Printed on Tue May 11 2021 6:33:20 AM

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি সহ্য করা হবে না: উপাচার্য

সোহাগ ফেরদৌস
শিক্ষাঙ্গনভিডিও সংবাদ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম। ভয়েস টেলিভিশনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন ভয়েস টেলিভিশনের প্রতিবেদক সোহাগ ফেরদৌস।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম উপাচার্য হিসেবে গত ২৯ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম। তিনি দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন।
উপাচার্যের দায়িত্ব নেয়ার আগে কখনও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেননি জানিয়ে নতুন এই উপাচার্য বলেন, প্রথম প্রবেশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-প্রকৃতি হৃদয় কেড়েছে। এটা একটি গ্রিন ক্যাম্পাস। শুধু তাই নয়, আমাদের কালচারে তো সাজানো গোছানোর অভাব আছে। আমাদের দেশে এমন একটি ক্যাম্পাস আছে, এটা ভেবে আমি খুশি। সকালে মনিং ওয়ার্কে বের হয়ে দেখেছি বক উড়ছে, শালিক ডাকছে, কবুতর বাকবাকুম করছে। এটাই প্রকৃতি, এতে আমার চিন্তার ষোলো কলা পূর্ণ হলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-ফাইলিং ব্যবস্থা চালু, পূর্ণাঙ্গ ই-লাইব্রেরি, সনদ ও রেজাল্ট যাচাই প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশনের বিষয়ে ড. শেখ আব্দুস সালাম বলেন, প্রথমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ডিজিটালাইজেশনের ঘোষণা দিলেন তখন অনেকেই হাসাহাসি করেছে। অ্যানালগ ছেড়ে ডিজিটালের পথে যেতে অনেকরই অনীহা ছিল। তবে এই করোনাকালে এসে টের পাওয়া গেছে ডিজিটালাইজেশনের বিষয়টা কতটা সত্য ছিল। এই বাংলাদেশ যতকুটু সচল আছে তাও এই ডিজিটাল ডিভাইসের কল্যাণেই। এই ডিজিটাল ভাবনার জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রীকে। এই ডিজিটাল সুবিধা এখন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং অফিসগুলোতে আনতে হবে। আমার উদ্যোগ অবশ্যই থাকবে। আমাদের লক্ষ্য থাকতে হবে ডিজিটালাইজেশনের।

করোনাকালে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যুক্ত রাখতে তাদের মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস সরবরাহের বিষয়ে নতুন উপাচার্য বলেন, এই ইচ্ছার সঙ্গে অর্থের দরকার। আমারও প্রবল ইচ্ছা শক্তি দরকার। করোনা কতদিন থাকবে তা বলা যায় না। এজন্য শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠনে যুক্ত রাখতে হবে অনলাইনে। নিতান্ত ডিজিটাল ডিভাইস না থাকার কারণে যদি কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশ নিতে না পারে তাহলে তাকে আর্থিক সাপোর্ট দিতে হবে। ডেফিনিটলি বিষয়টা আমাকে দেখতে হবে। দরকার হিলে শিক্ষা লোন দিতে হবে। সরকারকে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, জিরো পার্সেন্ট ইন্টারেস্টে শিক্ষা লোন চালুর। রাষ্ট্রকে আমরা বোঝাতে চেষ্টা করব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখায় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির প্রতি ভয় কিছু কর্মকর্তার ভয় থাকবেই। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। কাজেই এখানে অনেক প্রবীণ লোকজন আছেন। শুধু ই-ফাইলিং নয় আমি চাই একটি বোতাম টিপলেই যেন পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য একত্রে পাওয়া যায়। আামদের ট্রান্সপারেন্সি নিশ্চিত করতে ও অ্যাফিসেয়েন্সি বাড়াতে, আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে এগুলো দরকার। ডিজিটাল ডিভাইসে অভ্যস্ত করতে মোটিভিশন দরকার। প্রথমে গিয়েই আমি এটি করব।

গবেষণার বিষয়ে ড. আব্দুস সালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হলো জ্ঞান সৃজন, আহরণ ও বিতরণ। এখন এই সৃজনের জায়গায় হলো সমস্যা। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রায় একই ধরনের অভিযোগ। গবেষণার জায়গাগুলো শিক্ষকদের চিহ্নিত করা এবং গবেষণা করা উচিত। এ জন্যে শিক্ষকদের নিজেদের নিজেকে মোটিভেট করা উচিত। নতুন কিছু শিক্ষার্থীদের দেয়ার চেষ্টা থাকতে হবে। এই উদ্যোগটা তৈরি করতে হবে। একাডেমিক কমিটি বা শিক্ষকদের মিটিংগুলোতে এগুলো বলা হবে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন নিরসনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, শিক্ষকরা কেনো এতো বিভাজিত থাকবে। দুইটা-তিনটা একাধিক বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেনো লাগবে। আমাদের গণতান্ত্রিক, সাংস্কৃতিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে আমি অবশ্যই উদ্যোগ নিবো । তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে এগুলো না করার।

সুস্থ সাংস্কৃতি চর্চা নিয়ে বলেন, সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে আমরা আলোকিত হই। এর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় আমি কেমন বাংলাদেশ চাই। তাই সুযোগ দিতে হবে ছাত্রদের। সামাজিক দায়িত্ব পালনে নিস্বার্থভাবে ছাত্রদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

ছাত্রলীগ সম্পর্কে বলেন, করোনাকালে এবং আম্ফানের পরে ছাত্রলীগ যে কাজটা করেছে এতে কী চমৎকার একটা ইমেজ তৈরি হয়েছে। এটা আগে ছাত্র ইউনিয়ন করতো। ছাত্ররা যখন ধান কাটতে গেলো তখন খুব ভালো লাগলো মন থেকে, আমি আশায় বুক বাঁধলাম। এই জেনারেশন যদি এ ধরনের মানসিকতা ধরে রাখতে পারে তাহলে আর বাংলাদেশকে কেউ আটকে রাখতে পারবে না।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ড. আব্দুস সালাম তার স্বপ্নের কথায় বলেন, এখানে আধুনিক ৩৪টি বিষয় রয়েছে। অনেক ইতিবাচক বিষয় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি যে অবস্থানে রয়েছে সেখান থেকে আরও ওপরের দিকে নিয়ে যেতে হবে। সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্রদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এগিয়ে নেয়া আমার অঙ্গিকার। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করছি।

করোনাকালে শিক্ষার্থীদের অযথা সময় না কাটিয়ে বাড়িতেই বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এই উপাচার্য বলেন, পৃথিবী আজ স্তব্ধ। এ অবস্থায় ক্লাস পঠন-পাঠন থেকে দূরে থাকলেও শিক্ষা থেকে যেন দূরে না থাকে শিক্ষার্থীরা। শেখার তো বিভিন্ন উপায় আছে- প্রকৃতি থেকে, বই পড়ে, কারো সঙ্গে কথা বলেও শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেকোনো মাধ্যমেই হোক অটুট রাখার পরামর্শ দেন নতুন এই উপাচার্য। আর এখন যেহেতু পরীক্ষার চাপ নেই তাই বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আমার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক। এরপরেই পৃথিবীর সুস্থ হলে সবাইকে ক্লাসে ফিরিয়ে আনা হবে।

নতুন নিয়োগ পাওয়া এই উপাচার্য শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি কৃষকের সন্তান। সন্তানদের লেখাপড়া শেখাতে বাবার খুব আগ্রহ ছিল। ধান-সুপারি, নারকেল এমনকি জমি বিক্রি করে দিতেও দ্বিধা ছিল না তার। আমি গ্রামেই ছোটবেলায় লেখাপড়া করেছি। একদিন স্কুলের এক কাজে ফাঁকি দিতে গিয়ে একটা থাপ্পরও খেয়েছিলাম স্যারের হাতে।

শিক্ষা জীবন নিয়ে এই উপাচার্য বলেন, গ্রামের স্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করে, বিএল কলেজে ভর্তি হলেও উপজেলার একটি কলেজ থেকে আইএ পাশ করি। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে খুলনার বি এল কলেজে অর্থনীতিতে অনার্স করি। পরে ঢাকায় এসে মাস্টার্স করি। পরে চাকরি নেই স্পোর্টস কালচার অ্যান্ড রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্সের উন্নয়ন ও পরিকল্পনায়। ডাবল এম এ করার সুযোগ থাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হয়ে ভালো রেজাল্ট করি। পরে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করি। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় প্রথম পিএইচডি হোল্ডারও আমি। দেশে ফিরে বিএমইএইচ-এ ডিরেক্টর হিসেবে যোগদান করি। সেখানে তখন হাজার দশেক টাকা বেতন পেতাম। কিন্তু লক্ষ্যই ছিল শিক্ষকতার। তখন একজন লেকচারের বেতন ছিল ২৬ শ টাকা। তাই লক্ষ্য পূরণে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেই।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/26451
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ