Printed on Sun Jan 17 2021 6:55:06 PM

তিন জন্মান্ধের পরিবারে মানবেতর জীবন

আবদুল আউয়াল জনি, চট্টগ্রাম
সারাদেশ
জন্মান্ধের
জন্মান্ধের
আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে, তারি তলে আসমানীরা থাকে বছর ভরে।

পল্লীকবি জসিম উদ্দিনের কবিতায় তুলে ধরা আসমানিদের দেখতে এখন রসুলপরে যেতে হয়না, এমন হাজারো আসমানী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে। এমনই দুই অন্ধ ভাই ও তাদের এক অন্ধ কন্যাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের বাড়ৈ পাড়ায়।

অন্ধরা হলেন, ওই গ্রামের মৃত দুর্গাচরণ দাশের দুই পুত্র ভোলা দাশ, শংকর দাশ ও ভোলা দাশের অন্ধ বড় মেয়ে শান্তা দাশ। অন্ধত্বের কারণে বিদ্যালয়ে আঙিনা মাড়াতে পারেনি তারা।

ভয়েস টেলিভিশনকে শান্তা দাশ জানায়, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা করার প্রচণ্ড ইচ্ছে ছিল তার তবে অন্ধত্বের অন্ধকারে নিমজ্জিত করতে হয়েছে তার ইচ্ছেগুলোকে।

তিনটি মানুষের অন্ধত্ব অমাবস্যার ঘোর অন্ধকারে ঢেকে দিয়েছে পরিবারের অন্য সদস্যদের। জন্মান্ধ ভোলা দাশের স্ত্রী মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে যে ১০০-১৫০ টাকা পান সেটা দিয়েই তাদের পুরো ১০ সদস্যের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হয়।

রোজগার করতে সক্ষম এমন কেউ না থাকায় টিনের চালা ও পলিথিনের বেড়ায় ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাঁচার ব্যার্থ চেষ্টা করে। তবে শীতে নির্ঘুম রাত কাটে তাদের।

স্থানীয় পলাশ দাশ ভয়েস টেলিভিশনকে বলেন, জন্মান্ধ ভোলা দাশ, শংকর দাশ ও তাদের মেয়ে শান্তা দাশের অন্ধত্বের কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। তাদের অসহায়ত্ব দেখে আমরাও মুষড়ে পড়ি। আমাদের গ্রামের মানুষ অতটা সচ্ছল না হলেও মাঝেমধ্যে ওদের সাহায্য সহযোগিতা করে। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে গৃহহীন পরিবার হিসেবে যদি ওদের একটি বাড়ির ব্যাবস্থা করলে মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলবে তাদের।

স্থানীয় সংগীত শিল্পী মৃদুল শীল বলেন, এখানে না এলে ওদের অসহায়ত্ব হয়ত অনেকে বুঝতে পারবেন না। ভাঙা ঘরে মানবেতর জীবনযাপনের পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ার কোনো ঠিক নেই। একবেলা খেতে পেলে আরেক বেলা উপোষ থাকতে হয় তাদের। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন ওদের একটি বাড়ির ব্যাবস্থা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবীব জিতু ভয়েস টেলিভিশনকে বলেন, আমি ওদের বিষয়টি জানতাম না। সরেজমিনে পরিদর্শন করে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওদের বাড়ির ব্যাবস্থা করব। পাশাপাশি তাদের ভিজিডি কার্ডের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

ভয়েস টিভি/এমএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/30351
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ