Printed on Mon May 17 2021 7:12:14 PM

বিশ্বে এখনও যেসব রোগের বৈজ্ঞানিক কোনো চিকিৎসা নেই

সাজিয়া আক্তার, ভয়েস ডেস্ক
চিকিৎসাভিডিও সংবাদ
চিকিৎসা নেই
চিকিৎসা নেই
এগিয়ে চলছে বিজ্ঞান, এগিয়ে চলছে চিকিৎসাব্যবস্থাও। সর্বাধুনিক চিকিৎসার এই যুগেও এমন অনেক রোগ রয়েছে যাদের চিকিৎসা নেই বা নিরাময় পুরোপুরি বের করা যায়নি। এগুলো সবই মারাত্মক রোগ। আধুনিকতার শীর্ষে অবস্থান করলেও এখনও এমন অনেক রোগ আছে, যার চিকিৎসাও আবিস্কার হয় নি। এসব রোগের নিরাময় আজও সম্ভব হয়নি। আজো পৃথিবীতে এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে অনেক মানুষ।

ক্যান্সার বা কর্কটরোগ


চিকিৎসা নেই এমন আরেকটি রোগ হলো ক্যান্সার বা কর্কটরোগ। যা অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন সংক্রান্ত রোগসমূহের সমষ্টি। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পড়ে না, ফলে শেষ পর্যায়ে গিয়ে ভালো কোন চিকিৎসা দেয়াও সম্ভব হয় না। বাস্তবিক অর্থে এখনও পর্যন্ত ক্যান্সারের চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনও ওষুধ আবিষ্কৃত হয় নি। ক্যান্সার সারানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পরলে এই রোগ সারানোর সম্ভাবনা অনেকাংশ বেড়ে যায়। পৃথিবীতে ২০০ প্রকারেরও বেশি ক্যান্সার রয়েছে।

বিশ্বের সমস্ত প্রাণীর শরীর অসংখ্য ছোট ছোট কোষের মাধ্যমে তৈরি। এই কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর মারা যায়। এই পুরনো কোষগুলোর জায়গায় নতুন কোষ এসে জায়গা করে নেয়। সাধারনভাবে কোষগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে এবং নিয়মমতো বিভাজিত হয়ে নতুন কোষের জন্ম দেয়। সাধারনভাবে বলতে গেলে যখন এই কোষগুলো কোনও কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। একেই টিউমার বলে। এই টিউমার বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট হতে পারে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই ক্যান্সার বলে।

ক্যান্সার বা কর্কটরোগ

ঠিক কি কারণে ক্যান্সার হয় সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সাধারণ কিছু কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে। সাধারণত বয়স যত বাড়তে থাকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও তত বাড়তে থাকে, কারণ এ সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এক হিসেবে দেখা যায় যত মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় তাদের শতকরা ৭০ ভাগেরই বয়স ৬০ বছরের ওপর।

খাবার এবং জীবনযাপনের ধারার সাথে ক্যান্সারের গভীর সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে গবেষকরা। যেমন, ধুমপান বা মদ্যপানের সাথে ফুসফুস, মুখ ও কণ্ঠনালীর এবং যকৃৎ বা লিভারের ক্যান্সারের যোগাযোগ রয়েছে। তেমনই ভাবে পান-সুপারি, জর্দা, মাংস, অতিরিক্ত লবণ, চিনি ইত্যাদি খাবারের সাথেও ক্যান্সারের যোগসূত্র রয়েছে। যারা সাধারণত শারীরিক পরিশ্রম কম করে তাদের মধ্যেও ক্যান্সারের প্রবণতাটা বেশি।

আরও পড়ুন : শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় যেসব ফল

মানবদেহে যে সকল স্থানে ক্যান্সার ধরা পড়েছে তা হল প্রস্টেট গ্রন্থি, স্তন, জরায়ু, অগ্ন্যাশয়, রক্তের ক্যান্সার, চামড়ায় ক্যান্সার ইত্যাদি। একেক ক্যান্সারের জন্য একেক ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে। তবে সাধারণ কিছু লক্ষণ হচ্ছে, খুব ক্লান্ত বোধ করা, ক্ষুধা কমে যাওয়া, শরীরের যে কোনজায়গায় চাকা বা দলা দেখা দেয়া দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা গলা ভাঙা, মলত্যাগে পরিবর্তন আসা যেমন, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা মলের সাথে রক্ত যাওয়া, জ্বর, রাতে ঠান্ডা লাগা বা ঘেমে যাওয়া, অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমা, অস্বাভাবিক রক্তপাত হওয়া, ত্বকের পরিবর্তন দেখা যাওয়া, মানসিক অস্বস্তি ইত্যাদি।

যে জায়গাটি ক্যান্সার আক্রান্ত হয় সেটির ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলো এবং তার আশেপাশের কোষগুলোকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে সরিয়ে ফেলা হয়। ক্যান্সার যদি অল্প একটু জায়গা জুড়ে থাকে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে তাহলে এ ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়া ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি, কেমিওথেরাপি, হরমোন থেরাপিও দেয়া হয়।

আরও পড়ুন : ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হলে যেভাবে বুঝবেন

গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত কিছু ব্যাপার মেনে চললে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকখানি কমানো যায়। যেমন, প্রত্যেকদিন নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করা যেমন-দৌড়ানো, সাইকেল চালনো, নাচ করা, হাঁটা। ধূমপান বা মদ্যপান ছেড়ে দেয়া বা পরিমাণ কমিয়ে আনা। পান-সুপারি জর্দা, তামাকপাতা খাওয়া বন্ধ করা। চর্বিজাতীয় পদার্থ কম খাওয়া। সম্ভব হলে মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেয়া বা কমিয়ে দেয়া। প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, ফলমূল এবং আঁশজাতীয় খাবার খাওয়া।


এইডস


ইংরেজি এইডস শব্দের পূর্ণরূপ হল Acquired Immuno Deficiency Syndrome। যে ভাইরাস দ্বারা মানব দেহ আক্রান্ত হয় তার নাম HIV। এর পূর্ণরূপ হল human immunodeficiency virus। এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস যেটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয় এবং জীবাণু সংক্রমণের বিরুদ্ধে মানবদেহকে প্রতিরোধহীন করে নিরাময়হীন অবস্থায় নিয়ে যায়, যা এইডস নামে পরিচিত। একজন এইডস রোগী খুব সহজেই যে কোনও সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারেন, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটাতে পারে।



এইচ.আই.ভি. সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই সর্বদা এইডস হয়না। সংক্রমণের এক পর্যায়ে রোগীর অনিচ্ছাকৃতভাবে ও অত্যধিক পরিমাণে ওজন হ্রাস পায়। যেহেতু একবার সংক্রামক এইচ.আই.ভি. শরীরে ঢুকলে তাকে পুরোপুরি দূর করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি, তাই এইচ.আই.ভি. সংক্রমণ হলে এইডস প্রায় অনিবার্য।

২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে প্রায় ৩ কোটি ৬৭ লক্ষ লোক এইচআইভি দ্বারা আক্রান্ত ছিল। ঐ বছর এইডসের কারণে ১০ লক্ষ লোকের মৃত্যু হয়। বেশির ভাগ এইডস আক্রান্ত রোগীই সাহারা-নিম্ন আফ্রিকাতে বাস করে। ২০১৭ সালের জরিপ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে এইচ.আই.ভি. আক্রান্তের ৭০ শতাংশই সমকামী এবং উভকামী পুরুষ।

এইচ আই ভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগীই কোন লক্ষণ ছাড়া এই রোগ বহন করে। তবে কখনো কখনো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হবার ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ পরে কিছু অনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিতে পারে যেমন জ্বর, গলা ব্যাথা, মাথা ব্যথা, ফুলে ওঠা লসিকা গ্রন্থি ইত্যাদি। এইসব লক্ষণ কোনও রকম চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়, যার কারণে রোগী এ ভাইরাস সম্পর্কে অবগত হয়না। এইচ আই ভি ভাইরাস কোনরকম লক্ষণ ছাড়াই সর্বোচ্চ ১০ বছর মানুষের শরীরে নিরবে বাস করতে পারে।

আরও পড়ুন : এইডস নিয়ন্ত্রণে, ৩০ সালে ‘নির্মূল’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এইডস এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। ২০০৭ সালের গণনা অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৩ কোটি ৩২ লক্ষ মানুষ এইডস-এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে যাদের মধ্যে ৩ লক্ষ ৩০ হাজার ছিলো শিশু। এর তিন-চতুর্থাংশেরই মৃত্যু ঘটেছে আফ্রিকার সাহারা-নিম্ন ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর অঞ্চলে।

এইচ.আই.ভি. ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করলে, বা তার ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা সূঁচ ব্যবহার করলে দ্রুত এই রোগ ছড়ায়।এইচ.আই.ভি. ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের শিশুরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এইচ.আই.ভি. ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কারো সাথে অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলেও ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে।

এই রোগের লক্ষণগুলির মধ্যে দেখা যায় জ্বর, গলা প্রদাহ, ফুসকুড়ি, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি এবং মুখ এবং যৌনাঙ্গে ঘা ইত্যাদি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বমি বা ডায়রিয়াও হতে দেখা যায়।

বাংলাদেশে এইডস রোগীর সংখ্যা এখনও খুব বেশি নয়, মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশ। তবে নতুন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার বাড়ছে। এর চিকিৎসা নেই  ।

আরও পড়ুন : সিগারেটের সঙ্গে গরম চা, যে বিপদ ডেকে আনছেন

প্লেগ


চিকিৎসা নেই এমনটি  একটি প্রাচীনতম রোগ হলো প্লেগ। এটি একটি জীবনঘাতী রোগ যা Yersinia pestis নামক ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা সৃষ্ট। এই ব্যাকটেরিয়াটি ফ্রান্স-সুইস ব্যাকটেরিওলজিস্ট আলেকজেন্ডার ইরসিন কর্তৃক আবিস্কৃত। ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক এটি বিশ্বের ভয়ংকর প্রাণঘাতী তিনটি রোগের একটি হিসেবে চিহ্নিত ছিলো।

হঠাৎ জ্বর, অত্যন্ত অসুস্থ ও দূর্বলতা বোধ করা প্লেগ রোগের লক্ষণ হিসেবে চিন্হিত।এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ফলে রোগীর লিম্ফনোডগুলো ব্লক হয়ে ফুলে উঠে। এ ধরনের প্লেগকে বুবনিক প্লেগ বলে। বুবনিক প্লেগ দেহে ছড়িয়ে পড়লে পরবর্তীতে নিউমোনিয়া দেখা দেয়। একে নিউমোনিয়া প্লেগ বলে।

ত্রয়োদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় মহামারি আকার ধারণ করেছিল প্লেগ। একে তখন বলা হত ‘ব্ল্যাক ডেথ’। ১৩৪৭ সালের অক্টোবরে ইউরোপে পৌঁছে প্লেগ। কৃষ্ণ সাগরের ১২টি জাহাজ মেসিনার সিসিলিয়ান বন্দরে নোঙর করে। জাহাজের ডেকে জড়ো হয়ে মানুষ দেখতে পান এক ভয়াবহ অবস্থা। জাহাজের বেশিরভাগ নাবিক ছিলেন মৃত।

প্লেগ

যারা বেঁচেছিলেন তারাও মারাত্মকভাবে অসুস্থ। তাদের শরীর রক্ত ও পুঁজে ভরা কালো ফোঁড়ায় ঢাকা। এর পরের পাঁচ বছরে ‘ব্ল্যাক ডেথ’ ইউরোপের দুই কোটি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যা ইউরোপ মহাদেশের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। মূলত, ১৩৪০ এর শুরুর দিকে এই রোগটি চীন, ভারত, সিরিয়া ও মিশরে ছড়িয়ে পড়ে।‘ব্ল্যাক ডেথ’ মহামারি ১৩৫০ সালের শুরুর দিকে শেষ হয়।

প্লেগ মানুষ থেকে মানুষে, বাতাসের মাধ্যমে এবং সংক্রমিত মাছি ও ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক শতাব্দী পরপর এটি ফিরে আসত। আধুনিক স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকহারে কমেছে। তবে এটা এখনো একেবারে নির্মূল হয়নি।

আলঝেইমার্স ডিজিস


যে সব রোগের এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা বের হয় নি সেগুলোর মধ্য একটি আলঝেইমার্স ডিজিস। এটা ডেমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ অবস্থা। স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয় এ রোগে। চিন্তা-ভাবনা এবং কারণ বের করতেও পারেন না রোগীরা। সাধারণত বয়সস্কালে এ রোগ দেখা দেয়। তার মানে এই নয় যে ৬৫ বা তার বেশি বয়স হলে আলঝেইমার্স হওয়ার বেশি সম্ভাবনা থাকে। চল্লিশের কোঠাতেও এই রোগ দেখা দিতে পারে। আর এ রোগের কার্যকর নিরাময়ব্যবস্থা এখনো আবিষ্কার হয়নি।

আলঝেইমার্স ডিজিস

ডায়াবেটিস


ডায়াবেটিস গোটা বিশ্বে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দেহে ইনসুলিন হরমোন উৎপাদনের অভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। এটা বিপজ্জনক পর্যায়ে চলে যায় এবং ডায়াবেটিস দেখা দেয়। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, কম বয়সীদের টাইপ ১ ডায়াবেটিস দেখা দেয়। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে টাইপ ২ ডায়াবেটিস দেখা দেয়। এ রোগ হলে ইনসুলিন উৎপন্ন হয় না। ওষুধ ও জীবযাপনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু নিরাময় নেই।ডায়াবেটিস

পারকিনসন্স ডিজিস


পারকিনসন্স ডিজিস একটি প্রাণঘাতী রোগ। আমেরিকান ন্যাশনাল পারকিনসন্স ফাউন্ডেশন জানায়, মস্তিষ্কের ডোপামাইন উৎপাদনের প্রক্রিয়া, স্নায়বিক অংশের সঙ্গে জড়িত নিউরোট্রান্সমিটার, মোটোর স্কিল এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য কার্যপ্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, আচরণ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই যার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব।

পারকিনসন্স ডিজিস

মাল্টিপল স্কেলেরোসিস


সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই এমন আরেকটি রোগ মাল্টিপল স্কেলেরোসিস। এই রোগ ঘিরে অনেক রহস্য বিরাজ করে। যিনি আক্রান্ত হন, তার সমস্যা বুঝতেও অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। এ রোগের কারণে রোগ প্রতিরোধীব্যবস্থা দেহের স্নায়বিক অংশকে আক্রমণ করে। কোনো একটি কারণে এ রোগ হয় না। বরং রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা, জেনেটিক অবস্থা এবং পরিবেশ এর জন্য দায়ী থাকে। চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে, কিন্তু তা পুরোপুরি সারায় না।

মাল্টিপল স্কেলেরোসিস

পোলিও


ভ্যাক্সিন আবিস্কার হলেও চিকিৎসা বের হয় নি এমন একটি রোগ পোলিও। পৃথিবীতে এখনো এমন দেশ আছে যেখানে এ রোগের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। পোলিওভাইরাসের কারণে এ রোগের আবির্ভাব। এটি মানুষ সারাজীবনের জন্য বিকলাঙ্গ করে দেয় কিংবা মৃত্যু ঘটায়। এমনকি আমেরিকাতেও প্রতিবছর ১৫ হাজার মানুষ পোলিও-তে আক্রান্ত হয়। এ রোগ হলে আর সারানোর পথ নেই।

পোলিও

অ্যাজমা


চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এমন একটি রোগের নাম অ্যাজমা। কিন্তু নিরাময়ের কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেই। এর কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যাপক সমস্যা হয়। কাশি, বুকে আওয়াজ এবং শ্বাস নিতে বাতাসের অভাব বোধ হয়।

অ্যাজমা

সিজোফ্রেনিয়া


সিজোফ্রেনিয়া রোগের কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নয় বিজ্ঞান। আর এর কোনো নিরাময় পদ্ধতিও জানা নেই কারো। তবে চিকিৎসা নিতে হয়। একজন মানুষ কিভাবে চিন্তা করে, তার আচরণ এবং অনুভূতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে সিজোফ্রেনিয়া। এ রোগে আক্রান্তদের হেলুসিনেশন দেখা দিতে পারে। অনেকে তার আবেগ সামলাতে পারেন না। স্মৃতিশক্তিও হারিয়ে যায় অনেক সময়।

সিজোফ্রেনিয়া

করোনা


বিশ্বজুড়ে এক আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। করোনাভাইরাস স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিদেরকে আক্রান্ত করে। মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস শ্বাসনালীর সংক্রমণ ঘটায়। এই সংক্রমণের লক্ষণ মৃদু হতে পারে, অনেকসময় যা সাধারণ সর্দিকাশির ন্যায় মনে হয়। অন্যান্য প্রজাতিতে এই লক্ষণের তারতম্য দেখা যায়। যেমন মুরগির মধ্যে এটা উর্ধ্ব শ্বাসনালী সংক্রমণ ঘটায়, আবার গরু ও শূকরে এটি ডায়রিয়া সৃষ্টি করে।

চিকিৎসা নেই

মানবদেহে সৃষ্ট করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়ানোর মত কোনো টিকা বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ আজও আবিষ্কৃত হয়নি। তবে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে। করোনাভাইরাস” নামটির উৎপত্তি লাতিন শব্দ করোনা থেকে যার অর্থ “মুকুট” বা “হার”। নামটি ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে ভিরিয়নের বৈশিষ্ট্যমূলক উপস্থিতিকে নির্দেশ করে।২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের একটি প্রজাতির সংক্রামণ দেখা দেয়। বর্তমানে ৩ লাখের বেশী ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে এবং ১৬ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছে। এ রোগটির এখনও চিকিৎসা নেই ।

আরও পড়ুন : যেসব খাবার বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরী

ভয়েস টিভি/ডিএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/36939
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ