Printed on Wed Jul 28 2021 4:17:25 PM

আবারও ফিরে আসলো তালেবান শাসন : পালাচ্ছে সেনাবাহিনী

নিয়ামুল আজিজ সাদেক, ভয়েস টিভি
বিশ্বভিডিও সংবাদ
তালেবান শাসন
তালেবান শাসন
তালেবানদের পুরোপুরি জয় করা যায় না একথা হয়তো আবারো সত্যি হতে চলেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পর ন্যাটো বাহিনীর সহায়তা আফগানিস্তানের সরকারপন্থীরা ক্ষমতায় টিকে ছিলো প্রায় ২০ বছর। মার্কিন ও ন্যাটোবাহিনী যখন আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাচ্ছে তখন একের পর এক এলাকা নির্ধিদ্বায় দখল করে নিচ্ছে তালেবান। আফগান সেনারাও এসব এলাকা সুরক্ষিত রাখতে পারছে না। তাই আবারও আফগানিস্তানে ফিরে আসলো তালেবান শাসন।

সাম্প্রতিক খবর হলো আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে তালেবানের সাথে লড়াইয়ে টিকতে না পেরে এক হাজারেরও বেশি আফগান সেনা সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে পার্শ্ববর্তী তাজিকিস্তানে পালিয়ে গেছে বলে দেশটির সরকার নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে তাজিকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশের কয়েকটি জেলায় যুদ্ধের পর জীবন বাঁচানোর তাগিদেই এসব আফগান সৈন্য তাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

আফগানিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এখন তালেবানের দখলে এবং প্রতিদিনই তারা নতুন নতুন জেলা সরকারি বাহিনীর হাত থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া বাদাখশানে তালেবান যোদ্ধারা দ্রুত ওই এলাকার প্রধান শহর ফায়েজাবাদের দিকে এগিয়ে আসছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সীমান্তবর্তী কয়েকটি ঘাঁটি থেকে আফগান সেনাদের পালানোর ঘটনা ঘটেছে।

প্রতিবেশী অপর দেশ উজবেকিস্তানেও কিছু আফগান সৈন্য আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ এই ঘটনায় এক হাজারেরও বেশি আফগান সৈন্যকে তাজিকিস্তানে ঢুকতে দেয়া হয়েছে। এদিকে, সেপ্টেম্বরের সময়সীমাকে সামনে রেখে আফগানিস্তানে মোতায়েন আন্তর্জাতিক বাহিনীর বেশিরভাগ সেনাকেই সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কিন্তু তালেবানের সাথে সরকারি বাহিনীর লড়াই যদি আরও তীব্র হয় তাহলে শরণার্থীর ঢল সীমান্ত অতিক্রম করে আশেপাশের দেশে চলে যেতে পারে। আর মধ্য এশিয়ার দেশগুলো এখন থেকেই সেই পরিস্থিতির জন্য তৈরি হচ্ছে।

আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ন্যাটো বাহিনীর সব সদস্যের আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে যদি সব বিদেশি সেনা আফগানিস্তান ছেড়ে না যায় তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালেবান।

আরও পড়ুন : আফগানিস্তানে গাড়ি বোমা হামলায় ২৬ নিরাপত্তা সদস্য নিহত

১ এগারোর পেন্টাগন হামলার পর আফগানিস্তানে সেনা বৃদ্ধি করতে থাকে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী। এরপর তারা উপযুপুরি বিমান ও স্থল হামলা চালায় আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে। এতে তালেবান এবং বেসামরিক লোকও নিহত হন।

এই রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধের পর আফগানিস্তানে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু মাত্র ১৮ বছর না যেতে কাতারের দোহায় একটি বিলাসবহুল হোটেল চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র এবং তালিবান মুখপাত্র। চুক্তি অনুসারে

আফগানিস্তানে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ হাজারসহ দেশটির নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর ১৭ হাজার সৈন্য রয়েছে। আগামী ১৩৫ দিনের মধ্যে এ সংখ্যা ৮ হাজার ৬০০ তে নামিয়ে আনা হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি সৈন্যও প্রত্যাহার হবে ভবিষ্যতে।

তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে বিমান হামলা বা অভিযান চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। তালেবনরাও হামলা, সহিংসতা থেকে বিরত থাকবে।

আফগানস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে আশরাফ ঘানি সরকারের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। কারণ একের পর এক জেলা দখল করে নিচ্ছে তালেবান। তবে তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহিন বলেন, কাবুলকে সামরিকভাবে দখল করা তালেবানের নীতি নয়।

ভয়েস টিভি/ডি
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48438
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ