Printed on Sun May 16 2021 7:21:20 PM

হাসপাতালে করোনা বেডের জন্য হাহাকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
জন্য
জন্য
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায় চলছে। প্রতিনয়িতই সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড ভেঙে গড়ছে নতুন রেকর্ড। রাজধানীসহ সারাদেশে করোনা হাসপাতালগুলোতে করোনা বেডের জন্য চলছে হাহাকার । রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তাররা। মারাত্মক শয্যা সংকট তৈরি হওয়ায় যথাসময়ে চিকিৎসা না পেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অনেক রোগী মারা যাচ্ছেন বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

দেশের কোনো হাসপাতালেই এখন আইসিইউ শয্যা খালি নেই। সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী কবরী সারওয়ারও আইসিইউ পাননি। পরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তাকে শেখ রাসেল গ্যাস্টোলিভার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

ঢাকার বেশ কয়েকটি সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় শয্যা সংকট মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কর্নেল নাজমুল হক বলেন, ‘আমাদের প্রায় ৮০০ বেড করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন এর একটিও খালি নেই। প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। এর মধ্যে যে রোগীদের অক্সিজেন দরকার শুধু তাদেরই ভর্তি করা হচ্ছে। অন্যদের ভর্তি করার কোন সুযোগ নেই। ইসিইউ তো একেবারেই খালি নেই।’

সামনের দিনে পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেবেন জানতে চাইলে নাজমুল হক বলেন, ‘এখানে বেড বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই। বেড বাড়ানো হলে এখন যেসব রোগী আছে তাদের চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটবে। ফলে সুস্থ্য হয়ে কেউ গেলেই শুধু বেড খালি হচ্ছে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে একটি বেডও খালি হয়নি। ফলে নতুন রোগী ভর্তি করা যায়নি। তবে আমরা করোনা রোগীদের জন্য ১০০ বেড আর ১০টি আইসিইউ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে একটি বেড বা আইসিইউও খালি নেই।’

শুধু বেড বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে কীনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, এভাবে সম্ভব হবে না। আমরা তো বলছি, এখনই কঠোর লকডাউন দিয়ে মানুষের চলাচল সীমিত করতে হবে। পাশাপাশি কোনো পরিবারে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে আইসোলেশনে পাঠাতে হবে।’

একই পরিস্থিতি কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালেরও। এ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শিহাব উদ্দিন জানান, তার হাসপাতালে গত সপ্তাহের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৩০ শতাংশ। যত সময় যাচ্ছে, রোগী তত বাড়ছে। কোন রোগী ছাড় পাওয়ার পরপরই সেখানে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আইসিইউ পূর্ণ। এখন যারা ভর্তি হচ্ছে তাদের অধিকাংশেরই অক্সিজেন প্রয়োজন। ফলে সবাইকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিশ্বে করোনা রোগী শনাক্ত ১৩ কোটি ৬০ লাখ



এখনই হাসপাতালগুলো সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে, রোগী যেভাবে বাড়ছে তাতে সামনের দিনগুলোতে কিভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে? জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এখনই বেড পাচ্ছে না, ভবিষ্যতেও পাবে না। এখন তিনজন পাচ্ছে না, ভবিষ্যতে ১৩ জন পাবে না। এই তো? আমরা বারবার বলছি, ১৫ বা ২১ দিনের লকডাউন প্রয়োজন। মানুষের মুভমেন্ট সীমিত করতে হবে। কিন্তু সরকার সাতদিনের লকডাউন দিল, এখন বলছে, আরো সাতদিনের কঠোর লকডাউন দেয়া হবে। কঠোর লকডাউনটা অবার কী? সাতদিনে আপনি কিভাবে বুঝবেন পরিস্থিতি আপনার নিয়ন্ত্রণে এসেছে কী-না? ফলে এখন যা হচ্ছে, তাতে আমার মনে হচ্ছে না যে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে। সামনের দিনে আরো খারাপের দিকেই যাচ্ছে।’




একই কথা বলছিলেন আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বর্তমান উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, ‘আইসিইউ সেট-আপ করতে হয়ত সময় লাগে, কেননা এতে জনবল লাগে। কিন্তু হাই-ফ্লো অক্সিজেনের সাপ্লাইটা আমাদের বাড়াতে হবে। সেটার সক্ষমতা আমাদের আছে। দ্রুত এটা করতে হবে। অনেক রোগীকে শুধু অক্সিজেন দিয়েই সুস্থ করে তোলা সম্ভব।’

আরও পড়ুন: হাসপাতালে বেডের জন্য হাহাকার চলছে: কাদের

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/41500
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ