Printed on Sun Sep 19 2021 11:13:30 PM

তালেবানের এতো অস্ত্র-টাকার যোগানের রহস্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বভিডিও সংবাদ
তালেবানের
তালেবানের
তালেবানের আয় সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া যায়, তাতে চোখ কপালে ওঠার দশা। এখন থেকে আট বছর আগে তাদের বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৪০ কোটি ডলার। গত কয়েক বছরে তালেবানের প্রতিপত্তি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে আয়। তালেবানের বর্তমান বার্ষিক আয় দেড়’শ কোটি ডলার বা তার বেশিও হতে পারে।

এতো খয়খরচার অর্থ কোথায় পায় তালেবান? দেশের ভেতর-বাহির উভয় উৎস থেকেই তালেবানের অর্থের জোগান আসে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, খরচ মেটাতে তালেবান একটি অত্যাধুনিক আর্থিক নেটওয়ার্ক ও কর–ব্যবস্থা চালিয়ে আসছে।

আফগানিস্তানে এখন তালেবানের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। অল্প কয়েকদিনের দিনের মধ্যেই আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহর ও এলাকায় হামলা চালিয়ে দখল করে নেয় তারা। সবশেষ রোববার রাতে আফগান প্রেসিডেন্ট পালিয়ে যাওয়ার পর তালেবান যোদ্ধারা দখল করে নেয় পুরোটা। এসব হামলায় শক্তিশালী বিস্ফোরক, অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করছে গোষ্ঠীটি। হামলাসহ সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করতে প্রচুর অর্থ খরচ করছে তালেবান।

তালেবান স্বীকার না করলেও দেশের ভেতরে তাদের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস মাদক। আফিমের উর্বর ভূমি আফগানিস্তান। সেই সুবাদে বিশ্বে আফিমের সবচেয়ে বড় উৎপাদনকারী দেশ তারা। এই সুযোগকেই লুফে নিয়েছে তালেবান। আফগানিস্তানে এখন তালেবান–নিয়ন্ত্রিত এলাকাতেই অধিকাংশ আফিম চাষ হয়। তারা আফিমচাষি, আফিম থেকে হেরোইন উৎপাদনকারী ও কারবারিদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে। আফিম অর্থনীতির জোরে তালেবানের অর্থভান্ডারও বাড়বাড়ন্ত।

আফগানিস্তানে প্রচুর খনিজ সম্পদ রয়েছে। এক হিসাব অনুযায়ী, খনি থেকে তালেবানের বার্ষিক আসে ৫ কোটি ডলারের বেশি।

অবৈধ মাদকের খাত থেকে তালেবানের বার্ষিক আয় ১০ থেকে ৪০ কোটি ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভাষ্য অনুযায়ী, তালেবানের আয়ের ৬০ ভাগই মাদক খাত থেকে আসে। তালেবানেরা নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তারা একটি কর–ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলো। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কর আদায়ের মাধ্যমে তালেবানের বিপুল আয় হয়।

পরিষেবা থেকে আয় হয় তালেবানের। এই যেমন তারা বিদ্যুৎ বিল বাবদ গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে। আফগানিস্তানের ইলেকট্রিসিটি কোম্পানির প্রধানের ভাষ্য, বিদ্যুৎ বিল থেকে তালেবানের বার্ষিক আয় ২০ লাখ ডলারের বেশি।

এ তো গেল দেশের কথা, বিদেশি উৎস থেকে প্রচুর অর্থ আসে তালেবানের হাতে। পাকিস্তান, ইরান ও রুশ সরকার তালেবানকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করে আসছে বলে অভিযোগ আছে। তা ছাড়া পাকিস্তান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যক্তিপর্যায়ে অর্থসহায়তা পায় তালেবান।

অনলাইন ভয়েস অব আমেরিকায় প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, তালেবানরা ব্যাপকভিত্তিতে অর্থ সংগ্রহ করেছে। এর ফলে মিলিয়ন মিলিয়ন এমনকি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার তহবিলের মালিক তারা। গোয়েন্দা বিষয়ক এজেন্সিগুলো বলছে, তালেবানরা এ পর্যন্ত কি পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে তা যথাযথভাবে বলা সম্ভব নয়। আন্দাজও করা যায় না। তবে নতুন এক তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে তারা ৩০ কোটি ডলার থেকে ১৬০ কোটি ডলার সংগ্রহ করছে প্রতি বছর।

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ২০২১ সালের জুনে জাতিসংঘের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, তালেবানদের বেশির ভাগ অর্থ সংগ্রহ হয় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। যেমন আফিম উৎপাদন, মাদক পাচার, চাঁদা দাবি, মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ থেকে। একটি গোয়েন্দা এজেন্সি বলেছে, শুধু মাদক পাচার থেকেই তালেবানরা আয় করেছে ৪৬ কোটি ডলার।

বিবিসিকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানে মার্কিন কমান্ডার জেনারেল জন নিকলসন অভিযোগ করেন, তাজিকিস্তানের সীমান্ত এলাকা থেকে তালেবানের কাছে রাশিয়ান অস্ত্র চোরাচালান হয়ে আসছে। জাতিসংঘ বলছে, এর মধ্যে বেসরকারি দাতব্য সংস্থাগুলোর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থ পায় তারা। এ ছাড়া তাদের সম্পদশালী সমর্থকদের কাছ থেকেও অর্থ সহায়তা পায়। তবে আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অনেক বছর ধরে বলে আসছেন যে, তালেবানরা অর্থ, অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ পাচ্ছে রাশিয়ার কাছ থেকে।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/51402
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ