Printed on Wed Oct 20 2021 7:29:43 AM

তালেবানের জন্ম, সংগ্রাম ও উত্থান যেভাবে

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
বিশ্বভিডিও সংবাদ
উত্থান
উত্থান
আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে তালেবানকে জোর করে সরানো হয়েছিল ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত এক যুদ্ধের মাধ্যমে। কিন্তু ২০ বছর ধরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের সঙ্গে যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তানের রাজধানীসহ প্রায় পুরো দেশ দখলে নিয়েছে তালেবান যোদ্ধারা। আবারও প্রতিষ্ঠা হচ্ছে তালেবান শাসন। কিন্তু কারা এই তালেবান, তাদের জন্ম এবং উত্থান নিয়েই আজকের এই প্রতিবেদন।

১৯৯০ এর দশকের শুরুতে উত্তর পাকিস্তানে তালেবান আন্দোলনের জন্ম হয়। বিভিন্ন আফগান মুজাহিদ বাহিনী দখলদার সোভিয়েত বাহিনীকে পরাস্ত করার পর চরম গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে তালেবান বাহিনীর উত্থান ঘটেছিল। এই আন্দোলনে মূলত পশতুন অর্থাৎ পশতুভাষীদের প্রাধান্য। ধারণা করা হয়, মাদরাসাগুলোতে প্রথম এরা সংগঠিত হয়। এই মাদরাসাগুলো পরিচালিত হতো সৌদি অর্থে এবং সেখানে খুবই কট্টর সুন্নি মতাদর্শের ইসলামই প্রচার করা হতো। তালেবান পশতু শব্দ। পশতু ভাষায় যার অর্থ ছাত্র।

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান এই দুই দেশের সীমান্তের দুই দিকেই আছে বিস্তীর্ণ পশতুন অধ্যুষিত অঞ্চল। ১৯৮৯ সালে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েতদের প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সাহায্য করেছিলেন তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমর, যিনি তালেবান কমান্ডার হন পরে। যুদ্ধবিগ্রহ আর অস্থিতিশীলতায় ক্লান্ত জনগণ তখন শান্তির আশায় তালেবানকে স্বাগত জানিয়েছিল। দক্ষিণ-পশ্চিম আফগানিস্তান থেকে তাদের প্রভাব ক্রমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ১৯৯৬ সালে প্রেসিডেন্ট বুরহানুদ্দিন রব্বানির সরকারকে উৎখাত করে রাজধানী কাবুল দখল করে তালেবান।

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে মৌলবাদী ইসলামিক শক্তি হিসেবে শাসন করেছিল তালেবান। আফগানিস্তানকে নিজেদের কবজায় আনার পরই সে দেশে কঠোর ইসলামিক শাসন জারি করে তালেবানরা। অপরাধীদের প্রকাশ্যে হত্যা করার মতো কঠোর শাসন শুরু করে তালেবানরা। পুরুষদের দাড়ি রাখা, মহিলাদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। মেয়েদের স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে তারা। টেলিভিশন, সংগীত, সিনেমাও নিষিদ্ধ করে তারা। এরই প্রেক্ষাপটে তালেবানের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তালেবানদের একাধিক পদক্ষেপে নিন্দার ঝড় ওঠে আন্তর্জাতিক মহলে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন মুল্লুকে ‘টুইন-টাওয়ার’ হামলার ঘটনায় জড়িত মোস্ট ওয়ান্টেড ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছিল তালেবান। লাদেনকে হাতে পেতে আফগানিস্তানে আক্রমণ চালায় আমেরিকা। ওই বছরের ৭ অক্টোবর মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানে হামলা শুরু করে। ওই বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হয়।

এরপর ২০ বছর আফগানিস্তানে শেকড় গাড়ে আমেরিকা। কিন্তু তালেবানমুক্ত করতে পারল না আফগানিস্তানে। এর মধ্যে গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবানের ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা জানিয়েছিল, আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের ছয় মাসের মধ্যে তালেবান রাজধানী শহর কাবুল দখল করবে। এই বক্তব্য থেকে সরে এসে মাত্র পাঁচ দিন আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, ৯০ দিনের মধ্যে কাবুল দখল করবে তালেবানরা। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটল মাত্র চার দিনের মধ্যে। তালেবানের অবিশ্বাস্য সামরিক সাফল্যের দিকে আফগান সরকার তো বটেই, পুরো বিশ্বই এখন হাঁ হয়ে তাকিয়ে রয়েছে, এটা কীভাবে সম্ভব। এক মাসের মধ্যে গোটা দেশ তালেবানের দখলে। যেখানে আমেরিকান অস্ত্রে সজ্জিত আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা ৩ লাখের মতো। বিমান বাহিনীও রয়েছে তাদের। অন্যদিকে তালেবানে যোদ্ধার সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ হাজারের মতো। কোনো ইউনিফর্ম নেই, সিংহভাগ যোদ্ধার পায়ে জুতা পর্যন্ত নেই। কিন্তু তাদের চাপে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ছে আফগান বাহিনীর প্রতিরোধ। দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি। তালেবানের এই সামরিক সাফল্যে হতচকিত হয়ে পড়েছে খোদ যুক্তরাষ্ট্র।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/51344
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ