Printed on Sun May 09 2021 7:26:04 AM

মাগুরায় গমের বাম্পার ফলন, দামে হতাশ চাষি

হেলাল হোসেন, মাগুরা
সারাদেশ
গমের
গমের
কৃষি ক্ষেত্রে মাগুরা জেলার সুনাম দেশ জুড়ে। এ বছর জেলায় ৪ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। তবে দাম কম থাকায় ক্ষতির আশঙ্কা করছে চাষিরা।

এবার মাগুরা জেলায় গমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো প্রতি হেক্টরে ৩.৫৬ মেট্রিক টন। গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর। মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন। সুতরাং উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো তা অর্জিত হয়নি। কৃষি বিভাগ বলছে কিছু এলাকায় গম কাটতে এখনো বাকি আছে আশা করি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

গত বছর মাগুরা জেলায় গম আবাদ হয় ৪ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো তার থেকে বেশি ফলন পেয়েছিল চাষিরা। হেক্টর প্রতি ৩.৩২ মেট্রিক টন হিসেবে মোট উৎপাদন হয়েছিল ১৫ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন। এদিকে গত বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে গমের আবাদ হলেও চাষিরা ন্যায্য দাম নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে।

এ বছর গত বারের তুলনায় বেশি জমিতে গমের আবাদ হলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। কারণ হিসেবে কৃষি বিভাগ বলছে অনেক কৃষক এখন ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছে। বিঘা প্রতি ভুট্টার ফলন ৪০ মন পর্যন্ত পাওয়া যায়। মন প্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। ফলন বেশি হওয়ার কারণে বেশির ভাগ কৃষক ভুট্টার আবাদ শুরু করছে।

মাগুরা সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের গমচাষি ইকলাস বিশ্বাস জানান, ‌‘বাপ দাদাদের দেখা দেহি আমরা গম চাষ করে আসছি। এতে এক থেকে দুইটা সেচ দিলিই হয়ে যায় এবং সারের পরিমাণও খুব কম লাগে, ফলনও ভালো পাওয়া যায়।’

গমে

বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের গমচাষি মোতাহের মোল্যা বলেন, ‘গম চাষ একেবারেই সহজ। গম বুনার পরে দুই একটা সেচ দেয়ার পরে গম বড় হয়ে যায়। এ চাষে লাভ বেশি খরচ কম।’

গম চাষি বাবলু বিশ্বাস বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন আমরা মাঠেই অটো মেশিন দিয়ে মাড়াই করে বাড়ি নিয়ে যাতি পারি। আমরা বাড়ি নিতে যে টাকা খরচ হত তা দিয়ে এখন মাঠেই মেশিন দিয়ে মাড়াই করি। শতক প্রতি আমরা গম মাড়াই করার জন্যই দিই ২৭ টাকা করে।

চাষিরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের কৃষি ব্যবস্থার অনেক উন্নয় হয়েছে। এখন আমরা খুব সহজেই মাঠ পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহার করে এর সুফল ভোগ করছি।

তারা আরও জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গমের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। উঁচু এবং বেলেযুক্ত মাটিতে সাধারণত গমের ফলন ভালো হয়। উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে রয়েছে কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রানী ও প্রতিভা রয়েছে। এর মধ্যে থেকে উচ্চফলনশীল জাত হলো সৌরভ (বারি গম-১৯) ও গৌরব (বারি গম -২০) নতুন ভাবে যুক্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সবজি, রবি শস্য ও বোরো ধানের চাষের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না গমের আবাদ। যার কারণে অনেক কৃষক গম চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, এ বছর মাগুরা জেলার চার উপজেলায় ৪ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে মাগুরা সদরে ১৫২০ হেক্টর, শ্রীপুর উপজেলায় ১৬৯০ হেক্টর, শালিখা উপজেলায় ১২০০ হেক্টর এবং মহম্মদপুর উপজেলায় ২৮৫ হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে।

কৃষিবিদ সুশান্ত কুমার প্রামাণিক জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার রোগ পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে। ফলে গমে এবার মাগুরা জেলায় বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে বারি গম-৩৩ এবার ভালো ফলন হয়েছে। বিঘায় প্রায় ১৬ মন পর্যন্ত হয়েছে। তাছাড়া আমাদের গমের রোগ নিয়ে যে ব্লাস্টটা ছিলো সেটা আমরা দূর করতে পেরেছি বারি গম-৩৩ আসার পরে। আমরা চাষিদের নানা ভাবে প্রশিক্ষণ ও কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার উদ্ভুদ্ধ করে যাচ্ছি। এবার জেলাতে ভালো ফলন হয়েছে। চাষিরা এখন একটু দাম কম পাচ্ছে। মন প্রতি তারা ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা দরে গম বিক্রি করতে পারছে। আশা করি ফলন ভালো হয়েছে যার কারণে তাদের এ দামেও ক্ষতি হবে না।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের আবহাওয়া গম চাষের অনুপযোগী : কৃষিমন্ত্রী

আরও পড়ুন: সোলার পাম্পে স্বপ্ন বুনছেন কুড়িগ্রামের কৃষকরা

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/43529
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ