Printed on Mon Jul 26 2021 4:07:59 AM

চুরি করতে দেখে ফেলায় খুন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
শিক্ষাঙ্গনসারাদেশ
শিক্ষার্থীকে
শিক্ষার্থীকে
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌহদিুল ইসলাম খানকে (২৫) হত্যায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গেল বছরের ১ মে সেহরির খাওয়ার সময় ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়ে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নগরীর জামতলা পোড়াবাড়ী এলাকার হারুন অর রশীদের ছেলে রিফাত (২৩) ও নগরীর আউটার স্টোডিয়াম এলাকার মৃত আ. রাজ্জাকের ছেলে মো. মহসিন মিয়া (২৫)।

নিহত তৌহিদুল নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার রামেশ্বরপুর গ্রামের সাইকুল ইসলামের ছেলে। সে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলো। পড়াশোনার সুবাদে ময়মনসিংহের শহরের গোহাইলকান্দি তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় সোলায়মানের বাসায় মেস ভাড়া নিয়ে থাকত।

১০ জুলাই শনিবার রাতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে ৯ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নগরীর জামতলা পোড়াবাড়ী এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে থেকে রিফাতকে ও আউটার স্টোডিয়াম এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মহসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ পরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, রিফাত, আশিক, মহসিন ও অন্তর নামে এই চারজন একসাথে চলাফেরা করত। গত বছরের ১ মে রাত তিনটার দিকে তারা সবাই মহসিনের বাসায় ইয়াবা সেবন করে। পরে তারা মোবাইল চুরির পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতো রিফাত, আশিক ও মহসিন তিনকোনা পুকুর পাড় এলাকার সোলায়মানের বাসায় যায়। বাসার নিচ তলার মেসের রুমে থাকত শিক্ষার্থী তৌহিদ। ওই তিনজন বাসার ছাদ টপকে তৌহিদের রুমে যায়। তখন তৌহিদ রোজার মাসে সেহরী খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং তৌহিদের স্মার্ট ফোনটি জানালার পাশে টেবিলের উপর রাখা ছিল।

তিনি বলেন, প্রথমে মহসিন জানালা দিয়ে মোবাইলটি নিতে গেলে তৌহিদ দেখে ফেলে। পরে তৌহিদ দরজা খুলে বাহিরে আসলে আশিক তৌহিদকে জাপটে ধরে এবং রিফাত হাত ধরে। তখন মহসিন লোহার রড দিয়ে তৌহিদের বুকে আঘাত মারে। আশিকও তৌহিদকে মেরে রক্তাক্ত জখম করে। তখন তৌহিদ চিৎকার শুরু করলে সবাই দ্রুত পালিয়ে মহসিনের বাসায় যায়। বাসার মালিক তৌহিদকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ভোর ৫ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ওইদিনই নিহতের বাবা সাইকুল ইসলাম কোতোয়ালি মডেল থানায় বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি অধিকতর তদন্তভার আসে পিবিআই ময়মনসিংহের কাছে। কিন্তু তারা গাঁ ডাকা দিয়েছিল।

এ বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ছিল। সামান্য একটি মোবাইল চুরি করতে যেয়ে শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে। এদেরকে ধরতে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়েছে। শুক্রবার তারা ময়মনসিংহে নিজের বাসায় আছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48691
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ