Printed on Sat Feb 27 2021 7:46:26 PM

ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজ

কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ
শিক্ষাঙ্গনভিডিও সংবাদ
ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজ
ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজ
ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ। বাঙালি শিক্ষাবিদ এবং সমাজসংস্কারক আনন্দমোহন বসুর নামে নগরীর কলেজ রোডে ১২ একরের বেশি জায়গায় ১৯০৮ সালে যাত্রা শুরু করে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কলেজটিতে রয়েছে ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

‘জ্ঞানকে শক্তিতে রূপান্তরের রাজ্যে স্বাগতম’ কিংবা ‘জ্ঞানের জন্য আসো, সেবার জন্য যাও’। মূল ফটক থেকে শুরু করে এমন বাণী চোখে পড়বে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আনন্দ মোহন কলেজের প্রবেশপথে।

কলেজটিতে রয়েছে ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। জয়বাংলা শ্লোগানে মুখোরিত হয় কলেজ চত্বর। ফলে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রাঙ্গণসহ মূল ফটকের সামনেই ছাত্রলীগের ব্যানারে টাঙ্গানো হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন আবেগঘন ছবি।

কলেজটিতে প্রবেশ করলে ডান পাশে দেখা মিলবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আনন্দ মোহন বসুর স্মৃতিসম্বলিত ফলক। ফুলের বাগান দিয়ে ঘেরা ফলকটি যে কারো নজর কাড়বে।

আর বাম পাশেই রয়েছে শহীদ মিনার। পুষ্পস্তবক অর্পণ করে পতি বছর ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব বিভাগীয় শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার শুরুতেই রয়েছে অধ্যক্ষের কার্যালয়। বর্তমানে অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছে প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র ভৌমিক।

ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, লেখক সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, জাদুকর পিসি সরকার, বিশ্বভারতীর শিক্ষক অরবিন্দ পোদ্দার, লেখক যতীন সরকার, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শামসুর রহমান, বিচারপতি এম এ রশিদ, কবি নির্মলেন্দু গুণসহ আরও বহু গুনীজন।

১৮৮৩ সালে উপমহাদেশের সমাজ সংস্কারক আনন্দ মোহন বসু প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ ইনস্টিটিউশনটি নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯০৮ সালে যাত্রা শুরু করে আজকের আনন্দ মোহন কলেজ নামে। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৩ সালে সরকারিকরণ করা হয়।

বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক কোর্সসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় ৩৮০০০ শিক্ষার্থী বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ভূগোল ও পরিবেশ, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, রসায়ন, প্রাণীবদ্যা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিসহ ২১টি বিভাগের উপর পড়াশোনা করছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছে ২০৫ জন।

কলেজের ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে ৫০ হাজার বই সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। প্রবেশের শুরুতেই বইয়ের দৃশ্যে বড় ফলক আকৃতি তৈরি করা হয়েছে। এটিও আকর্ষণ করে শিক্ষার্থীদের। গ্রন্থাগারটিতে বসে পড়াশোনা করার পাশাপাশি কার্ডের মাধ্যমে যে কোনো বই বাসায় নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন শিক্ষার্থীরা।

প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পাশাপাশি রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর- বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন- বাঁধন। সেই সঙ্গে একটি কেন্টিন রয়েছে। এছাড়াও খেলাধুলা, সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চা, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ডাকনাম রয়েছে কলেজটির।

কলেজের সীমানাপ্রাচীরের ঘেঁষে নির্জন আর মনোমুগ্ধকর পরিবেশ নির্মাণ করা হয়েছে মসজিদ। ঠিক বিপরীতে গড়ে তোলা হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন হল, কবি জসিম উদ্দিন হল, ভাষাসৈনিক আহমেদ সালেক হল। হলগুলোর মাঝখানে সুন্দর ঘাটসম্ভলিত পুকুরটি সকলকে আকৃষ্ট করবে। পানির ঝলঝলানি আর কিনারায় ভেসে আসা মাছগুলো দেখলে যে কারো মন ভালো হয়ে যাবে। এছাড়া হলের শিক্ষার্থীরা পুকুরে গোসল করে এবং সাঁতার কেটে আনন্দ উপভোগ করে।

কলেজে প্রবেশ কিংবা ক্লাস শেষে মূল ফটক পাড় হলেই শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুক্তমঞ্চ। স্মৃতি ধরে রাখার জন্যই এটি নির্মাণ করা হয়েছে। মুক্তমঞ্চের পাশেই রয়েছে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রী হল, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম হলসহ কয়েকটি ছাত্রী হল।

হলের সামনে সুবিশাল সবুজ খেলার মাঠে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা খেলাধুলা করে থাকে। ক্রিকেট- ফুটবলসহ খেলার জমকালো আয়োজন করা হয় এই মাঠে। অভিভাবকদের জন্য রয়েছে বিশ্রামাগার। যুগ যুগ ধরে এখনো সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আনন্দ মোহন কলেজ।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/34854
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ