Printed on Wed Oct 20 2021 7:18:10 AM

বিবস্ত্র করে নির্যাতন : আদালতে সাক্ষ্য দিলেন সেই গৃহবধূ

নোয়াখালী প্রতিনিধি
অপরাধ
গৃহবধূকে বিবস্ত্র নির্যাতন
গৃহবধূকে বিবস্ত্র নির্যাতন
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং সেই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিলেন সেই নারী।

১৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জয়নাল আবেদিনের আদালতে সাক্ষী দেন তিনি।

এসময় মামলার দুই আসামি দেলোয়ার হোসেন দেলু ও আবুল কালাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত।

পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ লাবলু নির্যাতিত সেই নারীর সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালতে উপস্থিত থাকা আসামিদের পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৩ আগস্ট পরবর্তী শুনানি করা হবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার আদালতে বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর আসামিদের ভিডিও ধারণ করতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন আসামিরা। পুলিশের উপস্থিতিতে তারা গণমাধ্যমর্কীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং মারধরের চেষ্টা করেন।

আদালত সূত্র জানায়, বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনায় ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর নির্যাতিতা ওই নারী বাদি হয়ে দেলোয়ার হোসেন ও আবুল কালমকে আসামি করে বেগমগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই’য়ে স্থানান্তর করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ লাবলু। বাদীপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন বাদল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০২০ সালে বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে স্থানীয় সন্ত্রাসী দেলোয়ার বাহিনী স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে প্রহার করে। সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন অভিযুক্তরা। আহত ওই নারী চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে জেলা সদরে তার বোনের বাসায় পালিয়ে যান।

সেখানে গিয়েও অভিযুক্তরা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। গৃহবধূ এতে রাজি না হওয়ায় আগের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশ প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে। তখন নারী নির্যাতন মামলার পাশাপাশি বেগমগঞ্জ থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ইসরাফিল, শামছুদ্দিনসহ সাতজনের নামে মামলা হয়। মামলার তদন্ত ভার পায় পিবিআই।

তদন্ত শেষে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইসরাফিল, শামছুদ্দিন ও এজাহারের বাইরের নুর হোসেন রাসেল ও জামাল উদ্দিন ওরফে প্রবাসী জামালের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করল পিবিআই। প্রমাণ না মেলায় এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে আদালতে আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ওই ভিডিও ফাঁসের পর গড়ে উঠা আন্দোলনে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করার দাবিটি প্রধান হয়ে উঠে। যে দাবি মেনে নেয় সরকার।

আরও পড়ুন : তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার মামলা আটকে আছে সাক্ষ্য গ্রহণে

ভয়েস টিভি/ এএন
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/51597
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ