Printed on Sat Jun 25 2022 8:39:17 AM

যেভাবে জনপ্রিয়তা পেলেন খল ও কৌতুক অভিনেতা কাবিলা

বিনোদন ডেস্ক
বিনোদনভিডিও সংবাদ
কৌতুক অভিনেতা কাবিলা
কৌতুক অভিনেতা কাবিলা
শুরুটা ভিলেন চরিত্র দিয়ে হলেও ধীরে ধীরে কৌতুক চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন তিনি। তার কণ্ঠে বরিশালের আঞ্চলিক ভাষা পায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা। পর্দায় তার চালচলন, পোশাক, অভিনয় দেখে দর্শক হাসিতে লুটিয়ে পড়তেন।

নির্মাতাদের কাছে তিনি হয়ে উঠেন অনিবার্য এক অভিনেতা। তিনি নজরুল ইসলাম শামীম, তবে বাংলা চলচ্চিত্র প্রেমীদের কাছে কাবিলা নামেই পরিচিত।

ফুটবলের মাঠ থেকে সিনেমার রূপালি দুনিয়ায় পা দেন তিনি। কাজী হায়াত পরিচালিত যন্ত্রণায় অভিনয় করেন খল চরিত্রে। এরপর শুরু হয় তার আধিপত্য। চার দশকের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন প্রায় সাতশ’ চলচ্চিত্রে।

কাবিলা বলেন, ভিলেন দিয়ে প্রথম যাত্রা। রাজীব ভাই ছিলেন প্রধান ভিলেন। তার সঙ্গে আরও তিনজন ভিলেন ছিলেন। তার মধ্যে আমি একজন। সে এক চমৎকার অনুভূতি।

প্রথম ছবি করার পর যখন আমি পরিচিতি পাই, তখন থেকে আর কোনো বাধা আসেনি।

কাজী হায়াতের যত বন্ধু-বান্ধব ছিল, যারা পরিচালক ছিলেন তারা একের পর এক তাদের ছবিতে নেওয়া শুরু করলেন। তারা বলেন- ছেলেটা তো ভালোই করছে। সেই থেকে যাত্রা।

কাবিলার জন্ম ১৯৫৫ সালে কুষ্টিয়াে নানা বাড়িতে। তার পৈতৃক নিবাস বরিশালের পিরোজপুর। কাবিলার একটি অন্যতম পরিচয় তিনি একজন জাতীয় বক্সার, খেলেছেন ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।

আরামবাগ স্পোর্টিং ক্লাবে ফুটবল খেলেছেন একটা সময়। ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি না পেলেও অভিনয়ে তিনি জাতীয় স্বীকৃতি লাভ করেন।

১৯৮৮ সালে শখের বশে ‘যন্ত্রণা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। প্রথম দিকে তিনি নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও পরবর্তীতে কমেডিয়ান হিসেবে আরও বেশী জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।

বরিশালের ভাষা তার মুখের সংলাপ বেশ জনপ্রিয়। এবং পরিচালকরাও তার মুখে বরিশালের ভাষাই রেখে দেন। তিনি ভিলেন থেকে কমেডিয়ান হন মূলত দিলদারের মৃত্যুর পর।

কমেডিয়ান হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করেন কাবিলা। এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, খল চরিত্রে আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি।

কমেডি চরিত্রে অভিনয় করে বাচসাস পুরস্কার পেয়েছি। তবে নিজেকে কমেডিয়ান হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি ভালো লাগে। এর পেছনে যুক্তিও আছে।

বাংলাদেশের মানুষ অনেকেই অভাবে আছেন এবং অশান্তিতে আছেন। আমাকে দেখলেই যখন মানুষ হাসে তখন ভালো লাগে। তাদের ভালোবাসা দেখে আমার চোখে পানি আসে।

আর খল চরিত্রের সঙ্গে ভয় বিষয়টি জড়িত। ভিলেন হিসেবে লোকে আমাকে পর্দায় দেখলে ভয় পায়। এটা আমার জন্যও ভীতিকর।

কাবিলা ‘অন্ধকার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কারনে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-অভিনেতা ক্যাটাগরীতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (ভালোবাসা আজকাল) ছায়াছবির জন্য ২০১৩ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন।

২০১৯ সালে কাবিলার কণ্ঠের সমস্যায় কথা বলা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তিনি সিনেমার রঙিন দুনিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।

তবে অপারেশনের পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। মাঝেমধ্যেই তার মৃত্যুর খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়। যা দেখে কষ্ট পান এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।

কাবিলা বলেন, অপারেশনের পর কথা বলতে পারছি; তবে খুব নিচু স্বরে। এ জন্য সিনেমায় ডাবিংও করছি না।

তবে মাঝেমধ্যে পত্রিকাগুলো আমাকে মেরে ফেলে। অনেক পত্রিকা আবার লিখেও দিয়েছে: ‘কাবিলার ক্যানসার’। এসব দেখে কষ্ট পাই।

এই সময়ের অভিনয় শিল্পীদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কাবিলা বলেন, অনেকেই অভিনয় করতে আসছে। তবে তারা চর্চা করছে না। তাদের লক্ষ্য খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়া।

ভালো অভিনয়-শিল্পী হতে হলে অভিনয়ের চর্চা করতে হবে। এই সময়ের শিল্পীদের মধ্যে অভিনয়ে মনোযোগ কম। তারা দ্রুত গাড়ি-বাড়ি বানাতে চায়।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/65611
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ