Printed on Tue May 18 2021 2:10:31 AM

রিমান্ডে মুখ খুলেছেন মামুনুল, দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয়
তথ্য
তথ্য
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক রিমান্ডের প্রথম দিনেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। সংগঠনটির সহিংস কর্মকাণ্ড, একাধিক বিয়ে নিয়ে সোমবার গোয়েন্দাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তার ভাষ্য- যে দুটি বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ওই দুই নারীর সঙ্গে অনেক দিন ধরে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করে আসছেন তিনি। তবে বিয়ে-সংক্রান্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র তার কাছে নেই। কাবিনও নেই। ওই দুই নারীর ডিভোর্স হওয়ায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই তাদের দিকে এগিয়ে যান তিনি। একজনকে মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসায় চাকরিও দিয়েছেন।

কাগজপত্র ও কাবিন না থাকা সত্ত্বেও বিয়ে কীভাবে বৈধ হলো- এমন প্রশ্নের উত্তরে অসংলগ্ন কথা বলেছেন মামুনুল হক। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা গতকাল এসব তথ্য জানান।

মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গত রোববার দুপুরে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। মারধর, হুমকি, ধর্মীয় কাজে ইচ্ছাকৃত গোলযোগ সৃষ্টি, চুরির অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানায় গত বছর দায়ের করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজেদুল হক গতকাল মামুনুল হককে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) দেবদাস চন্দ্র অধিকারী রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতেই মামুনুল হকের কাছে তার কথিত বিয়ে এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গ করার বিষয় জানতে চাওয়া হয়। বিয়ের ব্যাপারে তিনি নিজের মতো ব্যাখ্যা দেন। তবে এটা স্বীকার করেছেন, এসব বিয়ের কোনো আইনগত প্রমাণ তার কাছে নেই। অন্য প্রশ্নে চুপ থাকেন তিনি।

মামুনুলকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত অপর একজন কর্মকর্তা জানান, তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, হেফাজতের অধিকাংশ কর্মসূচি ঘিরে কেন তাণ্ডব ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। ইসলাম তো এসব সমর্থন করে না। সংগঠনটির নাম যখন হেফাজতে ইসলাম তখন কেন এর নেতাকর্মীরা এসব বর্বরতা এড়াতে আরও সতর্ক থাকেন না। এ প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, 'আমি যেহেতু নেতা, এর দায় আমারও রয়েছে। আমাকে এর দায় নিতে হবে। তবে অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনও তো সংঘাতে জড়ায়।' তবে অন্যান্য দলের খারাপ দৃষ্টান্ত হেফাজত কেন অনুকরণ করবে- এমন প্রশ্নে চুপ ছিলেন তিনি।

২০১৩ সালে হেফাজতের কর্মসূচিতে জ্বালাও-পোড়াও, পবিত্র কোরআন শরিফে আগুন দেয়া, বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল পর্যন্ত এর উত্তরে স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি মামুনুল হক। সংশ্নিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, এরই মধ্যে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ভেতরে-বাইরে তিনি দ্বৈত চরিত্রের অধিকারী- এটি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কথিত বিয়ের কাহিনি ফাঁস হওয়ার পর থেকে ঘরে-বাইরে চাপে আছেন তিনি। হেফাজতের ভেতরেও একটি অংশ তার কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ। নারায়ণগঞ্জকাণ্ডের পর প্রথম স্ত্রীসহ নিজের পরিবারের সদস্যদের কারও কারও কাছে বিরাগভাজন হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে বাসায়ও যাননি তিনি।

পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুরের যে মামলায় মামুনুলকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে, সে-সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ গতকাল জব্দ করেছেন তারা। মূলত তাবলিগ জামাতকে কেন্দ্র করে জুবায়ের ও মোহাম্মদ সাদ কান্ধালভি গ্রুপের মধ্যে ওই মারামারি এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। মামুনুল ছিলেন জুবায়েরপন্থি।

সংশ্নিষ্ট এক কর্মকর্তা আরও জানান, মামুনুলের কথিত ছোট স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস লিপি। তবে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করছেন তিনি। তার প্রথম স্ত্রীর নাম আমেনা তৈয়বা। কথিত মেজ ও ছোট স্ত্রীর সঙ্গে বিয়ের কোনো কাবিন হয়নি বলে পুলিশকে জানান মামুনুল। কাবিন হলো বিয়ের আইনি দলিল। মুসলিম পারিবারিক আইনে বিয়ের নিবন্ধন একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করে। নিবন্ধন ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক প্রমাণ করা কঠিন। বিয়ের নিবন্ধন না থাকা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধে দু'বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

আরও পড়ুন: মামুনুলের রিসোর্টকাণ্ডে চাকরি হারালেন সোনারগাঁওয়ের সেই ওসি

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/42365
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ