Printed on Tue May 11 2021 7:39:58 AM

কোরআনে বর্ণিত ত্বীন ফল চাষে মতিউরের সাফল্য

মুসা মিয়া, হিলি (দিনাজপুর)
সারাদেশ
ত্বীন ফল
ত্বীন ফল
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত মরু অঞ্চলের সুমিষ্ট ত্বীন ফল চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন করোনায় পুঁজি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মতিউর মান্নান সরকার। গাছে পর্যাপ্ত ফল ধরায় প্রতিমাসে আয় করছেন ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা। ডুমুর আকৃতির এই ফল দৃষ্টি কেড়েছে এলাকার মানুষের। এছাড়াও এই ফলের বাগানে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে অনেকের।

করোনার কারণে স্থবির দেশে অনেকেই পুঁজি হারিয়েছেন। আর এমনি পুঁজি হারা এক যুবক দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মতিউর মান্নান সরকার। তিনি ঢাকায় ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ী ছিলেন। করোনার কারণে বন্ধ হয়ে যায় তার ব্যবসা। তবে থেমে থাকেনি তার জীবনের পথচলা, ইউটিউব দেখে গত বছরের অক্টোবর মাসে ঢাকার গাজীপুর থেকে ৯ শ চারা এনে চার বিঘা পতিত জমিতে ত্বীন ফলের চাষ শুরু করেন। চারা রোপণের প্রায় দেড় মাসের মাথায় স্বপ্নের সেই ত্বীন গাছে ফল আসতে শুরু করে। আর স্বল্প সময়ে গাছে ফল আসায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। এখন এই ফল পরিপক্ক হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে এক হাজার টাকা কেজি দরে গড়ে প্রতিদিন ১০ কেজি করে বিক্রি করছেন। সেই সাথে চারা বিক্রি করে প্রতিমাসে প্রায় ১ লাখ টাকা বাড়তি আয় করছেন এই উদ্যোক্তা।

 ত্বীন ফল

মরুভূমির ডুমুর আকৃতির এই ফল দৃষ্টি কেড়েছে এলাকার মানুষের। বাগানের ফল দেখতে ও চাষ পদ্ধতি জানতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত দেখে ছুটে আসছে মানুষ।

ত্বীন চাষি মতিউর মান্নান জানান, তিনি ঢাকায় একটি ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন, করোনায় লকডাউনের তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পরিবার নিয়ে গ্রামে চলে আসেন। এমন অবস্থায় কি করা যায় ভেবে পাচ্ছিলাম না। ইউটিউব দেখে ত্বীন ফল সম্পর্কে চানতে পারি। এরপর ঢাকার গাজীপুর থেকে ৯ শ চারা এনে আমার পতিত ৪ বিঘা জমিতে লাগাই। এখন প্রতিদিন ১ হাজার টাকা দরে গড়ে প্রতিদিন ১০ কেজি ফল বিক্রি করছি। এই গাছের আয়ুকাল ১০০ বছর তাই অনুমান করছি অন্তত আরো ৫০ বছর ফল দেবে। এছাড়াও গাছের চারা বিক্রি করে প্রতিমাসে অন্তত ১ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।

রংপুর থেকে বাগান দেখতে আসা অবসর প্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুরুল ইসলাম জানান, আমি জানতে পারি এখানে মরুভূমির ত্বীন ফল চাষ হচ্ছে। আমিও এই বাগার করতে আগ্রহী। তাই ত্বীন দেখতে ও চাষ পদ্ধতি জানতে এখানে এসেছি।

নাবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উত্তর বঙ্গে এই প্রথমবারের মতো ৪ বিঘা জমিতে লাগানো হয়েছে ৫ জাতের ৯ শ ত্বীন ফলের গাছ। আমারা কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষণিক তদারকিসহ করছি।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/38763
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ