Printed on Sun Sep 19 2021 10:25:01 PM

কী ঘটেছে আফগানিস্তানের খুদে মেসির ভাগ্যে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
খেলার খবরভিডিও সংবাদ
কী ঘটেছে
কী ঘটেছে
আকাশি-সাদা ডোরাকাটা পলিথিন দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সি বানিয়ে তাতে মেসির নাম ও জার্সি নম্বর লিখে ফুটবল খেলে বেড়ানো সেই ছোট্ট আফগান বালকের কথা মনে আছে? মাত্র ৫ বছর বয়সেই যে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় কেড়ে হয়ে উঠেছিল ইন্টারনেটের হার্টথ্রুব। পরে ফুটবলের বিস্ময় খোদ লিওনেল মেসির চোখে পড়ে তার কাছ থেকেই উপহার পেয়েছিল এবং একসময় যে সাক্ষাৎ পেয়ে গিয়েছিল খুদে জাদুকরের। এমনকি যার নামই হয়ে গিয়েছিল ‘খুদে মেসি’।

বলছিলাম সেই আফগান শিশু মুর্তজা আহমাদির কথা। মুর্তজার বড় ভাই শখের বসেই ছোট ভাইয়ের ফুটবল খেলার ছবি ফেসবুকে আপলোড করেছিলেন। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও তিনি তের পাননি ছোট্ট শিশুটির জীবন তাতে কতটা বদলে যেতে পারে। পলিথিনের তৈরি মেসির নাম ও জার্সি নম্বর লেখা টি-শার্ট পরে তোলা ওই ছবি ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছিল। রাতারাতি তারকা বনে গিয়েছিল ছোট্ট মুর্তজা। তাকে বলা হতো ‘খুদে মেসি’।

ছবিটি এতটাই ভাইরাল হয়েছিল যে, মেসি ইউনিসেফের সঙ্গে যোগাযোগ করে উপহার পাঠিয়েছিলেন মুর্তজার জন্য। নিজের আইডল মেসির কাছ থেকে অটোগ্রাফসহ আর্জেন্টিনার জার্সি ও ফুটবল উপহার পেয়ে ৫ বছরের মুর্তজা যেন রীতিমত স্বপ্নের জগতে বাস করছিল। কিন্তু ঘটনার এখানেই শেষ নয়। মেসির কাছে যেতে এবং মেসির সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন গজনী রাজ্যের দক্ষিণের জেলা জগুরির ছোট্ট গ্রামের শিশু মুর্তজা।

২০১৬ সালের শেষদিকে বার্সেলোনা কাতারে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসলে সেখানে মুর্তজাকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। ম্যাচের মাসকটের ভূমিকায় থাকা শিশু মুর্তজা স্টেডিয়ামের টানেলেই মেসির দেখা পেয়ে যায়। এরপর সে স্বপ্নের খেলোয়াড়ের হাত এত শক্ত করে ধরে রাখে যে, ম্যাচ শুরুর আগে খোদ মেসিকেই বুঝিয়ে শুনিয়ে তাকে গ্যালারিতে থাকা তার বাবার কাছে পাঠাতে হয়।

ওই ঘটনার পর শিশুটির জীবন ‘দুর্বিষহ’ হয়ে উঠেছিল। অনেক স্বপ্ন নিয়েই মেসির কাছে যাওয়া মুর্তজার সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে বেশি সময় লাগেনি। মেসির কাছ থেকে উপহার পাওয়ার পর থেকেই তার জীবন ওলটপালট হয়ে যায়। তার নিজ দেশের অনেকে ভাবতে শুরু করে, সে ও তার পরিবার নিশ্চয় মেসির কাছ থেকে অনেক অর্থ সহায়তা পেয়েছে। এমনকি মুর্তজার পরিবারের সবাইকে অপহরণের হুমকি দেয় তালেবানরা। তালেবানের হুমকিতে মুর্তজা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় পরে তারা জগুরি থেকে পালিয়ে যায়।

মেসির দেওয়া উপহারের দুটি বক্স দেখে মুর্তজার বাবা মোহাম্মদ আহমাদি ভেবেছিলেন একটিতে হয়তো খেলনা এবং অপরটিতে রয়েছে ডলার। কিন্তু তাতে ছিল জার্সি এবং বল। উপহার দেখেই তালেবানরা ভেবেছিল সে হয়তো মেসির কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। কিন্তু তালেবান কিছুতেই মানতে রাজি ছিল না। ধারাবাহিক হুমকিতে মুর্তজার পরিবারকে পাকিস্তানে গিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করতে হয়। পাকিস্তানে অবস্থিত স্প্যানিশ দূতাবাস তাদের ভিসা দিতে চাইলেও বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে বৈঠকে ব্যর্থ হলে সেই চেষ্টা ভেস্তে যায়।

সাক্ষাতের পর মেসির কাছে মুর্তজা আবদার করেছিল, ফুটবলের এই বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ড তাকে নিজের সঙ্গে করে নিয়ে যান। কিন্তু দুজনের ভাষাগত ব্যবধানের কারণে হয়তো মেসি তা বুঝতে পারেননি।

মুর্তজার বাবা ভেবেছিলেন সিরিয়ান শরণার্থী শিশুর প্রতি রোনালদো যে দয়া দেখিয়েছিলেন, মেসিও হয়তো সেভাবে তার ছেলেকে অনেক অর্থ অনুদান দিয়ে কোথাও আশ্রয় পাইয়ে দেবেন। কিন্তু তা হয়নি। এতপর ছোট্ট মুর্তজার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। জীবন সংশয়ের কথা চিন্তা করে কাবুলে তার এক চাচার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। আফগানিস্তান তালেবানের দখলে যাওয়ার পর ‘খুদে মেসির’ ভাগ্যে কি ঘটেছে এখন পর্যন্ত সে সম্পর্কে কোনো জবাব পাওয়া যায় নি।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/52605
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ