Printed on Wed May 05 2021 9:54:11 PM

ঢাকার যে দুই এলাকায় সর্বাধিক সংক্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
ঢাকার যে দুই এলাকায় সর্বাধিক সংক্রমণ
ঢাকার যে দুই এলাকায় সর্বাধিক সংক্রমণ
ঢাকার দুই থানা এলাকায় করোনা মহামারির সর্বাধিক সংক্রমণের তথ্য পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এই দুই এলাকা হচ্ছে মিরপুরের রূপনগর এবং মোহাম্মদপুরের আদাবর থানা ।

১০ এপ্রিল শনিবার এই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। সেখান থেকে আরও জানা যায়, এই দুই থানা এলাকা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া আরও ১৭টি থানা এলাকার করোনা শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের ওপরে।

আইইডিসিআর জানায়, গত ২৭ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪ হাজার ৩৩২টি টেস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ৫ হাজার ১০৩ জন অর্থাৎ শনাক্তের হার ৩৬ শতাংশ। উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৬ হাজার ৭৭১টি টেস্টের মধ্যে শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৪৩ জন, শনাক্তের হার ২৯ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ঢাকায় রূপনগর থানা এবং আদাবর থানা সবচাইতে ঝুঁকিপূর্ণ থানা, যাদের করোনা শনাক্তের হার সর্বাধিক। রূপনগরে ৪৬ শতাংশ এবং আদাবরে ৪৪ শতাংশ।

আইইডিসিআর’র কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও জানা যায়, ঢাকার আরও ১৭টি থানার করোনা শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের ওপর অবস্থান করছে। ২৩টি থানায় ২০ শতাংশের ওপরে এবং ৭টি থানায় ১১ শতাংশের ওপরে শনাক্তের হার আছে।

১১ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে আছে তেজগাঁও, উত্তরা পশ্চিম থানা, ভাষানটেক, গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এবং বিমানবন্দর থানা এলাকা।

২১ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে আছে শাহবাগ, বংশাল, লালবাগ, শাহজাহানপুর, রমনা, কামরাঙ্গিরচর, শ্যামপুর, বাড্ডা, বনানী, উত্তরখান, শেরে বাংলা নগর, সূত্রাপুর, যাত্রাবাড়ী, পল্লবী, কাফরুল, ডেমরা, ওয়ারী, ভাটারা, দক্ষিণ খান, খিলক্ষেত, কদমতলি, উত্তরা পূর্ব থানা, পল্টন থানা এলাকা।

৩০ শতাংশের ওপরে আছে রূপনগর, আদাবর, শাহ আলী, রামপুরা, তুরাগ, মিরপুর, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, মুগদা, গেন্ডারিয়া, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, চকবাজার, সবুজবাগ, মতিঝিল, দারুসসালাম, খিলগাঁও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে যে কয় ধরনের ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে তার মধ্যে ইউকে এবং সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট উচ্চ সংক্রমণের অন্যতম কারণ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমদ বলেন, দুটি ভ্যারিয়েন্ট এখন সংক্রমণ বাড়াচ্ছে। এক হচ্ছে ইউকে আরেকটি হচ্ছে সাউথ আফ্রিকান। ইউকে ভ্যারিয়েন্ট মারাত্মক আকার ধারণ করে যার কারণে কম বয়স্কদের মধ্যেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টও পরিস্থিতি খারাপের দিকে নিয়ে যায় ইউকে ভ্যারিয়েন্টের মতো। এই ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রভাব কম। সুতরাং দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পর কিছু লোকের মধ্যে সংক্রমণ দেখা গেলে বিস্মিত হবো না। এছাড়া যারা একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছেন তারা সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের কারণে আবারও আক্রান্ত হতে পারে বলে ধারণা করছি।

আইইডিসিআর’র উপদেষ্টা ডা মুশতাক হোসেন বলেন, গত জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে বিভিন্ন বদ্ধ জায়গায় প্রচুর পারিবারিক সামাজিক রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করেছি। সেটারই প্রভাব আমরা এখন দেখছি। আগে যেগুলো ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর প্রভাব আমরা এখন দেখতে পারছি। এখন যা হচ্ছে তার প্রভাব আমরা এক সপ্তাহ পরে দেখতে পারবো।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/41471
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ