Printed on Thu Feb 25 2021 12:45:57 PM

২১ বছরেও হয়নি নগরকান্দা পৌরসভার নিজস্ব ভবন

ফরিদপুর প্রতিনিধি
সারাদেশ
নগরকান্দা
নগরকান্দা
ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর পেরিয়ে গেছে ২১ বছর। এতদিন পরও হয়নি নিজস্ব কোনো ভবন। পৌরসভার কার্যক্রম চলছে ভাড়া বাড়িতে।

শুরুর পর বছর তিনেক জেলা পরিষদের কাছে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করা হলেও গত ১৮ বছরে কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি। বকেয়া পড়েছে আট লক্ষাধিক টাকা।

উপজেলা সদরে জেলা পরিষদের পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবনে (ডাকবাংলো) শুরু হয় পৌরসভার কার্যক্রম। মাসিক ভাড়া নির্ধারিত হয় তিন হাজার টাকা। বর্তমানে ভবনটি আরও বেশি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের পূর্ব পাশের কক্ষে বসেন মেয়র। পশ্চিম পাশের কক্ষে সচিব। উত্তর পাশের একটি কক্ষে অফিস সহায়ক বসে নাগরিকদের বিভিন্ন সনদ দেয়ার কাজ করেন। উত্তর পাশের আরেকটি কক্ষে জমিসংক্রান্ত কার্যক্রম হয়। মাঝের কক্ষে কর সংক্রান্ত কাজ চলে।

এখানে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের বসার ব্যবস্থা হিসেবে রয়েছে দু‘একটি বেঞ্চ। ভবনের ছাদের বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তরা খুলে পড়েছে। সামনের অংশে রড বের হয়ে গেছে, ফাটল ধরেছে পিলারে। ভবন ধসে যাওয়ার ঝুঁকি মাথায় নিয়েই কাজ করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।

পৌর ভবনের এমন বেহাল অবস্থা নিয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মলয় কান্তি বিশ্বাস বলেন, নগরকান্দার অন্য সব ইউনিয়ন পরিষদেও এর চেয়ে ভালো ভবন আছে।

তৃতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নগরকান্দা পৌরসভায় ৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা। কিন্তু সেখানে বর্তমানে কর্মরত আছেন স্থায়ী ৬ জন ও অস্থায়ী ১০ জন। এই ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়েই চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।

১৯৯৯ সালে ৭ দশমিক ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে নগরকান্দা উপজেলার নগরকান্দা ইউনিয়ন ও লস্করদিয়া ইউনিয়নের অনেকাংশ ভেঙে নগরকান্দা পৌরসভা গঠন করা হয়। ওই সময় নগরকান্দা নামের ইউনিয়নটি কোদালিয়া-শহীদনগর ইউনিয়ন হিসেবে নামকরণ করা হয়। তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জিল্লুর রহমান এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রায় ২৬ হাজার পৌরবাসী অধ্যুষিত নগরকান্দা পৌর এলাকায় উন্নয়নের তেমন কোনো ছোঁয়াই লাগেনি গত ২১ বছরে। পৌর সুবিধার মধ্যে সড়কবাতি আর অতি সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের কাজ এখন চলমান।

পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত মধ্যজগদিয়া মহল্লা। এখানে প্রায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ বছর অতিবৃষ্টিতে তিন মাসের বেশি সময় ধরে এই এলাকায় পানি আটকে ছিল।

মধ্য জগদিয়া মহল্লার বাসিন্দা ও সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সজ্জিতা বিশ্বাস বলেন, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বর্ষার তিন মাস তাদের এক প্রকার গৃহবন্দী হয়ে থাকতে হয়।

২০০০, ২০০৫, ২০১১ ও ২০১৫ সালে এ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ মেয়র নির্বাচিত হন রায়হান উদ্দিন মিয়া। গত বছরের ৫ মে তিনি মারা যান। পরে এক নম্বর প্যানেল মেয়র নিমাই চন্দ্র সরকারকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত মেয়র দিয়েই চলছে পৌরসভার কার্যক্রম।

পৌরসভার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়র নিমাই চন্দ্র সরকার বলেন, নাগরিক সেবা যতটুকু দিতে চাই, ততটুকু দিতে পারছি না। জেলা পরিষদের কাছে প্রায় আট লাখ টাকা বকেয়া আছে। নতুন ভবনের জন্যে ৫২ শতাংশ জমি কেনা হয়েছে। দরপত্র আহ্বান করে কার্যাদেশও দেয়া হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যেই নতুন ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হবে আশা করছি।

ভয়েস টিভি/এমএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/32442
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ