Printed on Wed Jul 28 2021 5:04:47 PM

চীনের ২ হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী আলোক উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বভিডিও সংবাদ
আলোক উৎসব
আলোক উৎসব
চীনের গুয়াংজু ইয়ুসিউইউ পার্কে যেন আলোর মেলা। চারদিকে শুধু রংবেরঙের আলোর খেলা। মুহূর্তেই যে কাউকে মোহাবিষ্ট করে ফেলে। আলোর সাজে ফুল, ফল, পাখি, বৃক্ষ, ড্রাগন যেন চীনের প্রাচীন সংস্কৃতিকেই ফুটিয়ে তুলতে প্রতিযোগিতা চলছে।

পার্কে বিভিন্ন বয়সী চীনারা ফানুস ওড়ান। এগুলোও সুন্দরভাবে সজ্জিত। তবে অধিকাংশই কাল্পনিক প্রাণী ও ফুলের ছবিতে অলংকৃত। এই ফানুসগুলো ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে প্রায় সব সময় লাল রঙের থাকে।

আলোক উৎসবের মাঝেই একদল তরুণী মোহনীয় সংগীতের তালে তালে হেঁটে বেড়ান। কেউ কেউ ধাঁধার মতো একধরনের খেলায় মেতে ওঠে। অনেকে সুন্দর সাজপোশাক পরে ড্রাগননৃত্যে অংশ নেয়।

চীনা আলোক উৎসবে ড্রাগননৃত্য অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য। এটি চীনের হান ডাইনেস্টির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রাচীন চীনের লোকজন ড্রাগনকে সাহসিকতা ও শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করত এবং বিশ্বাস করত, এটি মন্দ সবকিছুকে দূরে সরিয়ে মানুষ এবং তাদের গৃহপালিত পশুপাখিকে সুরক্ষা দিতে পারে। তাই মন্দ কিছু থেকে রক্ষা পেতে সৌভাগ্য ও সুরক্ষার জন্য প্রার্থনার অংশ হিসেবে চীনের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবসহ আলোক উৎসবেও ড্রাগননৃত্য পরিবেশন করা হয়।

ড্রাগননৃত্যের জন্য দুজন উচ্চ প্রশিক্ষিত ও দক্ষ অভিনয়কারী মূল ভূমিকা পালন করে। একজন মাথা এবং অন্যজন পা হিসেবে কাজ করে। কোরিওগ্রাফারের নির্দেশনায় ড্রাগন ড্রাম, গং ও সিম্বলগুলো বাজানোর জন্য নাচে। কখনো কখনো তারা লাফিয়ে, চক্রাকারে ঘুরে এবং সরু দণ্ড বা দড়িতে হাঁটার মতো কঠিন কাজ করে নৃত্য প্রদর্শন করে থাকে।

ঐতিহ্যবাহী ড্রাগননৃত্য চীনের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশে বেশ জনপ্রিয়। ইউরোপ ও আমেরিকায় বসবাসকৃত চীনা সম্প্রদায়গুলো প্রতি বসন্ত উৎসব, আলোক উৎসব এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান উদ্যাপনে ড্রাগননৃত্য আয়োজন করে থাকে।

আলোক উৎসবের আরেকটি অংশ ধাঁধা অনুমানের খেলা। চীনের সব সামাজিক স্তরের মধ্যে এটি আকর্ষণীয় এবং তথ্যবহুল হিসেবে ভীষণ জনপ্রিয়। আলোক উৎসবে এই ধাঁধার খেলা শুরু হয় সান রাজবংশের সময় থেকে। এখনো এটি আলোক উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় খেলা।

আলোক উৎসবের উৎস নিয়ে বিভিন্ন বিশ্বাস রয়েছে। ২০০০ বছর আগে সম্রাট মিংয়ের হান রাজবংশে এই প্রথার সূচনা হয়। বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসী সম্রাট মিং লক্ষ্য করেছিলেন যে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা প্রথম চান্দ্রমাসের পঞ্চদশ দিনে মন্দিরে লন্ঠন ও প্রদীপ জ্বালাতেন। এরপর তিনি সন্ধ্যায় সমস্ত পরিবার, মন্দির এবং রাজকীয় প্রাসাদকে আলোকিত করার জন্য লন্ঠন ও প্রদীপ জ্বালানোর নির্দেশ দেন। সেখান থেকেই এটি একটি লোকরীতিনীতিতে পরিণত হয়েছিল।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/47917
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ