Printed on Wed Jul 28 2021 4:59:57 PM

চাঁদপুরে মেঘনার তীরে গড়ে উঠছে দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বহু স্থাপনা

ইবনে আনোয়ার
সারাদেশ
চাঁদপুরে মেঘনার
চাঁদপুরে মেঘনার
চাঁদপুরের মেঘনা নদীর তীরে একে একে গড়ে উঠছে বিশাল বিশাল দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, নতুন নতুন স্থাপনা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, সরকারি বেসরকারি অসংখ্য ভবন ও প্রতিষ্ঠান। এর ফলে ক্রমাগতভাবে সুফল ভোগ করবে চাঁদপুরবাসী। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে হাজার হাজার মানুষের। বদলে যাবে এ অঞ্চলের জীবনযাত্রা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি এবং ডা. দীপু মনি এমপিসহ স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চাঁদপুর, হাইমচর ও মতলব উত্তরে স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, সংরক্ষণ ও নদী শাসনের কাজ প্রায় শেষ হওয়াই এর অন্যতম কারণ বলছেন বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসাবে চাঁদপুরে দুটি ‘মেগা প্রকল্প ইকোনমিক জোন গড়ে উঠছে। মেঘনা নদীর তীরে প্রায় ১২ হাজার একর জমি নিয়ে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠবে। এর একটি হবে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় অন্যটি হবে মতলব উত্তর উপজেলায়।

চাঁদুপরের হাইমচরে মেঘনা নদীর তীরে ৮ হাজার ১০২ একর জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে। বর্তমানে তিন হাজার আটশত ঊনচল্লিশ টাকা মূল্যের এই জমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) কে সরকার প্রতীকি মূল্যে অর্থাৎ দশ লক্ষ এক হাজার একশত এক টাকা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদনে প্রতীকীমূল্যে দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়।

চাঁদপুরের মতলব উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার একর জমিতে চাঁদপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলটি হবে সরকারি উদ্যোগে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্যে বিগত ২০১৮ সালে এক লাখ এক হাজার ১০১ টাকায় ভূমির প্রতীকী মূল্য নির্ধারণ করে তিন হাজার ৩৭ একর জমি সরকার রেজিস্ট্রি করে দেয় বেজাকে। মতলব উত্তরে নদীর তীরে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্যই প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। অথাৎ এই অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে পাওয়ার চায়না, নরওয়ের স্ক্যাটেক সোলার এএসএ, জুলস পাওয়ার এই প্রকল্পে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিযোগ করবে বলে সরকারের প্রস্তাব এবং বেজার সাথে সমঝোতা স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে স্ক্যাটেক ১০০ কোটি ডলার, জুলস পাওয়ার লিমিটেড ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে ১০০ মেগাওয়াটের সোলার প্ল্যান্ট নির্মাণ করবে জেপিএল-জুলস ।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার উদ্যোগ নেয় সরকার। সরকার আশা করছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল গুলো চালু হলে বাড়বে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও আয় বাড়বে। মানুষের জীবন যাত্রার উন্নত হবে ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গেল ১২ বছরে হাইমচরে নদীর তীর সংরক্ষণে স্থায়ী কাজ হয়েছে ১শ ৭৬ কোটি টাকার আর চাঁদপুর সদরের ইব্রাহিম, লক্ষীপুরে স্থায়ী সংরক্ষণ কাজ হয়েছে ১শ ৬৭ কোটি টাকার। এসব কাজের কারণে স্থায়ী ভাবে বন্ধ হয়েছে নদী ভাঙন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর জানান, নদীর তীর সংরক্ষণের কারণে বদলে গেছে মেঘনা তীরবর্তী অঞ্চলের জীবন যাত্রা। বেড়েছে জমির মূল্য। মানুষ এখন স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছে। নদীর কয়েকটি ডুবোচর শাসন করা গেলে আরও সুফল পাবে চাঁদপুরের মানুষ ।

হাইমচর উপজেলা চেয়ারম্যন নূর হোসেন পাটোয়ারী বলেন, চাঁদপুর-হাইমচরে মেঘনা তীরের মানুষের দুঃখ ছিলো নদী ভাঙন। সে দুঃখ এখন লাগবের পথে। বদলে যাচ্ছে এ অঞ্চল। অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ নানা প্রতিষ্ঠান স্থাপন হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।

ওয়ান ইলাভেন এর পর সংসদ নির্বাচনের সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী তৎকালীন আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. দীপু মনি এমপির দাবির প্রেক্ষিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দল ক্ষমতায় এলে চাঁদপুরের নদী ভাঙন প্রতিরোধে সকল কাজ করবেন। তিনি কথা রেখেছেন।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/47515
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ