Printed on Mon Jul 26 2021 3:52:44 AM

লকডাউনে দুশ্চিন্তায় খামারীরা : চাহিদার চেয়েও ৯ লাখ বেশি উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
কোরবানির পশু
কোরবানির পশু
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশে চাহিদার চেয়ে ৯ লাখ বেশি কোরবানির পশু রয়েছে। এর ফলে দেশি পশুতেই কোরবানির চাহিদা মিটবে ঘাটতির শঙ্কা নেই।

তবে চলমান লকডাউন বাড়বে কি না, এ নিয়েই এখন বড় দুশ্চিন্তা খামারিদের।

দেশে সাত দিনের কঠোর লকডাউন চলছে। যদি এই লকডাউন বাড়ে তাহলে গত বছরের পরিস্থিতিরই পুনরাবৃত্তি হবে বলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। পশুর বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর লকডাউন না বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন খামারিরা।

তারা বলছেন, যদি লকডাউন বাড়ে, তাহলে হাটে আনা সব গরু বিক্রি হবে কি না তার নিশ্চয়তা নেই। ফলে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে চেয়ে আছেন খামারীরা।

এদিকে দুশ্চিন্তা রয়েছে ক্রেতার জন্যও। এবার গোখাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় গরুর দাম ৫ থেকে ১০ শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছেন খামার মালিকরা।

ক্রেতারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে এমনিতেই মানুষের আয় কমেছে, এর ওপর যদি গরুর দামও বাড়ে, তাহলে অনেকেই কোরবানি দিতে পারবেন না।

গত বছর করোনা বাড়তে থাকায় পশুর অস্থায়ী হাট বসবে কি না, এমন দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে ছিল সবাই। পরে শেষ মুহূর্তে হাট বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। কোরবানির পশু জবাইয়েও ছিল জটিলতা। এ ছাড়া ঢাকায় করোনার প্রভাব বেশি থাকায় অনেকে স্বাস্থ্যঝুঁকির চিন্তাও করেছিলেন। সব মিলিয়ে অনেক খামারি হাটে গরু আনেননি। অনেক ক্রেতাও গরু কিনতে যাননি।

তবে অস্থায়ী হাট শুরু হলে অনেকেই কোরবানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এতে শুরুতে যারা গরু-ছাগল বিক্রি করেছিলেন, তারা লোকসানের মুখে পড়েন। আবার ঈদের আগের দিন অর্থাৎ হাটের শেষ দিকে যাঁরা বিক্রি করেছিলেন তাঁরা লাভবান হয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন জানান, ‘যদি লকডাউন বাড়ে তাহলে পশু বিক্রি নিয়ে খামারিরা অনিশ্চয়তায় পড়বেন। আর যদি লকডাউন না বাড়ে তবে গত বছরের তুলনায় বাজার অনেক ভালো হবে। কারণ গত বছর যে সমস্যাগুলো ছিল এবার তার কোনোটাই নেই। ফলে পশু বিক্রি ভালো হবে বলে আমরা অনেক আশাবাদী।’

 

আরও পড়ুন : কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে দুঃচিন্তায় খামারিরা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে কোরবানির প্রস্তুতি কার্যক্রম নিয়ে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার ঈদুল আজহায় কোরবানির যোগ্য এক কোটি ১৯ লাখ পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার গরু-মহিষ, ৭৩ লাখ ৬৫ হাজার ছাগল ও ভেড়া এবং চার হাজার ৭৬৫টি উট-দুম্বা বিক্রির উপযুক্ত। গত বছর গরু-মহিষ প্রস্তুত করা হয়েছিল ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর দেশে ৯৫ লাখের মতো পশু কোরবানি হয়েছিল, যদিও প্রাক্কলন ছিল এক কোটি ১০ লাখ। বিপরীতে বাজারে আনার মতো পশুর সংখ্যা ছিল এক কোটি ১৮ লাখের কিছু বেশি। সরকারি হিসাব অনুসারে এ বছরও যদি দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা এক কোটি ১০ লাখ ধরা হয়, তার পরও ৯ লাখ পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘গত বছরের পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এবার আরো বেশি গবাদি পশু প্রস্তুত করার পাশাপাশি তা পরিবহনে বিশেষ ব্যবস্থাপনা তৈরি করছি। আশা করি এবার দেশের গরু দিয়ে চাহিদা মিটবে।’

 

ভয়েস টিভি/ডি
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48064
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ