Printed on Sat Sep 18 2021 2:31:27 AM

কুড়িগ্রামে তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
সারাদেশ
বিপর্যস্ত
বিপর্যস্ত
লকডাউন আর তীব্র দাবদাহে নাকাল কুড়িগ্রাম জেলার মানুষ। এই দুইয়ের কারণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। চলতি মাসে কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা গড়ে ৩৬ ডিগ্রির আশপাশে ওঠানামা করছে। আরও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার শংকা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জীব-বৈচিত্রের ওপরও।

জানা গেছে, বৃষ্টিপাতহীন শ্রাবণ মাসের প্রখর রোদ আর লকডাউনে অলসতায় কাটছে শ্রমজীবীদের দিন। দিনমজুর, শ্রমিক, রিকশা চালক, ঠেলা ও ভ্যান চালকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছে। রোজগার কমে যাওয়া চরম ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের মানুষ।

এদিকে প্রচণ্ড গরমে গ্রামাঞ্চল কিংবা শহরে শিশু, বয়স্কদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তাপের কারণে নানা বয়সিদের দেখা দিয়েছে চর্ম রোগও। অনেকেই জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। ফলে করোনার উপসর্গের সঙ্গে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তিনে করোনার উপসর্গের মিল থাকায় আতঙ্কিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তীব্র তাপের কারণে মাঠে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন কৃষি শ্রমিকরা।

এদিকে অসহ্য গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লো ভোল্টেজ আর লোড শেডিংয়ের যন্ত্রণা।

কুড়িগ্রাম পৌরসভার বাসিন্দা কাদের মিয়া বলেন, তীব্র গরমের কারণে জীবন অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। এরমধ্যে কয়েক দিন ধরে রাত-দিনে লোড শেডিং বেশি হওয়ায় শিশু, বয়স্কদের নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

রিকশা চালক টুংকু বলেন, প্রায় ২০বছর ধরে রিকশা চালাই। লকডাউনের কারণে ভাড়া কমে গেছে। এরমধ্যে দু-একটা ভাড়া জুটলেও রোদের তাপে শরীরে সয় না। দিনে আগে ৭/৮ শ টাকা আয় হলেও এখন আয় ১ রথকে দেড়শ টাকা।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ব্যাটারি চালিত অটো চালক সাইফুর রহমান বলেন, লকডাউনের কারণে অটো বের করতে পারি না। মাঝেমধ্যে বের হলেও পুলিশ ধরলেই অটোর সিট খুলে নিয়ে যায়। একটানা অটো বসিয়ে রাখলে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যায়। পল্লী বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের কারণে ঠিক মতো অটো চার্জ করাও যায় না। বাধ্য হয়েই লকডাউন উপেক্ষা করে পেটে আর অটোর ব্যাটারি যেন নষ্ট না হয় সেজন্য পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বের হতে হয়।

শ্রমিক সামছুল মিয়া বলেন, লকডাউনের কারণে রোজগার কমছে। পিঠের মধ্যে বস্তা উবানো যায় না। এতো গরম কখনও দেখি নাই।

ফুলবাড়ি উপজেলার ভাঙ্গামোড় এলাকার বুলবুলি হোসেন বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে শিশুদের সর্দি আর ডায়রিয়া বেশি হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক সুবল চন্দ্র বলেন, আগামী ৩০ জুলাই হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাপমাত্রার প্রকোপ কমে আসবে।

এছাড়াও তিনি আরও বলেন, গত ১৫ জুলাই থেকে কুড়িগ্রামে গড়ে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে।

সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, শ্রাবণ মাসের গরমে হৃদরোগ,সর্দি, কাশি এবং জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। তিনি পরামর্শ দেন তীব্র গরমের তরল খাবার এবং ছায়া যুক্ত স্থানে আশ্রয় নেবার। কেউ অসুস্থ হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ ননিতে বলেছেন তিনি।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/49615
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ