Printed on Mon Apr 12 2021 12:00:15 PM

নিউজিল্যান্ডের কাছে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
খেলার খবর
নিউজিল্যান্ডের
নিউজিল্যান্ডের
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে জয়ের লক্ষ্যে এবার খেলতে গিয়েছে বাংলাদেশ দল। সিরিজটি শুরুর আগে ভিন্ন ভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ থাকার কথা বলেছেন টাইগারদের কোচ, অধিনায়করা। কিন্তু মাঠের খেলায় দেখা গেল ঠিক বিপরীত চিত্র। স্বাগতিকদের কাছে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ডানেডিনে জীর্ণ ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনীতে ৪১.৫ ওভারে বাংলাদেশ অলআউট ১৩১ রানেই। আগে ব্যাট করে গত ৩ বছরে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর এটি। কিউইদের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ২০০৭ সালের পর সর্বনিম্ন।

ইউনিভার্সিটি ওভালের উইকেটে বাউন্স ছিল মোটামুটি। নিউ জিল্যান্ডে সেটি কিছুটা থাকেই। রোদের দেখা ছিল না বলে পেসারদের জন্য শুরুতে সহায়তাও কিছুটা ছিল। কিন্তু বিপজ্জনক কিছু নয়। দলকে ডোবায় ব্যাটসম্যানদের বাজে শট নির্বাচন।

শুরুতে আর শেষে এক ওভারে জোড়ায় জোড়ায় উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বোলিং নায়ক ট্রেন্ট বোল্ট। ২৭ রানে তার শিকার ৪ উইকেট।

এই বোল্ট বাংলাদেশকে ভড়কে দেন ম্যাচের প্রথম বল থেকেই। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম বলেই বোল্ট করেন দুর্দান্ত আউটসুইঙ্গিং ইয়র্কার। অল্পের জন্য রক্ষা পান তামিম।

বাংলাদেশ অধিনায়ক পাল্টা জবাব দেন তৃতীয় বলেই, স্ল্যাশ করে পয়েন্টের ওপর দিয়ে ছক্কা! তবে সেই লড়াই জমল না বেশিক্ষণ জমতে দেননি বোল্ট। বোল্টের কয়েকটি আউট সুইঙ্গার অল্পের জন্যে তামিমের ব্যাটের কানা নেয়নি। আউট হওয়া বলটি সুইং করবে ভেবেই খেলেছিলেন তিনি। কিন্তু সেটি সুইং করেনি, সোজা গিয়ে লাগে প্যাডে। ১৫ বলে ১৩ রানে এলবিডব্লিউ তামিম।

দুই বল পরই বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার। অভিষিক্ত ডেভন কনওয়ে নেন নিজের প্রথম ক্যাচ।

বাংলাদেশের বিপদ তখনই বাড়তে পারত আরও। নিউ জিল্যান্ডে আগেরবারের সফরে ৩ ওয়ানডে মিলিয়ে ৩ রান করা লিটন কুমার দাস এবার ৩ রানে দেন ক্যাচ। কিপার টম ল্যাথাম ঝাঁপিয়ে বলের নাগাল পাননি, অভিষিক্ত ড্যারিল মিচেল প্রথম স্লিপে সরাসরি হাতে পেলেও জমাতে পারেননি বল।

লিটন এরপর সময় নিয়ে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন। প্রথম বাউন্ডারির দেখা পান একাদশ ওভারে। যখনই মনে হচ্ছিল তিনি দলকে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত, তখনই হতাশাজনক বিদায়। জিমি নিশামের প্রথম ওভারেই শর্ট অব লেংথ বলে আলতো ক্যাচ তুলে দেন মিড অনে। ইনিংস শেষ হয় ৩৬ বলে ১৯ রান করে।

মুশফিকুর রহিমের গল্পও লিটনের মতোই। অস্বস্তিময় শুরুর পর লড়াই, আশা দেখানো ও আলগা শটে বিদায়। নিশামের বলে কাট করার জায়গা না থাকলেও সেই চেষ্টা করতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি গালিতে (৪৯ বলে ২৩)।

নিশাম আর সৌভাগ্য মিলিয়ে ধরা দেয় পরের উইকেট। মাহমুদউল্লাহর জোরালো ড্রাইভে বোলার নিশামের হাত ছুঁয়ে লাগে নন-স্ট্রাইক প্রান্তের উইকেটে, মোহাম্মদ মিঠুন (২৭ বলে ৯) তখন ক্রিজের বাইরে।

পেসারদের ভূমিকা শেষে এরপর দৃশ্যপটে মিচেল স্যান্টনার। এই বাঁহাতি স্পিনারের লেগ স্টাম্পের বলে শাফল করে বোল্ড মেহেদী হাসান মিরাজ।

অভিষিক্ত মেহেদি হাসান নিজের আগমনী বার্তা জানিয়ে দেন দ্রুতই। ওয়ানডে ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করেন দ্বিতীয় বলেই ছক্কায়, স্যান্টনারকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে ইনসাইড আউট শটে ৯৪ মিটার লম্বা ছক্কায় আছড়ে ফেলেন মাঠের বাইরে।

তার রোমাঞ্চকর অভিযান শেষ হতেও সময় খুব লাগেনি। স্যান্টনারকে আরেকবার বেরিয়ে এসে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন মিড অনে।

এরপর খানিকটা লড়াই করেন কেবল মাহমুদউল্লাহ। বোল্টকে পুল করে বাউন্ডারি আদায় করেন, ক্রিজ থেকে বেরিয়ে ছক্কায় ওড়ান কাইল জেমিসনকে।

ইনিংসের সর্বোচ্চ ২৭ রান করে তার বিদায় আগ্রাসী শট খেলেই। ম্যাট হেনরির বলে পুল করেছিলেন, শর্ট মিড উইকেটে লাফিয়ে দারুণ রিফ্লেক্স ক্যাচ নেন স্যান্টনার। এরপর ইনিংস শেষ করতে আর বেশি সময় নেননি বোল্ট।

বাংলাদেশের মাত্র ১৩১ রানের  জবাবে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২১.২ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। এ নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টানা ১৪ ম্যাচ হারল বাংলাদেশ। এছাড়া ওয়ানডে সুপার লিগেও এটি টাইগারদের প্রথম পরাজয়।

বাংলাদেশের দেয়া ১৩২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ডানহাতি ওপেনার মার্টিন গাপটিল। মোস্তাফিজুর রহমানের করা প্রথম ওভারেই তিনি চার-ছয়ের মারে তুলে নেন দশ রান। দলীয় পঞ্চাশ রান পূরণ করতে নেন মাত্র ৫ ওভার। তবে তাকে বেশিদূর যেতে দেননি তাসকিন আহমেদ।

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের প্রথমবারের মতো তাসকিনকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সেই ওভারের তৃতীয় বলে বড় শট হাঁকানোর চেষ্টায় কট বিহাইন্ড হন গাপটিল। আউট হওয়ার আগে ৩টি চার ও ৪টি বিশাল ছয়ের মারে মাত্র ১৯ বলে করেন ৩৮ রান।

উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর তিন নম্বরে ব্যাট করতে আসেন অভিষিক্ত ডেভন কনওয়ে। আরেক ওপেনার হেনরি নিকলসের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৬৫ রান। দলের জয়ের জন্য মাত্র ১৩ রান বাকি থাকতে হাসান মাহমুদের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচে পরিণত হন ৫২ বলে ২৭ রান করা কনওয়ে।

অপর প্রান্তে দুই উইকেট পড়ে গেলেও নিজের প্রান্তে অবিচল ছিলেন নিকলস। ফিফটি থেকে মাত্র ১ রান দূরে থাকতে ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। ইনিংসের ২২তম ওভারের জোড়া চার মেরে ম্যাচ শেষ করেন আরেক অভিষিক্ত উইল ইয়ং। নিকলস অপরাজিত থাকেন ৫৩ বলে ৪৯ রান করে। ইয়ং করেন ৬ বলে ১১ রান।

আরও পড়ুন : ‘জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে ফেরাতে বাসে আগুন দিয়েছে সরকার’

ভয়েস টিভি/এমএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/39126
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ