Printed on Sun Sep 19 2021 11:46:30 PM

তালেবানের ভয়ে পুরুষের বেশে মসজিদে কাজ করতেন নাদিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বভিডিও সংবাদ
তালেবানের
তালেবানের
শারীরিক এবং মানসিক ভাবে পুরোদস্তুর মহিলা হওয়া সত্ত্বেও জীবনের প্রথম ভাগ তাঁকে পুরুষের বেশে কাটাতে হয়েছিল। তার নাম নাদিয়া গুলাম দাস্তগির, সারা বিশ্ব তাঁকে চিনেছিল ২০১০ সালে। কেননা তালেবানের হাত থেকে রক্ষা পেতে এ ধরণের অদ্ভুত জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হন তিনি।

নাদিয়ার কাহিনী রূপকথাকেও হার মানায়। নাদিয়ার কথা যখন বিশ্ববাসী জানতে পারলো তখন তিনি ২৫ বছরের যুবতী। ফেলে আসা তাঁর সেই ১০ বছরের অভিজ্ঞতা গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে আজও।

গৃহযুদ্ধে তখন নাস্তানাবুদ অবস্থা আফগানিস্তানের। বোরখা এবং হিজাব ছাড়া নিজেদের কল্পনাও আনতে পারতেন না মহিলারা। এগুলি ছাড়াও আরও আরও নানা বিধিনিষেধ চাপানো ছিল তাঁদের উপর। এমন এক শ্বাসরুদ্ধ পরিস্থিতিতে ১৯৮৫ সালে কাবুলে জন্ম নাদিয়ার। ছোট থেকেই নাদিয়া বুঝে গিয়েছিলেন নিজের মত করে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নেই আফগানে।
১৯৯৩ সালে তালিবানের ছোড়া বোমা এসে পড়েছিল তাদের বাড়িতে। বাড়ির একাংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পরিবারের অনেকেই সে দিন প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই হামলায় মৃত্যু হয়েছিল নাদিয়ার ভাইয়েরও। নাদিয়া নিজেও গুরুতর জখম হয়েছিলেন। পরের দু’বছর হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই কাটাতে হয়েছিল তাঁকে।

১৯৯৬ সালে কাবুল পুরোপুরি তালিবানদের দখলে চলে যায়। কাবুলের ক্ষমতা বদলের সঙ্গে নাদিয়ার জীবনও পুরোপুরি বদলে যায়। নাদিয়ার বয়স তখন ১১ বছর। তাঁর মায়ের কথাতেই সেই প্রথম পুরুষের বেশ ধরলেন নাদিয়া। সামনে এলেন মৃত ভাইয়ের পরিচয়ে। নাদিয়া জানতেন অনাহারের হাত থেকে পরিবারকে এবং তালিবানের অত্যাচার থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।

পুরুষের বেশে একা বাড়ির বাইরে বের হতেন, মসজিদে গিয়ে কোরান পড়তেন এবং পরে কাবুলের এক মসজিদে কর্মচারী হিসেবে কাজে যোগ দেন। এভাবেই পুরুষ সেজে দিনের পর দিন উপার্জন করে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতেন। ‘পুরুষ’ হওয়ার জন্য ১৬ বছর বয়সে স্কুলেও ভর্তি হতে পেরেছিলেন।

এভাবে কাটিয়ে দেন ১০টি বছর, প্রতি মুহূর্তে নিজেকে আরও বেশি ‘পুরুষ’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালাতে থাকা নাদিয়া সবসময় থাকতেন মানসিক-শারীরিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত। কিন্তু আর সম্ভব হচ্ছিল না। বয়স যত বাড়ছিল, পোশাক ছাপিয়ে নারীসত্ত্বাও জানান দিতে শুরু করছিল। পুরুষের পরিচয় বয়ে নিয়ে যেতে যেতে হাঁফিয়ে উঠেছিলেন নাদিয়া নিজেও। অন্যদেশে পালিয়ে তবেই নিজের নারী সত্ত্বাকে উন্মোচন করার সাহস পেয়েছিলেন নাদিয়া। তার আগে পর্যন্ত নিজের আসল সত্ত্বাই প্রায় ভুলতে বসেছিলেন তিনি।

২০০৬ সালে এর বোমা হামলায় গুরুতর আহত নাদিয়াকে আন্তর্জাতিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চিকিত্সার জন্য স্পেনে নিয়ে আসেন। সেই সময় থেকেই তিনি স্পেনে থাকেন। এখান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন নাদিয়া। ২০১৬ সালে ‘ব্রিজেস অব পিস’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থাও গড়ে তুলেন তিনি। যার মাধ্যমে স্পেনের ওই শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া আরও অনেকের শিক্ষার দায়িত্ব নেন।

স্পেনে থাকাকালীন নিজের জীবনের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে লেখা বই 'দ্য সিক্রেট অফ মাই টারবান' শোরগোল ফেলে দেয় গোটা বিশ্বে। এই লেখায় তাঁকে সাহায্য করেন সাংবাদিক অ্যাগনেস রটগের। এই বইয়ের পাতাতেই সারা বিশ্ব নাদিয়াকে চিনতে পারে। এরপর আরও অনেক বই প্রকাশ হয়েছে তাঁকে নিয়ে।

নাদিয়ার পরিবার এখনও আফগানিস্তানেই রয়েছে। দেশ ছাড়ার সঙ্গে পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়েছে তাঁর। তালিবান প্রত্যাবর্তনের পর দেশে ফেরার ক্ষীণ আশাও হারিয়েছেন। পরিবারকে খুঁজে পাওয়ার আর কোনও সম্ভাবনাও দেখছেন না নাদিয়া গুলাম দাস্তগির।

ভয়েসটিভি/এএস
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/51968
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ