Printed on Tue May 18 2021 1:38:42 AM

প্রসঙ্গ মামুনুল হকের নারী কেলেঙ্কারী

আব্দুল বারী
মুক্তমত
কেলেঙ্কারী
কেলেঙ্কারী
সত্য আর মিথ্যা ব্যাপক প্রচলিত দুটি বাংলা শব্দ। এই দুটি শব্দ যেমন একে অপরের পরিপূরক তেমনি বিপরীতও বটে। কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে শুরু হয় সত্য মিথ্যার লড়াই। যেমন হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হকের নারী কেলেঙ্কারী নিয়ে শুরু হয়েছে সত্য ও মিথ্যার লড়াই। তবে একথা সত্য যে, মিথ্যা খুবই শক্তিশালী একটি শব্দ। সত্য এই শব্দটির ঘোর শত্রু। সে মিথ্যাকে কোনো ভাবেই আরামে থাকতে দেয় না।

যেমন সত্য মিথ্যার এই লড়াই হেফাজতের মামুনুল হককে আরামে থাকতে দিচ্ছে না। আবার তাকে যারা নারীসহ ধরেছেন তারাও আছেন দৌড়ের ওপর। উভয় পক্ষ না হলেও কোনো কোনো পক্ষ যে, ঘটনাটিকে অনুকূলে রাখার জন্য মিথ্যা বয়ান দিচ্ছেন তা অনেকটাই দৃশ্যমান। আর সেই মিথ্যা বয়ানের আবরণকে টেনে আলগা করে দিচ্ছে সত্যের বিনা রশির দড়ি।
যে যত কথাই বলুক না কেন, হেফাজতে মামুনুল হকই যে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী নেতা এটা দিবালোকের মতো সত্য। মামুনুল হক ভারতের অত্যন্ত শক্তিশালী নেতা নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তার শক্তি দেখিয়ে দিয়েছেন। তার কাছে দৃশ্যত সব শক্তিই ফেল। বাংলাদেশে সুবিধা নিতে হলে বিএনপি আওয়ামী লীগ নয় হেফাজতকে তোষণ করতে হবে এটাও তিনি নরেন্দ্র মোদিকে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

শক্তির সঙ্গে নাকি মগজের রয়েছে আড়ি। শক্তি যার কাছে থাকে মগজ তার কাছে থাকতে চায় না। এই হেফাজত নেতার মাথায় কি আছে তা না বলাই শ্রেয়। মাত্র কয়েকদিন আগে তার দলের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে মারা গেছেন ২০ জন। করোনা মহামারীর নির্দেশনায় সারাদেশ। এমন একটি সময়ে তিনি একজন নারী নিয়ে রিসোর্টে বিনোদন করতে যান কিভাবে?

এখানেই শেষ নয়। রিসোর্টের সিসি ক্যামেরার সামনে দিয়ে ওই নারীকে নিয়ে গেছেন রিসোর্টে। রেজিস্টারে স্ত্রী হিসেবে বিনোদন সঙ্গিনীর নাম লিখেছেন। এরপর যখন স্থানীয়রা এসে চার্জ করেছেন তখন মাথায় টুপি রেখে আল্লার নামে কসম কেটেছেন। বলেছেন আমিনা তাইয়্যেবা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। অপর দিকে আমিনা বলেছেন তার নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা। এতেই প্রতীয়মান হয় যে ওই নারী তার স্ত্রী নয়। আবার সেই ফাঁদ থেকে ছাড়া পেয়ে মোবাইলে স্ত্রীকে বলেছেন ওই মহিলাটি তার বন্ধু জাফর শহিদুলের স্ত্রী। যদি তাই হয় তবে তিনি কি রিসোর্টে আল্লার নামে কসম কেটে মিথ্যা বয়ান দিয়েছেন? তার আমিনা নিজেকে জান্নাত আরা ঝর্ণা বলে পরিচয় দিয়েছেন। এখানেও দেখা দিয়েছে সত্য মিথ্যার সেই লড়াই।
সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে পরিবারের মুরুব্বীদের বসিয়ে রেখে দাবি করেছেন ওই মহিলা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এ ব্যাপারে মুরুব্বীরা ছিলেন নিরব। রাতে ঝর্ণাকে ফোন করে তার খোঁজ খবর নিতে গিয়ে নিজেই হয়ে গেছেন সত্যের স্বাক্ষী। ঝর্ণা বলেছেন কি করতে গেলাম আর কি হয়ে গেল।

আসলে তারা কি করতে রিসোর্টে গিয়েছিলেন তা হয়ে উঠলো আরও রহস্যময়। বিষয়টি এমন নয়তো যে ঝর্ণা স্বামী জাফর শহিদুলকে ফেরত পাওয়ার নিবেদন করতে গিয়ে হয়ে গেলেন মামুনুলের দ্বিতীয় স্ত্রী?

আবার রাতে হেফাজতের এক নেতা তার বন্ধু ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদকের কাছে ফোন করে জেনে নিলেন ঘটনাটি ছিল তাদের পাঁতা ফাঁদ। এই দাবি অমূলক নাও হতে পারে।
সে যাই হোক না কেন বিভিন্ন ভিডিও ও অডিও ইতোমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছে সত্যের গুড় আঁধারেও মিষ্টি।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/41008
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ