Printed on Sat Jun 19 2021 3:27:19 AM

অক্সিজেনের পর ভারতে চিকিৎসক সংকট দেখা দেবে: ডা. দেবী শেঠি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
বিশ্ব
দেবী শেঠি
দেবী শেঠি
বিশ্বখ্যাত কার্ডিয়াক সার্জন ডা. দেবী শেঠি ভারতকে সতর্ক করে বলেছেন, কোভিড রোগীদের অক্সিজেন সংকট সমাধান করার পর বড় চ্যালেঞ্জ হবে রোগীদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক ও নার্সের ঘাটতি।

সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’র প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিম্বিয়োসিস ইন্টারন্যাশনাল (ডিমড বিশ্ববিদ্যালয়) আয়োজিত স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে আন্তঃবিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে ভার্চুয়াল সম্মেলনে ডা. দেবী শেঠি বলেন, ‘একবার অক্সিজেন সমস্যা সমাধান হয়ে গেলে পরের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরবর্তী সমস্যাটি হবে আইসিইউতে রোগীর মৃত্যু। কারণ, তাদের যত্ন নেয়ার জন্য কোনো নার্স ও চিকিৎসক নেই। এটি ঘটতে যাচ্ছে। এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘মে মাসে প্রচণ্ড গরম হতে পারে এবং শারীরিকভাবে সক্ষম লোকেরাও কোভিড আইসিইউতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা কাজ করতে অসুবিধায় পড়বে। মহামারির প্রথম ঢেউ থেকে যে চিকিৎসকরা কাজ করছেন, তারা মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, বার্নআউট রোগে ভুগছেন এবং তাদের মধ্যে অনেকে সংক্রমিত হচ্ছেন।’

ডা. শেঠি আরও জানান, দেশে যাদের পজিটিভ ফলাফল আসছে, তাদের কাছ থেকে আরও ৫ থেকে ১০ জন ভাইরাসে সংক্রমিত হলেও, তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে না। এর মানে হলো, আসলে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ১০ লাখ মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন।

ডা. শেঠি বলেন, ‘পরিসংখ্যানগতভাবে বয়স বিবেচনায় কোভিড রোগীদের পাঁচ শতাংশের জন্য আইসিইউ বেডের প্রয়োজন, যার মানে প্রতিদিন ৮০ হাজার আইসিইউ বেডের চাহিদা রয়েছে। তবে ভারতে ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজারের মতো এমন বেড রয়েছে এবং মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে না পৌঁছালেও ইতোমধ্যে সবগুলো বেড দখল হয়ে আছে।’

এ ছাড়াও, একজন কোভিড রোগীকে সর্বনিম্ন ১০ দিন আইসিইউতে থাকতে হয়। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচ লাখ অতিরিক্ত আইসিইউ বেড তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

আইসিইউতে কোভিড রোগীরা মূলত নার্সদের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল উল্লেখ করে ডা. শেঠি বলেন, ‘শুধু করোনা মোকাবিলায় আগামী এক বছরে আমাদের দুই লাখ নার্স ও দেড় লাখ চিকিৎসক প্রয়োজন।’

তিনি আরও জানান, ভারতের নার্সিং স্কুল ও কলেজগুলোতে প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার নার্স তিন বছরের জিএনএম বা চার বছরের বিএসসি কোর্সের প্রশিক্ষণ শেষ করেছে, তবে তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা এখনো হয়নি।

তার মতে, এই প্রশিক্ষিত নার্সদের এক বছরের জন্য কোভিড আইসিইউতে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত, এরপর তারা তাদের ডিগ্রির সনদ পেতে পারে।

ডা. শেঠি বলেছেন, বর্তমানে পিজি’র আসন পেতে এনইইটি প্রবেশিকা পরীক্ষায় এমসিকিউয়ের উত্তর খুঁজতে গ্রন্থাগারগুলোতে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ তরুণ চিকিৎসক বসে আছেন। জাতীয় মেডিকেল কমিশন ও ন্যাশনাল বোর্ড অব এক্সাম’র উচিত অবিলম্বে অনলাইনে যথাযথভাবে এনইইটি পরীক্ষা নিয়ে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা।

তারপরও যে এক লাখ চিকিৎসক প্রয়োজনীয় নম্বর তুলতে ব্যর্থ হবে, তাদের কোভিড আইসিইউগুলোতে কাজ করার অনুমতি দেওয়া উচিত। যা পরের বছর তাদের প্রবেশিকা পরীক্ষায় গ্রেস নম্বর (অতিরিক্ত নম্বর) হিসেবে দেওয়া যেতে পারে।

ডা. শেঠি আরও বলেন, ‘২৫ হাজার চিকিৎসক রয়েছেন, যারা স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন, তবে এখনো পরীক্ষায় অংশ নেননি। এই শিক্ষার্থীদের বলা যেতে পারে যে তারা কোভিড আইসিইউতে এক বছরের জন্য কাজ করলে পরীক্ষা ছাড়াই তাদের ডিগ্রি দেওয়া হবে।’

এ ছাড়াও, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে স্নাতক পাস করেছেন, কিন্তু ভারতের জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা এখনো দেননি, এই শিক্ষার্থীদেরও এমন সুযোগ দেওয়া উচিত। এক বছরের জন্য আইসিইউতে কাজ করলে তাদের নিবন্ধন সনদের যোগ্য বলে বিবেচনা করা যেতে পারে।

ডা. শেঠি আরও বলেন, ‘এই চিকিৎসক ও নার্সদের নিয়োগের সময় স্তর-২ ও স্তর-৩ শহরগুলোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত।’

মহানগরগুলোর মতো সেসব শহরে বেসরকারি হাসপাতাল নেই এবং সরকারি হাসপাতালগুলো প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

যদি সেখানে আরও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া না হয়, তাহলে স্তর-২ ও স্তর-৩ শহরগুলোর অবস্থা শিগগির দিল্লি বা মুম্বাইয়ের মতো খারাপ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করেন ডা. শেঠি।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/43829
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ