Printed on Sun Jun 26 2022 8:19:54 PM

টোংগায় সুনামি: স্বজনদের খবর পেতে উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষায় প্রবাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব
টোংগায় সুনামি
টোংগায় সুনামি
প্রশান্ত মহাসাগরে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট সুনামিতে ভেসে যাওয়া টোংগার সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ এখন প্রায় বিচ্ছিন্ন; প্রবাসীরা তাদের প্রিয়জনদের খবরের জন্য অপেক্ষায় আছেন উদ্বেগ নিয়ে।
ওশেনিয়া অঞ্চলের দ্বীপ দেশটির রাজধানী নুকু’আলোফা থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে মহাসাগরের তলদেশে শনিবার অগ্ন্যুৎপাত এবং এর প্রভাবে সুনামি হয়। সুনামিতে এক মিটারের বেশি উঁচু জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয় এবং টোংগায় আঘাত হানে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি, কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। ফলে ধ্বংসযজ্ঞের পুরো চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

একজন ব্রিটিশ নারীর ভাই বিবিসিকে বলেছেন, ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে তার বোন অ্যানজেলা গ্লোভারের (৫০) মৃত্যু হয়েছে। তিনি নিজের কুকুরগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, ঢেউ তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

সুনামি উৎপত্তিস্থল থেকে ১০ হাজার কিলোমিটার দূরে পেরুর উপকূলেও সেদিন অস্বাভাবিক উঁচু ঢেউয়ের প্রভাব দেখা যায়। পেরুর উত্তরাঞ্চলের একটি সৈকতে ডুবে মারা যান দুইজন।

টোংগার ক্ষয়ক্ষতির একটি ধারণা পেতে নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সেখানে পর্যবেক্ষণ ফ্লাইট পাঠিয়েছে। নিউ জিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে ‘বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ’ হয়েছে। বিশেষ করে টোংগার মূল দ্বীপ টোংগাটাপুর পশ্চিম উপকূলে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

তবে রেড ক্রস আশার বাণী শুনিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যতোটা আশঙ্কা করা হয়েছিল, ক্ষয়ক্ষতির পরিধি তার চেয়ে কম।

ফিজি থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করা রেড ক্রসের সমন্বয়ক কেটি গ্রিনউড বলেন, ‘টোংগার মূল জনবহুল কেন্দ্রগুলো প্রাথমিকভাবে যতোটা বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল, হাতে পাওয়া তথ্যগুলো একত্রিত করলে ততোটা খারাপ পরিস্থিতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। সুতরাং, এটা ভালো খবর।’

বিবিসি জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ দিয়ে যে কেবলের মাধ্যমে টোংগা বহির্বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত ছিল, সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্বীপ দেশটির সঙ্গে যোগাযোগ করা অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সেখানকার টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অন্তত দুই সপ্তাহ লাগতে পারে।

আরও পড়ুন : জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি

জাতিসংঘ জানিয়েছে, টোংগার দুটি ছোট দ্বীপ থেকে সহায়তা চেয়ে পাঠানো সংকেত শনাক্ত করতে পেরেছে তারা।

টোংগার যারা এখন প্রবাসে থাকেন, দুদিন আগে শেষবার তারা দেশে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা পেটিলাইস টুইমা সিডনি মরনিং হেরাল্ডকে বলেন, শনিবার বিকালে তিনি যখন শেষবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, যখন তারা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছিল।

‘এখানে আমরা টোংগার যারা আছি, প্রত্যেকেই একে অন্যকে ফোন করছি, জানতে চাইছি, কেউ কিছু শুনেছে কিনা ... আমরা মরিয়া হয়ে গেছি।’
ওয়েলসে বসবাসকারী টোংগার সিনিভা ফিলাইস বিবিসিকে বলেন, তিনি তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

‘আমি খুব উদ্বেগের মধ্যে আছি, তাদের কাছে খাবার আছে তো? খাবার পানি পাচ্ছেন তো?’

রেড ক্রস জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ছাই মেঘের কারণে দ্বীপে অবস্থানরত অনেক দাতব্য সংস্থার কর্মীদের কাছে থাকা স্যাটেলাইট ফোনগুলোও ঠিকমত কাজ করছে না। এ সংস্থার হিসাবে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রেড ক্রসের আঞ্চলিক পরিচালক আলেজান্ডার ম্যাথিউ বলেন, আগ্নেয়গিরির ধুলা ও সুনামির কারণে টোংগার পানি সরবরাহ ব্যবস্থা দূষিত হয়ে পড়বে, সেটাই স্বাভাবিক। এখন বড় চাহিদা থাকবে পানি বিশুদ্ধকরণ সামগ্রী এবং সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা।

কিছু কর্মকর্তা দ্বীপ দেশটিতে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষেত্রে কোভিড ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা জানিয়েছেন। গত অক্টোবরে সেখানে প্রথম কোভিড রোগী শনাক্ত করা হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ায় টোংগা দূতাবাসের উপপ্রধান কারটিস তু’ইহালানজিনজি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা সংক্রমণের আরেকটি ঢেউ আনতে চাই না।’

প্রশান্ত মহাসাগরে ৭ লাখ বর্গকিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ১৭০টি দ্বীপ নিয়ে টোংগা গঠিত। দ্বীপ দেশটির জনসংখ্যা প্রায় এক লাখ, যাদের বেশিরভাগই মূল দ্বীপ টোংগাটাপুতে বসবাস করেন।

ভয়েসটিভি/এমএম
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/63705
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2022 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ