Printed on Mon May 17 2021 1:08:40 AM

‘কীভাবে মরবো করোনার ভয়ে না ক্ষুধার জ্বালায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
ক্ষুধার জ্বালায়
ক্ষুধার জ্বালায়
‘আমার পেটের ক্ষুধা আমাকে ঘর থেকে বের করে আর পুলিশ বাইর হয় লাঠি নিয়ে। আইজকা ১৫ তারিখ ভাড়ার জন্য চাপ দিতেছে বাড়িওয়ালা, কয়, হান্ডি-পাতিল নিয়া বাইর হন, এই সুখে আছি।’ বলছিলেন দূরপাল্লার পরিবহনচালক লিটন।

শনিবার রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে গিয়ে কথা হয়পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে। প্রত্যেকেরই একই অবস্থা। তারা বলছেন, করোনাকে ভয় পেয়ে মারা যাব না; অর্ধাহারেই মারা যাব।

মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে বসে অলস সময় কাটাচ্ছিলেন পরিবহনচালক লিটন। করুণ সুরেই তিনি বলেন, ‘আসলে পরিবহনের সঙ্গে আমরা যারা জড়িত তাদের সবাই গাড়ির চাকা ঘুরলে চলতে পারে। নাইলে না। একটা গাড়ি দিয়ে শুধু ড্রাইভার না, মহাজন চলে, মিস্ত্রি চলে, তাগো পরিবার চলে । না হইলেও ৩০ থেকে ৩৫ জন জড়িত। আমরা সবাই দিন আনি দিন খাই। একদিন আনলে খাইতে পারি। নাইলে না।’ গতবার লকডাউনে টার্মিনালের নেতাদের কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছেন বলে জানান এই চালক। প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা উপার্জন ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন ১৫ দিন ধইরা এক টাকাও রোজগার নাই। ধারদেনা করে চলতেছি। আর পাঁচ দিন যদি বন্ধ থাকে তাহলে আমাদের তো কেউ ধারদেনাও দিব না। আমি কাজই করতে পারতেছি না। কে আমাকে ধার দিবে। কীভাবে মরতে চাইতেছি করোনার ভয়ে না ক্ষুধার জ্বালা সেই হিসেব করছি।’

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। পকেটে টাকা নাই। বাসায় নাই চাল। কাজের ব্যস্ততা নাই। লকডাউনে দেশের সব গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অসহায় অলস সময় পার করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। দূরপাল্লা আর সিটি সার্ভিস সবারই এক দশা। গাড়ির চাকা ঘুরলেই ঘুরে তাদের জীবনের চাকা।

আরও পড়ুন : ‘করোনাভাইরাস থেকে ভয়ংকর হতে পারে ক্ষুধার মহামারি’

প্রতিদিনের উপার্জনের টাকা দিয়েই চলত পুরো সংসার। গত বছরও করোনা পরিবহন সংশ্লিষ্টদের জীবনে ভয়ানক অভিজ্ঞতা নিয়ে হাজির হয়েছিল। ধারদেনা করে কোনোমতে সে যন্ত্রণায় বেঁচে গেলেও এবারের সমস্যা আরও তীব্র। গতবারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার আবারও এই সংকটে।

করোনাভাইরাসের কঠোর সংক্রমণ ঠেকাতে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে গত ৫ থেকে ১১ এপ্রিল সাত দিন পর্যন্ত দেশজুড়ে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে ১৩ সিটি করপোরেশেন এলাকায় ৫০ শতাংশ সিট খালি রেখে বর্ধিত বাড়ায় বাস চালিয়েছে। ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন থাকায় বন্ধ সব গণপরিবহন।

রাজধানীর বসিলায় চায়ের দোকানে বসে আলাপ করছেন প্রজাপতি পরিবহনের চালক চান মিয়া মাহাবুব। নিজের গাড়ির পাশেই বসে রয়েছেন। চিন্তার ছাপ তার চোখেমুখে। নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সকালে বাইর হইছি। বাসায় চাউল নাই। চাউল লইয়া যাইতে কইছে। কেমনে যে নিমু এখনো জানি না।’

তিনি  বলেন, ‘কাজ করলে আমরা ভালো খাই। গাড়ি চললে ভালো খাইতে পারি। গাড়ি চালাইলে পয়সা আসে; বউ-বাচ্চা নিয়া ভালো একটা মাছ কিইনা নেতে পারি কাজ হইলে। যেদিন গাড়ি চালাইছি সেদিন কিছু টাকা বেতন পাইছি। মানুষ পাইতো তাগো দিছি। টাইমটা বাজছে, এমন টাইম ১০ তারিখ ঘর ভাড়া দিতে হয়। ১৩ তারিখ ঘর ভাড়া দিছি। এখন পকেটে এক টাকা নাই। লকডাউনে যে দেশের বাড়ি চলে যামু তার ওয়ে নাই, যাইতে হবে কাটা লাইনে চলে। তারপর একটা লোক যাইতে গেলে তিন হাজার টাকা লাগে। তা পামু কই?’

ভয়েস টিভি/ডি
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/42153
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ