Printed on Sat Sep 18 2021 1:33:54 AM

কে এই মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার?

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
বিশ্বভিডিও সংবাদ
বারাদার
বারাদার
মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কাছে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ২০ বছর পর ফের আফগানিস্তানের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তালেবান। ইতোমধ্যেই দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এ অবস্থায় দেশটির পরবর্তী প্রেসিডেন্ট কে হবেন এ নিয়েই চলছে বিশ্বজুড়ে বিশ্লেষণ। এই আলোচনার মধ্যেই আফগানিস্তানে ফিরেছেন তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও রাজনৈতিক শাখার প্রধান মোল্লা আবদুল গনি বারাদার। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে আফগানিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন এই বারাদার।

হিবাতুল্লাহ আখুনজাদা তালেবানের আমির বা শীর্ষ নেতা হওয়া সত্বেও ন্যাটো জোটের বিরুদ্ধে তালেবানের যুদ্ধ জয়ের ঘোষণা আসে এই আবদুল গনি বারাদারের কাছ থেকে। বিভিন্ন সময় মিডিয়ার সামনে কথা বলায় তিনিই হয়ে উঠেছেন তালেবানের পরিচিত মুখ। তাই স্বভাবতই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা তিনিই হবেন আফগানিস্তানের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।

আলোনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কে এই মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার? কেমন হবে তার নেতৃত্ব এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

২০০১ সালে মার্কিন হামলার মুখে তালেবানের অন্য নেতাদের সঙ্গে দেশে ছেড়ে পাকিস্তানে পালিয়েছিলেন বারাদার। এরপর সন্ত্রাসের মামলায় ৮ বছর পাকিস্তানের কারাগারে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ২০ বছরের নির্বাসিত জীবন আর কারাবাসের পর মঙ্গলবার বিজয়ীর বেশে দেশে ফিরেছেন বারাদার।

মোল্লা বারাদারের জন্ম আফগানিস্তানের উরুযগান প্রদেশের উইটমাক নামের একটি গ্রামে। তবে তিনি বড় হন আফগানিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কান্দাহারে। সেখানেই একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন।

জাতিগত পশতুন বারাদার ১৯৭০ ও ৮০'র দশকে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্যদের তাড়াতে ১০ বছর যুদ্ধ করেন। এরপর আফগান গৃহযুদ্ধ চলার সময় মোল্লা মোহাম্মদ ওমরের নেতৃত্বে ১৯৯৪ সালে যে কয়েকজন পশতুন মুজাহিদীন তালেবান প্রতিষ্ঠা করেন, মোল্লা বারাদার ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম।

মোল্লা ওমরের ডান হাত ছিলেন তিনি। জানা যায়, তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্কও ছিল। মোল্লা ওমরের বোনকে বিয়ে করেন বারাদার। ১৯৯৬ সালে যখন তালেবান কাবুল দখল করে, তখন সেই সরকারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন মোল্লা বারাদার। ২০০১ সালে আমেরিকার হামলায় তালেবান ক্ষমতা হারানোর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরে উপমন্ত্রী।

আমেরিকানদের তাড়া খেয়ে অন্য অনেক তালেবান নেতার সাথে তিনিও পালিয়ে যান পাকিস্তানে। এরপর পাকিস্তান সেনা গোয়েন্দাদের আশ্রয়ের ভরসা থাকলেও আমেরিকানদের হাতে ধরা পড়া বা ড্রোন হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে তাকে। আমেরিকানরা যে কয়জন তালেবান এবং আল-কায়েদা নেতাকে ধরার তালিকা করেছিল, সেই তালিকায় মোল্লা বারাদারের নামও ছিল।

সন্ত্রাসের মামলায় ২০১০ সালে আইএসআই আর সিআইএ’র যৌথ অভিযানে তিনি পাকিস্তানের করাচি শহরে ধরা পড়েন। ৮ বছর জেল খেটে ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে তিনি মুক্তি পান।

তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা গনি বারাদার গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় তালেবানের যে দলটি রয়েছে তাদের অন্যতম সদস্য বারাদার।

আখুনজাদাকে ২০১৬ সালে তালেবানের আমির নিয়োগ দেয়া হলেও তার ভূমিকা এবং ভাবমূর্তি এখনও একজন মৃদুভাষী ধর্মীয় নেতার। ঈদ বা রোজার আগে বিবৃতি প্রকাশ ছাড়া তার কাছে থেকে তেমন কিছু শোনাও যায়নি এবং তালেবানের সামরিক বিষয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই কম।

তালেবান তাদের ইসলামী আমিরাত প্রতিষ্ঠা করলে আখুনজাদা হয়তো হবেন সেই আমিরাতের ‘সেরিমোনিয়াল চিফ (পোশাকি প্রধান)’। এটা কিছুটা ইরানের ধাঁচে সরকারের কাঠামো হতে পারে, যদিও ক্ষমতা থাকবে প্রেসিডেন্টের হাতে।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/51626
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ