Printed on Wed Jul 28 2021 6:09:42 PM

কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম

লাইফস্টাইল ডেস্ক
ভিডিও সংবাদলাইফস্টাইল
কোরবানির
কোরবানির
দেশের অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় একটি বড় খাত চামড়া শিল্প। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চামড়া রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে প্রায় ৫১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। সঠিক পদ্ধতিতে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। ক্ষতির সম্মুখীন হয় হাজারো ব্যবসায়ী।

সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানোর কৌশল এবং তা সংরক্ষণের নিয়ম না জানার কারনেই চামড়া নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। পশু কোরবানির পর প্রয়োজন সঠিক উপায়ে চামড়া সংরক্ষণ করা। নাহলে মূল্যবান চামড়া নষ্ট হয়ে যেতে পারে। জবাইয়ের পর থেকে চামড়া ছাড়ানো পর্যন্ত সচেতন থাকা সবচেয়ে জরুরি। না হলে চামড়ায় সৃষ্টি হতে পারে ক্ষত। চামড়া সংরক্ষণের জন্য কোরবানির আগ থেকেই সচেতন থাকাটা জরুরি।

জেনে নিন কীভাবে সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করবেন পশুর চামড়া-

• পশু কেনার পর যেখানে রাখবেন সেখানে খড় বা চট বিছিয়ে দিন যাতে কোনওভাবে পশুর শরীরে আঘাত না লাগে। কেনার সময়ও লক্ষ রাখা উচিত যাতে চামড়ায় কোনও ক্ষতচিহ্ন না থাকে।
• নাইলন বা প্লাস্টিকের দড়ি অথবা লোহার শিকল দিয়ে পশু বাঁধবেন না। এতে চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পশু বাঁধার জন্য পাটের দড়ি ব্যবহার করতে হবে।
• পশুকে এমন ভাবে টানা-হেঁচড়া করা যাবে না যাতে চামড়ায় আঘাত লাগে।
• চামড়া সহজে ছাড়ানোর জন্য জবাইয়ের আগে পশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়াতে হবে।
• কোরবানির দিন পশুকে ভুসি, খড় বা ঘাস খাওয়ানো ঠিক না।
• পশু কোরবানির জন্য সমতল জায়গা বেছে নিতে হবে। আঁকাবাঁকা কিংবা গর্তযুক্ত স্থানে কোরবানি দেয়া যাবে না।
• পশুর চামড়া ছাড়ানোর জন্য দক্ষ লোক বেছে নেয়া জরুরি।
• জবাইয়ের পর পশুকে শক্ত কোনও খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ঝুলিয়ে দিলে চামড়া ছাড়ানো সহজ হয়। খুঁটির সঙ্গে বেঁধে জবাইয়ের দাগ থেকে ধারালো ছুরি দিয়ে ধীরে ধীরে হালকা করে নিচের দিকে টেনে আলাদা করতে হবে চামড়া।
• চামড়া ছাড়ানোর পর লেগে থাকা রক্ত, চর্বি যত দ্রুত সম্ভব সরিয়ে ফেলতে হবে। না হলে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনে পচন ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চামড়ায়। পরিষ্কার পানি দিয়ে চামড়া ভালো করে ধুয়ে হালকা রোদে দিন পানি ঝরে যাওয়ার জন্য।
• চামড়া এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেয়ার সময় চামড়া টানা-হেঁচড়া করা যাবে না।
• চামড়া ছাড়ানোর তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে তা বিক্রি করা না গেলে দ্রুত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত।

এবার জানা যাক কোরবানি পরবর্তি চামড়া সংরক্ষণ পদ্ধতি:
গরুর চামড়া ছাড়ানোর সময় পানি ও ধারালো ছুরি ব্যবহার করতে হয়। ভোঁতা ছুরি ব্যবহার করলে চামড়া ছিঁড়ে যেতে পারে। চামড়া ছাড়ানোর পর অনেকেই তা যেনতেনভাবে মাটিতে ফেলে রাখেন। একটু সময় করে ভাঁজ করে রাখুন। পানি লাগানোর প্রয়োজন নেই। ছাগল বা গরুর মাথার চামড়াও মূল্যবান। এটি আলাদা করার সময় অবহেলা করা উচিত নয়।

চামড়া ছাড়ানোর পর সাত থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি করা না গেলে অবশ্যই তা সংরক্ষণ করতে হবে। গরমকালে দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে এবং শীতকালে চার থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। চামড়া সংরক্ষণের নানা পদ্ধতির মধ্যে আছে লবণ দিয়ে রোদে শুকানো এবং হিমাগারে সংরক্ষণ। তবে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি লবণ দিয়ে রোদে শুকানো।

চামড়ার ধরন বুঝে মাংসল স্থানে লবণ মাখিয়ে এর গুণাগুণ ঠিক রাখা সম্ভব। গরু বা মহিষের চামড়ার ক্ষেত্রে নাগরা সোল চামড়ায় তিন থেকে পাঁচ কেজি, ঢিলা চামড়ায় দুই থেকে চার কেজি এবং কুরুম চামড়ায় দেড় থেকে তিন কেজি লবণ লাগাতে হবে। ছাগল বা ভেড়ার চামড়ার ক্ষেত্রে স্টার চামড়ায় আধা কেজি, হেভি ও মেল চামড়ায় ২৫০ গ্রাম লবণ দিতে হবে। এভাবে লবণ মাখিয়ে চামড়াগুলো ভাঁজ করে একটির ওপর আরেকটি স্তূপাকারে রাখা হয়। লবণের পর্যাপ্ততা না থাকলে লবণ ও পানির মিশ্রণের সাহায্যেও চামড়াকে কিছুদিনের জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

চামড়া অনেকভাবে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়। যেমন- কোনো খোলা মাঠে বা খোলা মেঝেতে বিছিয়ে রেখে; কোনো খোলা স্থানে তারের সাহায্যে ঝুলিয়ে এবং কোনো খোলা মাঠ বা খোলা স্থানে বাঁশের তৈরি ফ্রেমের সঙ্গে বেঁধে চামড়া শুকানো যায়। তবে রোদে শুকানো চামড়ার কিছু কিছু অসুবিধাও রয়েছে। রোদে শুকালে চামড়ার গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ সবচেয়ে সহজ ও সুবিধাজনক উপায়।

চামড়া সংরক্ষণের জন্য বড় ট্যানারিগুলোয় একটা করে হিমাগার থাকে, যেখানে চামড়া সংরক্ষণ করা হয়। চামড়া সংরক্ষণের প্রধান কারণ হলো যেন পরবর্তী সময়ে সেগুলো বিক্রি করে বেশি টাকা আয় করা যায়। ব্যাকটেরিয়া অথবা অন্য কোনো কীটপতঙ্গের সংক্রমণের হাত থেকে চামড়া রক্ষা করার জন্য কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক রাসায়নিক পদার্থ লবণের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়।

ভারতীয় লবণে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম দ্রব্য মিশ্রিত থাকে। ফলে লবণের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে কাঁচা চামড়ায় ভারতীয় লবণ ব্যবহার না করাই শ্রেয়। দেশীয় লবণে এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য না থাকায় তা চামড়া সংরক্ষণের জন্য খুবই কার্যকর।

ভয়েস টিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/49088
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ