Printed on Sun Sep 19 2021 11:12:49 PM

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিলাসবহুল বাড়ি!

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
সারাদেশ
কর্মকর্তার
কর্মকর্তার
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী জাহাঙ্গীর আলমের নির্মাণাধীন বিলাস বহুল বাড়ি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই উপজেলায় দীর্ঘদিন সরকারি চাকরি করার সুবাধে উপজেলার দানেজপুরের নিকটে গড়ে তুলছেন বিলাসবহুল বাড়ি। জায়গাসহ যার মূল্য প্রায় কোটি টাকার ওপরে। যা তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য নয় বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

এদিকে ভবনটি নির্মাণে স্থানীয় পৌরসভা থেকে যে নকশা অনুমোদন করা হয়েছে, সেই নকশাকে তোয়াক্কা না করে তিনি নিজের ইচ্ছেমতো আন্ডার গ্রাউন্ড গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রেখে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। নকশা বহির্ভূত বাড়ি নির্মাণ করার কারণে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজ প্রায় ৫ মাস বন্ধ রেখেছিল। কিছুদিন পরে পৌর-কর্তৃপক্ষের চোখকে ফাঁকি দিয়ে ফের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। শুধু তাই নয়, তিনি এখন পর্যন্ত পৈতৃক সূত্রে বাবার সম্পদ না পেলেও তার নিজ উপজেলা পলাশবাড়ীতে দেড় বিঘা জমি ক্রয় করেছেন বলে জানা গেছে।

তিনি পাঁচবিবি উপজেলায় ২০০২ সালে সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এরপর গাইবান্ধা জেলার বোনারপাড়া, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও খানসামা, বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলাসহ পটুয়াখালী জেলায় চাকরি করার পর পদোন্নতি পেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পাঁচবিবি উপজেলায় যোগদান করেন। এর পরেই তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

২০১৬ সালে হরিহরপুর গ্রামে প্রথমে আছিয়া বেগমের নিকট থেকে ৯ শতক এবং পরে আছিয়ার দুই মেয়ের নিকট থেকে ৪.৭৫ শতক মোট ১৩.৭৫ শতক জমি নিজের ও স্ত্রী লায়লা আরজুমানের নামে ক্রয় করেন।

পাঁচবিবি পৌরসভার সার্ভেয়ার সাহাদুল ইসলাম জানান, ২০১৯ সালে ৩৬৫নং স্মারকে শিক্ষা অফিসার তার স্ত্রী লায়লা আরজুমান বানু নামে পাঁচতালা ভবনের নকশার অনুমোদন করে নিয়েছেন। তবে তাতে আন্ডার গ্রাউন্ড এর কোন নকশা নেই।

সরেজমিনে বাড়িটির ছবি তুলতে গেলে উৎসুক এলাকাবাসী জানান, শিক্ষা অফিসার সবার সঙ্গেই টাকার গরম দেখিয়ে খারাপ ব্যবহার করেন এবং টাকা দিয়েই সকলকে কিনে নিতে চান।

তার বাবা মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রশিদ মাস্টার, বড় ভাই মোস্তাঈন বিল্লাহ্ দিপুন, ছোট বোন মারুফা আক্তার দীপ্তিসহ পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বললে জানা গেছে, বাবার পরিবার থেকে বাড়ি নির্মাণ বাবদ ৪ লাখ টাকা এবং নিজের ক্রয় করা জমি বন্ধক রাখা বাবদ দেড় লাখ টাকা পেয়েছেন।

এ বিষয়ে তার গ্রামের বাড়ির পাশের বালাইনাশক ডিলার শ্রী অনিল কুমার শীলসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিবারের আয় থেকে তাকে দেবার মতো তার বাবার কিছু নেই। এর পরেও কোটি টাকার বাড়ি নির্মাণের বিষয়টি তার এলাকার মানুষের কাছে রহস্যজনক।

এ বিষয়ে কুসুম্বা ইউনিয়নের জয়হার গ্রামে তার শ্বশুর বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে তার শ্বশুর ও পরিবারের লোকজন জানান, জাহাঙ্গীর শ্বশুর বাড়ি থেকে বাড়ি নির্মাণ বাবদ কোন অর্থনৈতিক সহায়তা নেননি। তবে লায়লা আরজুমান বানুর নামে যে জমি ক্রয় করা হয়েছে তাতে কিছু আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, বর্তমান শিক্ষা কর্মকর্তা টাকা ছাড়া কোন ফাইলে স্বাক্ষর করেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী জাহাঙ্গীর আলম জানান, ফাইল সাক্ষর করতে টাকা নেয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের বিষয়টিতে তিনি নিজের আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ দাবি করেন। এছাড়াও বাবা ও শ্বশুর বাড়ি থেকে বাড়ি করার জন্য টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেন। আর বাড়ির নির্মাণ কাজ নকশা বহির্ভুত যেটুকু হয়েছে তা তিনি গুদাম তৈরি করার জন্য করেছেন, খুব সমস্যা হলে বন্ধ করে দিবেন বলে জানান।

নকশা বহির্ভুতভাবে বাড়িটি নির্মাণ করার বিষয়ে পাঁচবিবি পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, অফিসকে ফাঁকি দিয়ে নকশা বহির্ভূতভাবে বাড়িটি নির্মাণ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/49706
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ