Printed on Sat Jan 16 2021 2:02:29 AM

ছবিহীন পোস্টারেই অপরাজেয় তোতা

মমিনুল ইসলম বাবু, কুড়িগ্রাম
সারাদেশ
তোতা
তোতা
কুড়িগ্রাম পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের ৬০ জন প্রার্থী। সবাই যখন পোস্টার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলো, তখন ব্যতিক্রম ছিলো শুধু একজন। যার ছিলো সামান্য কয়েকটি পোস্টার এবং সেখানে নেই তার ছবি । তিনি হলেন, ৩ নম্বর ওর্য়াডের সবার প্রিয় কাউন্সিলর রোস্তম আলী তোতা। যিনি গরীবের বন্ধু নামে পরিচিত।

১৯৮১ সাল থেকে এই ওর্য়াডের কাউন্সিলর পদে রয়েছেন ৬৬ বছর বয়সী এই জনপ্রতিনিধি। ২৮ ডিসেম্বর সোমবার পৌর নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে নবম বারের মতো কাউন্সিলর হলেন তিনি।

জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে কমিশনার পদে উপ-নির্বাচনে পরাজিত হন তিনি। প্রথম পরাজয়ের পর তিনি বুঝতে পারেন মানুষের ভালোবাসা অর্জন ছাড়া জনপ্রতিনিধি হওয়া সম্ভব প্রসব প্রয়। তাই মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ শুরু করেন।

সাধারণ সম্পাদক হন ‘মুকুল ফৌজ’ নামে একটি শিশু সংগঠনের। সেই থেকে শিশু, নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ সবার সঙ্গে হৃদ্যতা গড়ে ওঠে। তারপর ১৯৮১ সালে তিনি প্রথম বারের মতো বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন। এরপর নির্বাচিত হওয়ার জন্যে তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় না।

স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। অন্য দুজন স্নাতকের শিক্ষার্থী। জেলা শহরের মিস্ত্রিপাড়ায় ১২ শতক জমিতে টিনশেড বাড়ি রয়েছে তাঁর।

পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র তারই ছবিহীন পোস্টার ছিল। বিগত নির্বাচন গুলোতেও পোস্টারে ছবি ব্যবহার করেননি। তাঁর দাবি, ছবি নয়, কর্মেই পরিচয়। শরীর যতক্ষণ ভালো থাকবে ততদিন মানুষের পাশে থাকবেন বলে জানান রোস্তম আলী তোতা।

এই ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাপলা রাণী বলেন, তোতার বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ালে জয়লাভ তো দূরের কথা, জামানত বাঁচানো নিয়ে শঙ্কায় থাকেন প্রতিপক্ষরা। এর আগেও ছয়টি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে টানা জয় পেয়েছেন তিনি। কোনোবারই প্রতিপক্ষের কারও জামানত বাঁচেনি।

বুলবুলি আক্তার নামে আরেক নারী জানান, তোতা চাচার কোনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি সৎ ভাবেই মানুষের পাশে থাকার কারণে পৌর এলাকার ছোট-বড় সবাই তোতা নামেই চেনেন। শুধু নিজ ওয়ার্ডে নয়, সবার সুখে-দুঃখেই তাকে পাওয়া যায়।

পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন বলেন, পৌর এলাকার যেকোনো ওয়ার্ডের মানুষের সমস্যায় তোতাকে কাছে পায়। ঝড়, বৃষ্টি কিংবা দিনে-রাতে, যেকোনো সময় ডাকলেই তাকে পাওয়া যায়। সে একজন কাউন্সিলর হলেও তার জীবন-যাপন একদম সাদামাটা। নিরহংকার এই মানুষটির নেই উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন। সবারই শ্রদ্ধাভাজন তোতা।

গৃহবধূ কবিতা রানী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ কেউ তুলতে পারেনি যা আগামীতেও পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি পাঁয়ে হেটে, কখনো সাইকেলে করে মানুষের কাছে ভোট চেয়েছেন। নির্বাচনী প্রচারণা দলগতভাবে নয়, একাই করেছেন। নির্বাচিত হবার পরেও স্বাভাবিক দিনের মতো খোঁজ-খবর রাখেন তিনি। এতে করে সবার বাড়িতে তার অবাধ যাতায়াত রয়েছে। আর এসব গুণেই তিনি বারবার নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার জাহাঙ্গীর আলম রাকিব বলেন, কুড়িগ্রাম পৗরসভায় মোট ৫৬হাজার ৩৯৭ ভোটার জন। ভোট পড়েছে ৩৬ হাজার ৮৯৬টি ভোট। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে রোস্তম আলী তোতা দুই হাজার ৬১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

আরও পড়ুন : রাতে আরও ১ বাসে আগুন, একদিনেই পুড়ল ১০টি

ভয়েস টিভি/এমএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/30113
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ