Printed on Sat Feb 27 2021 3:57:45 PM

যাযাবর জীবনে ‘উৎস’ দিল সুখের পরশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি
সারাদেশ
উৎস
উৎস
নদীর পাড়ের খালি জায়গায় টং জাতীয় ঘরে তাদের বসবাস। প্রতিনিয়ত জায়গা বদল করে তারা। যাযাবর জীবন এদের। এরা বেদে সম্প্রদায়। কবির কবিতায় উঠে এসেছে এদের জীবন প্রণালী, ‘মোরা এক ঘাটে রন্ধি বাড়ি আরেক ঘাটে খাই মোদের সুখের সীমা নাই।’

আগে এরা নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াত এক ঘাট থেকে আরেক ঘাটে। এখন নদীর সেই জৌলুস নেই। তাই নদীর তীরবর্তী জায়গাতেই বসবাস করেন তারা। ফরিদপুর শহরের অদূরে মুন্সীবাজার এলাকায় কুমার নদের পাড়ে বসবাস করছেন ২১টি বেদে পরিবার। এ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫৭। এর মধ্যে শিশু ২০ জন।

‘নতুন বছরের হাসি ফুটুক তাদের মুখে’-এ প্রত্যয় সামনে রেখে ফরিদপুরে তরুণদের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উৎস’ ২ জানুয়ারি শনিবার সারাদিন বেদে পল্লির ওই শিশুদের সকাল, দুপুর ও বিকেলের নাস্তা, নতুন জামা ও শীতবস্ত্র বিতরণের এক ব্যতিক্রমী আনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ আয়োজনে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র বেদে পল্লি। একটি ব্যতিক্রম দিনের আমেজ পায় বেদে শিশুরা।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে বেদে পল্লির এই মুখর পরিবেশ চোখে পড়ে। শিশুদের আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বড়রাও। সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশ।

শিশুদের জন্য খেলাধুলার আয়োজনের মধ্যে ছিল সাজগোজ, মারবেল দৌড়, বিস্কুট দৌড়, এক পায়ে দৌড়, বাদাম কুড়ানো, ঝুড়িতে বল ফেলা প্রভৃতি। পল্লির অন্য পুরুষ ও নারীরাও এ খেলার বাইরে ছিলেন না। তাদের জন্য ছিল বল বদল খেলা। এ খেলায় অংশ নেয় উৎস পরিবারের সদস্যরাও। তারাও বল বদল ও চেয়ার সেটিং খেলায় অংশ নেয়। প্রতিটি খেলায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়স্থান অধিকারীদের হাতে তুলে দেয়া হয় পুরস্কার।

এর আগে সকালে নাস্তার আগে শিশুদের হাতে তুলে দেয়া হয় নতুন পোশাক। দুপুরে পল্লির সকলের জন্য আয়োজন করা হয় খিচুড়ি ও মাংস এবং বিকেলে পরিবেশন করা হয় হালকা নাস্তা।

বেদে পল্লির যেসব শিশুরা নাচ ও গান করতে পারে বিকেলে তাদের নিয়ে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সবশেষে বেদে পরিবারের সদস্যদের হাতে শীতবস্ত্র হিসেবে তুলে দেয়া হয় কম্বল।

উৎস

ব্যতিক্রম দিনটি নিয়ে বেদে মাহমুদ ধনী মিয়া (৮৪) বলেন, ‘কলেজের পোলাপানরা আমাগো আর আমাগো ছেলে-মেয়ের ফুর্তির জন্য যে আয়োজন করেছে তা আমাদের নিয়ে এর আগে কেউ করেনি। বাচ্চাদের চোখ-মুখের খুশি দেখে মন ভইরা গেছে।’

বেদে সফিয়া বেগম (৫২) বলেন, ‘নাতিপুতিরা খেলাধুলা করছে। দেখে চোখ জুড়ায়। আমাদের আজ রান্না করতে মানা করেছে। পোলাপানরাই খাওয়াবে।’

রত্মা (৭) নামে এক বেদে শিশু জানায়, আজ কোনো কাজ নাই, শুধু খেলা আর খেলা। খুব ভালো লাগছে।

সাগর ইসলাম (১০) জানায়, আমি অনেকগুলা খেলা খেলছি। সারা বছর এরকম খেলতে পারলে ভালো লাগতো।

এই বেদে পল্লির সর্দার জমিরুল মন্ডল। তিনি বলেন, আমরা মানুষের ভালোবাসা পাই না। সবাই দূর দূর কইরা তাড়াই দেয়। আজ বুঝলাম এ সমাজে অনেক ভালো মানুষ আছে। যারা আমাদের কথাও ভাবে।

‘উৎস’ ফরিদপুরের সভাপতি দিদারুল ইসলাম সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের আনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, সমাজের যারা অবহেলিত, সমাজ যাদের যোগ্য মর্যাদা দেয়নি তাদের জন্য এ আয়োজন করতে পেরে ভালো লাগছে। বছরের একটি দিনের জন্য তো তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলাম। এটা ভেবেই ভালো লাগছে।

আরও পড়ুন: করোনায় দিশেহারা ভোলার বেদে সম্প্রদায়

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/30644
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ