Printed on Sun Sep 19 2021 11:00:58 PM

চার মাস পর খুললো পর্যটনকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
চার মাস পর খুললো পর্যটনকেন্দ্র
চার মাস পর খুললো পর্যটনকেন্দ্র
আজ ১৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে খুলছে দেশের সব পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র। করোনা সংক্রমণ রোধে প্রায় সাড়ে চার মাস বন্ধ ছিল এগুলো। দীর্ঘ বিরতীর পর সরকারি বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় পর্যটকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত হয়েছে কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কুয়াকাটা, সিলেটসহ সারাদেশের প্রায় সব বিনোদনকেন্দ্র।


এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধারণক্ষমতা বা আসন সংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করা যাবে না। তারপরও দীর্ঘসময় বন্ধ থাকার পর ফের খোলার ঘোষণায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।


অন্যদিকে, হোটেল-রিসোর্টের বাইরে খোলা জায়গায় পর্যটক নিয়ন্ত্রণকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এ খাতের অনেক ব্যবসায়ী। তারা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসন স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে পদক্ষেপ না নিতে পারলে ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।


তবে সরকারের এ ঘোষণার পর থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে পর্যটনখাতের ব্যবসায়ীরা। পরিচ্ছন্নতাসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনার জন্য করণীয় নির্ধারণ করতে ১৭ আগস্ট বৈঠক করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে- এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।


জানা গেছে, ১২ আগস্ট সরকারের তরফ থেকে পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়ার ঘোষণা এলেই খাগড়াছড়ির কয়েকটি পর্যটন সংশ্লিষ্টরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তখন থেকেই পর্যটনকেন্দ্র এবং হোটেল-মোটেলগুলো পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি শুরু করে। বৃহস্পতিবারের আগেই সবার প্রস্তুতি শেষ হয়।


এদিকে অনেক রিসোর্ট ইতোমধ্যে অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত, সিলেট, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পর্যটন স্থানে যেতে শুরু করেছেন পর্যটকরা।


কক্সবাজার সৈকতের পাশাপাশি হিমছড়ি, ইনানী, সাবরাং এক্সক্লুসিভ জোন, ন্যাচারপার্ক, বার্মিজ মার্কেট, ডুলহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ অন্যান্য স্পটগুলো প্রস্তুত হলেও বৈরী আবহাওয়ায় সেন্টমার্টিন যাওয়ার কোনো তোড়জোড় নেই।



ঢাকার আশেপাশে গাজীপুর ও মুন্সীগঞ্জের রিসোর্টগুলোতে ১৯ তারিখের আগেই অতিথি থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।



সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ট্যুরিজম রিসোর্ট ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ট্রিয়াব) সভাপতি খবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অতিথিরা রিসোর্টে আসবেন। তবে যে বিধি-নিষেধ দেওয়া হয়েছে তাতে ব্যয়ের তুলনায় আয় তেমন হবে না। রিসোর্ট চালু রাখলে অপারেশনাল খরচ হবে শতভাগ। কিন্তু অতিথি রাখা যাবে অর্ধেক। তাই লোকসান থেকেই যাবে।




বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, জীবিকার জন্য পর্যটন কেন্দ্র খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। এখানে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কোনও অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে পর্যটন বোর্ড একটি আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতিও তৈরি করেছে।


প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবাসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেছি। স্থানীয় প্রশাসন যাতে নিয়মিত মনিটর করে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


গত বছর করোনা সংক্রমণের গোড়ার দিকে ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা হলে বন্ধ হয়েছিল পর্যটন। এরপর সংক্রমণ কিছুটা কমে এলে গত বছরের ১৭ আগস্ট চালু হলেও চলতি বছরের ১ এপ্রিল আবার বন্ধ হয়ে যায় পর্যটনকেন্দ্র। দীর্ঘ সাড়ে চার মাস পর ফের সচল হচ্ছে আজ।




ভয়েস টিভি/এএন
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/51532
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ