Printed on Sun May 09 2021 4:01:14 AM

কোটি টাকায় জমি কিনেছেন খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সারাদেশ
নিরাপত্তা প্রহরী
নিরাপত্তা প্রহরী
খাদ্য গুদাম অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী জিয়াউর রহমান। গুদামের চাল চুরিসহ নানা দুর্নীতির টাকায় সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় কোটি টাকায় ক্রয় করেছেন পাঁচ কাঠা জমি। প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখা জমিতে এখনও বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করেননি।

নিরাপত্তা প্রহরীর গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছে, খাদ্য গুদাম অফিসে চাকরি পেয়ে ভাগ্য খুলে গেছে জিয়াউর রহমানের। বাড়ির দিকে পরিচয় দেন গুদাম অফিসের কর্মকর্তা। বছর পার না হতেই পাল্টে ফেলেন মোটরসাইকেল, শহরে কিনেছেন জমি।

জিয়াউর রহমান সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ভাড়াশিমলা গ্রামের জব্বার মোল্লার ছেলে। ২০০৮ সালে নভেম্বর মাসে খাদ্য গুদাম অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। দুর্নীতির কারণে সাতক্ষীরা থেকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় তাকে। বর্তমানে বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন।

কালিগঞ্জের দক্ষিণ ভাড়াশিমলা এলাকার নুর আব্দুল জানান, জিয়াউর রহমান আমার কাড়ি একই গ্রামে পাশাপাশি। আমি বসন্তপুর খাদ্য গুদামের শ্রমিক সরদার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছি। ২০১৬ সালে হুমায়ুন বাসিদ শ্যামনগর থেকে বসন্তপুর খাদ্য গুদাম অফিসে ওসি এলএসডি পদে যোগদান করেন। সঙ্গে বদলি করে নিয়ে আসেন নিরাপত্তা প্রহরী জিয়াউর রহমানকে। মূলত নিরাপত্তা প্রহরি জিয়াউর রহমানই ওসিএলসডি পদের সব কাজই করতো। ফাইল পত্রে স্বাক্ষর করতেন হুমায়ুন বাসিদ। জেলার আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের বসন্তপুর এই তিনটি উপজেলায় এক সঙ্গে চাকরি করেছেন দু’জন।

তিনি জানান, জিয়াউর রহমানের পারিবারিক অথনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল না। তবে চাকরিতে যাওয়ার পরে এখন আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। বছর বছর মোটরসাইকেল বদলায়, সাতক্ষীরা শহরে কোটি টাকার জমিও কিনেছে নিরাপত্তা প্রহরী জিয়াউর রহমান। বসন্তপুর খাদ্য গুদাম থেকে ৬ টন চাল চুরি করে বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে জিয়াউর রহমান। এ ঘটনার পর তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় বাগেরহাট জেলার মোংলায়। মোংলা থেকে আবার তদবির করে চলে আসে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালি খাদ্যগুদামে।

২০১৯ সালে ২২ এপ্রিল সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালিগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য এস.এম জগলুল হায়দার খাদ্য অধিদফতরে মহাপরিচালকের নিকট নিরাপত্তা প্রহরি জিয়াউর রহমানকে খুলনা বিভাগের বাইরে বদলি করতে ডিও লেটার দেন। সেখানে উল্লেখ করেন, সরকারি সম্পত্তি লুট, সরকারি কাজে বাঁধাদান, সরকারের মানসম্মান ক্ষুণ্ন ও রাষ্ট্রদ্রোহী কাজে সরাররি জড়িত। এই চিঠির পর সাতক্ষীরা থেকে বরিশাল বিভাগে শাস্তিমূলক বদলি করা হয় প্রহরী জিয়াউর রহমানকে।

দুর্নীতির অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে নিরাপত্তা প্রহরি জিয়াউর রহমান বলেন, আমি কোনো দুর্নীতি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। শহরে পুরাতন সাতক্ষীরায় ৪-৫ বছর আগে চার কাঠা জমি কিনেছি। দাম পড়েছে ৮-৯ লাখ টাকা। কয়েক দফায় এই টাকা পরিশোধ করেছি। এছাড়া যেসকল অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দফতরের খাদ্য পরিদর্শক হুমায়ুন বাসিদ বলেন, অফিসে একজন করে বিশ্বস্ত লোক রাখতে হয়। আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের বসন্তপুর গুদামে চাকরিকালীন সময়ে সে আমার আমার সঙ্গে ছিল। সাতক্ষীরা শহরে জমি কিনেছে এ ব্যাপারে আমি কোনো সহযোগিতা করিনি। আমি কোথাও কোন দুর্নীতি-অনিয়ম করিনি।

আরও পড়ুন: প্রেমের ফাঁদে হিন্দু ছাত্রীকে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে প্রধান শিক্ষকের

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/41904
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ