Printed on Tue Sep 21 2021 8:32:15 AM

সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে নারীদের সতীত্ব পরীক্ষা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
বিশ্ব
নারীদের সতীত্ব
নারীদের সতীত্ব
পুলিশ বা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চাইলে নারীদের সতীত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।  ১৯৬৫ সাল থেকে এই নিয়ম প্রচলিত রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় দ্বীপ-দেশ ইন্দোনেশিয়ায়। অথচ পুরুষদের এমন কোনও প্রমাণ দিতে হয় না। ২০১৫ সালে এটাকে ‘বৈষম্যমূলক এবং অবমাননাকর’ হিসেবে চিহ্নিত করে ইউরোপীয় কমিশন।

ইন্দোনেশিয় সেনাবাহিনী মনে করে, ‘সতীত্ব’ মহিলাদের দৃঢ় মানসিকতার পরিচায়ক। তাই সেনা হিসাবে দেশসেবা করতে চাইলে মানসিক এবং শারীরিকভাবে দৃঢ় হতে হবে। এজন্যই এই পরীক্ষার প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই পরীক্ষার ‘গুরুত্ব’ বোঝানোর চেষ্টা করেছে ইন্দোনেশিয়া। উচ্চপদস্থ সেনা অফিসাররা বলেন, যে নারী সেনা হিসাবে দেশের সেবা করতে চান তাকে মানসিক এবং শারীরিক দিক থেকে অত্যন্ত দৃঢ় হতে হবে। ‘সতীত্ব’ই কোনও মহিলার দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

‘সতীত্ব’ পরীক্ষা করা হয় ‘টু ফিঙ্গার টেস্ট’ পদ্ধতিতে। বিশেষজ্ঞরা জানান, এটি অবৈজ্ঞানিক একটি পদ্ধতি। এটি নারীদের মানসিক বিপর্যস্ত করে তোলে। এতে তাদের স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হয়।

নারীদের হাইমেন পর্দা পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ফলে ছিঁড়ে যায়। এই পদ্ধতিতে সেই পর্দা সুরক্ষিত রয়েছে কি না পরীক্ষা করা হয়। পর্দা ঠিকঠাক না থাকা মানেই ধরে নেওয়া হয় ওই মহিলা যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন। তবে আরও অনেক কারণেই এই পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে দাবি চিকিৎসকদের।

ইন্দোনেশিয়ার মানবাধিকার কমিশন ১৯৯৯ সালে এই নিয়মকে বেআইনি ঘোষণা করে। কমিশন এই পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দাবি করলেও চুপ ছিল ইন্দোনেশিয়া প্রশাসন। আর সেই থেকেই নারীরা দেশের ভিতরে এবং বাইরে এ নিয়ে সরব হতে শুরু করেছিলেন। এ নিয়ে বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক সমালোচনাও হয়েছে ।

এই পরীক্ষা নিয়ে ফের ঝড় তোলে ২০১৪ সালে ইন্দোনেশিয়া পুলিশে নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি। এতে বলা হয়, যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্বে অন্য পরীক্ষার পাশাপাশি নারীদের সতীত্ব পরীক্ষার প্রমাণ দিতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যে সমস্ত মহিলা নিজেদের পুলিশ হিসাবে দেখতে চান তাঁরা যেন ছোট থেকেই ‘সতীত্ব’ বজায় রাখার মানসিকতা তৈরি করে নেন।

২০১৩ সাল ‘সতীত্ব’ পরীক্ষা বির্তক আবারও শুরু হয়। সে বছর ইন্দোনেশিয়ার বেশ কিছু স্কুল ছাত্রী ভর্তির সময় এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেয়। হাইমেন পর্দার পরিস্থিতি বৈজ্ঞানিকভাবে কখনও কোনও মহিলার সতীত্বের প্রমাণ হতে পারে না জানিয়ে ইন্দোনেশিয়ার চিকিৎসকরা এর বিরুদ্ধে সরব হন।

২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন চিকিৎসক নিলা ময়লোয়েক। তিনিও এই নিয়মের সমালোচনা করে সে সময় বলেন, এই নিয়মের প্রয়োজনীয়তা, পদ্ধতি এবং ফলাফল নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

২০১৯ সালে পশ্চিম জাভার এক জিমন্যাস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি ‘সতীত্ব’ হারিয়েছেন। এজন্য তাকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। এই ঘটনার পর ইন্দোনেশিয়ায় চাপা অসন্তোষ ব্যাপক আকার ধারণ করতে শুরু করে। এই অবৈজ্ঞানিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ করার জন্য ইন্দোনেশিয়ার উপর আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়তে থাকে।

দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে চুপ থাকার পর এবার নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সম্প্রতি উচ্চ পদস্থ এক সেনাকর্তা এই ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার একটি ভিডিও বার্তায় এই আভাস পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন  : ৫৫ বছরেও আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসে

ভয়েস টিভি/এএন
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/50726
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ