,অবকাঠামোর উন্নয়নে বাঁধ,রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে আফগান পার্লামেন্ট ভবন পর্যন্ত নির্মাণ করে দিয়েছে ভারত। হেরাত প্রদেশে ৪২ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। কাবুলে বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে ফুল-ই-খুমরি বিদ্যুৎ প্রকল্প ২০০ কেভি ডিসি ট্রান্সমিশন লাইন তৈরি হয়েছে। টেলি-যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিও করেছে ভারতীয়রা। ইরান সীমান্তের কাছাকাছি কান্দাহার, গজনি, কাবুল, মাজার-ই-শরিফ ও হেরাত শহরকে ছুঁয়ে ২১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রিং রোড নির্মাণ করে ভারতের বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন।

এত বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে কৌশলগত কারণে দেশটিতে নিজের প্রভাব বাড়িয়েছিল দিল্লি। পরিকাঠামো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাঁধ নির্মাণে অর্থ-সহায়তা দিতে শুরু করে ভারত। ২০২০ সালে নভেম্বরে জেনেভা শীর্ষ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, আফগানিস্তানের এমনও কোনও অংশ নেই যেখানে ভারত নেই। ৩৪টি প্রদেশে চলছে ৪০০-টিরও বেশি প্রকল্প।

ভারত সরকার আফগানিস্তানকে ২০০টি মিনিবাস, ৪০০ বাস, ১০৫ সরকারি গাড়ি, ২৮৫টি সেনার গাড়ি, পাঁচটি শহরে ১০টি অ্যাম্বুল্যান্স, তিনটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান উপহার হিসেবে দিয়েছিল। তৈরি করে দিয়েছিল জারাঞ্জ-দেলারাম সড়ক। এই সড়কটিই এখন আফগানিস্তানের মূল যোগাযোগের মাধ্যম। দক্ষিণের কান্দাহার, পশ্চিমের গজনী ও কাবুল, উত্তরের মাজার-ই-শরিফ ও পশ্চিমের হেরাতের মধ্যে এই রাস্তা যোগাযোগ তৈরি করেছে। যা তৈরি করেছেন ৩০০ ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার। কাজ চলাকালীন তাঁদের মধ্যে ১১ জনের মৃত্যুও হয়েছে। ২০ বছরের এই বন্ধুত্বে কি এ বার ইতি পড়বে?

আফগানিস্তানে বিনিয়োগ করে দেশটিতে নিজের প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ভারত দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি হতে চেয়েছিল। এদিকে ব্রিটেনের পক্ষ থেকেও ভারতকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তালেবান যদি ক্ষমতায় আসলে তাদের স্বীকৃতি দিতে কোনও সমস্যা নেই তাদের। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা তৎকালীন তালেবান সরকারকেও স্বীকৃতি দেয়নি ভারত।

ভয়েসটিভি/এমএস/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/51457
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ