Printed on Wed Oct 20 2021 8:03:09 AM

ক্ষমা করব না, প্রতিশোধ নেব : বাইডেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের বিমানবন্দরে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৯০ জনই বেসামরিক আফগান নাগরিক ও ১৩ জন মার্কিন সেনা রয়েছেন।

কাবুলের হামলাকারীদের খুঁজে বের করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বৃহস্পতিবার কাবুলে জোড়া বিস্ফোরণের পর হোয়াইট থেকে দেওয়া এক ভাষণে এমন হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আফগানিস্তানে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর সহযোগী সংগঠন ইসলামিক স্টেট ইন খোরাসান প্রভিন্স (আইএসকেপি) এই হামলা চালিয়েছে।

স্থানীয় সময় ২৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার জো বাইডেন বলেছেন, যারা এই হামলা চালিয়েছে, সেই সঙ্গে যারা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি চায়, তারা এটা জেনে রাখ, আমরা ক্ষমা করবো না; আমরা ভুলে যাবো না। আমরা তোমাদের খুঁজে বের করবো এবং তোমাদেরকে এর মূল্য দিতে হবে। আমি আমার প্রতিটি পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করবো।

ভয়াবহ এই হামলা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন কাবুলে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাবে বলে জানান বাইডেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা আমাদের নিবৃত্ত করতে পারবে না। তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন বন্ধ করতে দেওয়া হবে না। আফগানিস্তান থেকে লোকজনকে উদ্ধারের মিশন অব্যাহত থাকবে।

ভয়াবহ এই হামলা সত্ত্বেও ওয়াশিংটন কাবুলে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাবে বলে জানান বাইডেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা আমাদের নিবৃত্ত করতে পারবে না। তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন বন্ধ করতে দেওয়া হবে না। আফগানিস্তান থেকে লোকজনকে উদ্ধারের মিশন অব্যাহত থাকবে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজ জানিয়েছে, বিস্ফোরণ ঘটেছে বিমানবন্দর লাগোয়া ব্যারন ক্যাম্পের ভেতরের জটলা থেকে। যারা আফগানিস্তান ছাড়তে চাইছেন, তারাই ব্যারন ক্যাম্পে জড়ো হয়েছিলেন। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, অন্তত দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর মধ্যে একটি ঘটেছে ব্যারন ক্যাম্পের পাশে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদফতর পেন্টাগনের তরফ থেকে জানানো হয়, বিস্ফোরণে ১৩ মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৮ সৈন্য।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তান তালেবানের শাসনে ছিল। এর মধ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদার নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগে ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট সেখানে যৌথ অভিযান চালায়, যার মাধ্যমে তালেবান শাসনের অবসান ঘটে।

অভিযানে আল-কায়েদার শীর্ষ নেতাদের দমন করা হলেও ‘শান্তিরক্ষার স্বার্থে’ সেখানে ঘাঁটি গেড়ে অবস্থান করছিল পশ্চিমা সেনারা। কিছু বছর পার হওয়ার পর সেখান থেকে ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্র বাদে অন্য দেশের সেনাদের ফিরিয়ে নেয়া হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সেনাদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করলে প্রত্যন্ত এলাকা দখল করে থাকা তালেবান কাবুলের ক্ষমতার মসনদে উঠতে জোর লড়াইয়ে নামে। যদিও এর মধ্যে তালেবানের সঙ্গে কাবুলের শাসকগোষ্ঠীর সংঘাতের অবসানে কাতারসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যস্থতায় নানা সময়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সব আলোচনাই ভেস্তে গেছে।

তালেবানের আগ্রাসনের মুখে গত ১৫ আগস্ট পশ্চিমাসমর্থিত সরকারের পতন ঘটে। তারপর থেকেই কাবুল চালাচ্ছে তালেবান।

যদিও তারা সবার জন্য ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করেছে, তবে তালেবান ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকে আফগানিস্তান ত্যাগের হিড়িক পড়ে গেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ কাবুলে বিশেষ প্লেন পাঠিয়ে তাদের নাগরিকদের ফেরত নিয়েছে। কেবল যুক্তরাষ্ট্রই ১৪ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষকে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিয়েছে। কাবুল বিমানবন্দরে এই কার্যক্রমই চলছে এখনো।

আরও পড়ুন : কাবুল বিমানবন্দরে বোমা হামলায় নিহত ১০০ ছাড়াল

ভয়েস টিভি/এএন
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/52399
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ