Printed on Tue Apr 13 2021 7:02:40 PM

কেন মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থানে গেলেন মোদী?

আনজাম খালেক
জাতীয়ভিডিও সংবাদ
মতুয়া সম্প্রদায়
মতুয়া সম্প্রদায়
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরের সময় গোপালগঞ্জ জেলার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি পরিদর্শন ও পূজার্চনা করেছেন। কাশিয়ানী থানার ওড়াকান্দি ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন এলাকাটি হিন্দুদের মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত।

মতুয়ারা হলো নিম্নবর্ণীয় হিন্দুদের একটি শাখা-সম্প্রদায়। যারা উনিশ শতকের ধর্মগুরু হরিচাঁদ ঠাকুর ও তার পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রবর্তিত মতবাদের অনুসারী। হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর দুজনেরই জন্মস্থান ওড়াকান্দি। আর সেই গ্রামের ঠাকুরবাড়ি বিশ্বময় ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মতুয়ার কাছে এক পবিত্র পুণ্যভূমি।

ভারতের কোনও প্রধানমন্ত্রী এর আগে কখনও বাংলাদেশ সফরে এসে ওড়াকান্দি যাননি। ফলে নরেন্দ্র মোদি সেখানে যাওয়ায়, মতুয়াদের কাছে তিনি ইতিবাচক একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।

গোটা পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রায় দেড় কোটি মতুয়ার বাস। রাজ্যের ৬৫ থেকে ৭০টি আসনে মতুয়া ভোট জয়-পরাজয়ের নিষ্পত্তি করে দেয় বলে ধারণা করা হয়।

নাগরিকত্ব আইন বাংলাদেশ থেকে পাড়ি দেয়া মাতুয়াদের ভারতের স্থায়ী নাগরিকত্ব দেবে বলে আশা জেগেছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখনও পূরণ হয়নি। মোদির ঠাকুরবাড়ি দর্শনে সেই আশা আরো শক্তভাবে জাগলো মাতুয়াদের।

গত লোকসভা নির্বাচনে মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ আসনে জয় পেয়েছিলো বিজেপি। তাদের প্রার্থী ছিলেন মতুয়া পরিবারের শান্তনু ঠাকুর। সেখানকার বিধায়ক তৃণমূলের মমতা ঠাকুরও মতুয়া পরিবারের সদস্য। সে কারণেই নরেন্দ্র মোদি হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে এসেছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

হরিচাঁদ ঠাকুর ১২১৮ বঙ্গাব্দে ইংরেজি ১৮১১ খ্রিস্টাব্দের ১১ মার্চ কাশিয়ানী উপজেলার সাফলীডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হরিচাঁদ ঠাকুরের বাল্য নাম হরি ঠাকুর। কিন্তু ভক্তরা তাকে হরিচাঁদ নামেই ডাকতেন। যশোবন্ত ঠাকুরের পাঁচ ছেলের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। পরে পার্শ্ববর্তী ওড়াকান্দি গ্রামে বসতি গড়ে তোলেন হরিচাঁদ ঠাকুর। সেখানে হরিচাঁদ ঠাকুর অলৌকিকত্ব ও লীলার জন্য প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠেন।

হরিচাঁদ ঠাকুর তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না। পাঠশালা অতিক্রম করে তিনি কয়েক মাস স্কুলে গিয়েছিলেন। পরে স্কুলের গণ্ডিবদ্ধ জীবন ভালো না লাগায় স্কুল ত্যাগ করে মিশে যান সাধারণ মানুষের সঙ্গে। প্রকৃতির আকর্ষণে তিনি রাখাল বালকদের সঙ্গে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন ভাবুক প্রকৃতির। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ক্রমেই বৃদ্ধি পায়। তার জীবদ্দশায় ওই এলাকার নিম্নবর্ণের হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। তখন নির্যাতিত হিন্দুদের পাশে দাঁড়িয়ে চৈতন্যদেবের প্রেম-ভক্তির কথা সহজ-সরলভাবে প্রচার শুরু করেন। তার এই সাধন পদ্ধতিকে বলা হয় মতুয়াবাদ। আর এই আদর্শে যারা বিশ্বাসী, তাদের বলা হয় মতুয়া।

মতুয়া শব্দের অর্থ মেতে থাকা বা মাতোয়ারা হওয়া। হরি নামে যিনি মেতে থাকেন বা মাতোয়ারা হন, তিনিই মতুয়া। মতান্তরে ধর্মে যার মত আছে, সেই মতুয়া।

১৮৭২ সালের ব্রিটিশ আদমশুমারিতে ৩৬টি বর্ণের উদ্ভব দেখানো হয়েছিল। তার আগে থেকেই সমাজে বর্ণপ্রথা প্রচলিত ছিল। তাই হরিচাঁদ ঠাকুর আদর্শ গার্হস্থ্য ধর্ম ও মতুয়াবাদ প্রচার করেছিলেন। এই মতুয়া মতবাদ প্রচার করতে গিয়ে তিনি নীল কুঠিরের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন।

সমাজে জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে লড়েছেন। জমিদারের লোকজন মতুয়া মতবাদ প্রচারে হরিচাঁদ ঠাকুরের অনুসারীদের বাধা দিয়ে বর্বর নির্যাতন করেছেন। হরিচাঁদ নিজেও অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি এটি প্রচার করে মতুয়াবাদ প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। আর মতুয়াবাদ প্রচারের মাধ্যমে তিনি নিম্নবর্ণের হিন্দুদের সংগঠিত করেন। তাদের বিপদ-আপদে সব সময় জাগ্রত থাকতেন। আর এভাবে নিম্নবর্ণের হিন্দুদের কাছে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

এভাবে হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামযশ দেশের সীমানা পেরিয়ে বর্হিবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। তৈরি হয় অগণিত অনুসারী। তখন থেকে তাদের ভক্ত ও অনুসারীরা ওড়াকান্দি এসে ঠাকুরকে মানত করতেন। প্রতি বছর হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্ম তিথিতে এখানে দেশ-বিদেশ থেকে লাখ লাখ মতুয়া এখানে আসেন। রোগমুক্তি ও মানত পূরণের জন্য স্নান করেন। এর মাধ্যমে ঠাকুরের সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করেন। এ সময় যার যার সাধ্যমতো ঠাকুরের নামে দানও করেন।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/40261
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ