Printed on Mon Jul 26 2021 4:12:00 AM

জরুরি দুর্যোগে সহায়তায় নারী মৈত্রী-একশনএইড বাংলাদেশের যৌথ প্রচেষ্টা

ডেস্ক নিউজ
সারাদেশ
জরুরী দুর্যোগে
জরুরী দুর্যোগে
কোভিড-১৯ সারা বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে। ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশেও এর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। এই ভাইরাস বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় মানুষকে সংক্রমিত করছে। মৃতের সংখ্যা ১৫০০০ এর বেশি ছাপিয়ে গিয়েছে সংক্রমণের হারও বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ।

বর্তমানে ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের কারণে কোভিড সংক্রমণের হার উর্দ্ধগতিতে অবস্থান করছে প্রতিদিন ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৫০ এর বেশি রয়েছে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে লকডাউন এর যা কার্যকর হচ্ছে ১ জুলাই থেকে।

একশনএইড বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় নারী মৈত্রী এবং ইয়ুথ সদস্যদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গেন্ডারিয়া ৪৫ এবং ৫১ নং ওয়ার্ড সহ আশেপাশের কমিউনিটির সুবিধাবঞ্চিত জনগণের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে এখনও তেমন কোন এই দুর্যোগ মোকাবেলায় ত্রাণ সামগ্রী প্রদানের কোনো উদ্যোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে এই সকল জনগণ কর্মহীন অবস্থায় আছে যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পেশায় দিনমজুর, রিক্সাচালক, রাস্তার পাশে সবজি বিক্রেতা, ফেরীওয়ালা, মাছ বিক্রেতা, ভিক্ষুক এবং প্রতিবন্ধী। এছাড়াও রয়েছে একজন মায়ের উপর নির্ভরশীল একটি পরিবার যে মা অন্যের বাসায় কাজ করে তার পরিবারের ভরণ পোষণ করে থাকেন। সেই মাও এই সময় কর্মহীন অবস্থায় আছেন কারণ তাকে বাসার কাজ থেকে না বলে দেওয়া আছে।

আমাদের কমিউনিটিতে কথা বলে জানা যায় যে আসলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত তারা প্রায় ১ বছর যাবত। আগের মত আর তাদের কাজ নেই, কিন্তু পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘর ভাড়া দিয়ে তিনবেলা খাবার আর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা এখন অসহায় অবস্থায় আছে। এমন ১৩৩ জন পরিবারের তালিকা করা হয় যাদের মধ্যে প্রায় ৬০% ছিলের এমন মা যার উপর তার সংসার নির্ভর করে কিন্তু এখন তিনি কর্মহীন অবস্থায় আছেন। ১০% ছিলেন প্রতিবন্ধী এবং ৩০% পরিবারের অবস্থা ছিল যারা তিন বেলা খাবার যোগাড় করতে অক্ষম তাদের পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধরা খাদ্যভাবে কষ্ট করছে।

প্রচন্ড বৃষ্টিপাত এবং লক ডাউন সকল কিছু সামনে রেখে ইয়ুথ গ্রুপ এবং নারী মৈত্রীর দায়িত্বে এই সব উপকরণ নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে পৌঁছে দেয়ার কাজ চলছে গত এক সপ্তাহ যাবত। সব ধরণের সাস্থ্যবিধি মেনে এই কাজটি করার জন্য নারী মৈত্রী গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গন ব্যবহার করছেন। সম্পূর্ণ কাজের মনিটরিং এর জন্য ৪৫, ৪৬, ৪৭ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর জনাব সাথী আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

তিনি পণ্যের গুণগত মান এবং চেকলিষ্ট অনুযায়ী পণ্যের পরিমাণ যাচাই করেন। সেই সাথে ৪ সদস্যর ইয়ুথ সদস্য (সাগর, হামিম, আল আমিন এবং সোহান) মনিটরিং এর দায়িত্ব পালন করে। সকল কিছু পরীবিক্ষন হওয়ার পর তারা সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেয়। আনুমানিকভাবে এই উপহার সামগ্রীর সামগ্রীক ওজন ছিল প্রায় ৫০ কেজি যার বিস্তারিত বিবরণ নিন্মে দেয়া হলো।

প্রতিবন্ধী এবং খুব বয়স্ক যারা ছিলেন তাদের জন্য এতো উপহার সামগ্রী বহন করা ছিল সত্যি ভীষণ কষ্টের। আর এই কষ্ট লাঘব করার জন্য ১৬ জন ইয়ুথ নিরলসভাবে সারাদিন কাজ করে। তারা তাদের পন্য সমূহ রিক্সা বা ভ্যানে তুলে দিয়েছে। অনেক সময় এমনও হয়েছে যে যারা এই উপহার সামগ্রী নিতে এসেছিলেন তারা এগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য ভাড়ার টাকাটা সাথে আনতে পারেননি। সংস্থার পক্ষ থেকে তাদেরকে ভাড়ার টাকাও দিয়ে দেওয়া হয়। অনেক সময় দেখা গিয়েছে যে ইয়ুথরা নিজেরাই ভ্যানে উপহার সামগ্রী তুলে তারা বৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধীদের বাড়ী পৌছে দিয়েছে।

বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী গোলাপী বলে, তার ঘরে অভাব সারা বছরই থাকে কিন্তু তবুও সে কারো কাছে হাত পাতে না কষ্ট করে সে বেচে আছে। সে বলে যে এই সব উপহার তার প্রায় দেড় মাস সংসারের খাবারের প্রয়োজন মেটাবে।

সুমনার মা বলে যে আমার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী আমি নিজেই, অন্যের বাসাবাড়ীতে কাজ করে সংসার চালাই। এই সময় আমি আর পারছিলাম না সংসারের সবার মুখে খাবার তুলে দিতে। এই্ খাবার আমাদের সংসারে এক মাসের অভাব ঘুচাবে।

কাউন্সিলল সাথী আক্তার বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত নারী মৈত্রীর সাথে কাজ করছি এবং দেখছি। নারী মৈত্রীর সব ধরণের কাজ আমাকে মুগ্ধ করে এবং অনুপ্রাণিত করে। এবছর সরকারি এবং বেসরকারিভাবে ত্রাণ নিয়ে তেমন কোন কাজ নেই বললেই চলে। এই দুঃসময়ে একশনএইড এবং নারী মৈত্রীর এই চমৎকার মানবিক কাজকে আমি সাধুবাদ জানাই।
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48731
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ