Printed on Sat Jan 16 2021 1:51:06 AM

নির্বাচন কমিশনের তথ্য ভুয়া, ভোটে জনগণ অংশ নেয়নি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
রাজনীতি
নির্বাচন কমিশনের
নির্বাচন কমিশনের
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশে স্থানীয় নির্বাচনের আসনগুলো আওয়ামী লীগ ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এটাতো নির্বাচনই হয়নি, মাপকাঠি আবার কিসের, এ সরকারের আমলে এই নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় কখনই কোন সুষ্ঠু নির্বাচত হতে পারেনা। আমরা একটাও বর্জন করিনি, আমরা দুটো বাদ দিয়ে সবগুলোর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি।

ফলাফল তাহলে কি পূর্ব নির্ধারিত এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এগুলো অপনার কিছু কিছু পূর্ব নির্ধারিত বটেই, কিছু ইভিএমের কারসাজি। আমরা ইভিএম বরাবরই আপত্তি জানিয়ে এসেছি যে, ইভিএমে সবচেয়ে বেশি কারচুপির সুযোগ। ইভিএমে যে প্রোগ্রাম ঠিক করে দিবেন সেটাই আসবে; আপনি প্রোগাম ঠিক করলেন যে, টিপবা ধানের শীষ যাবে, টিপবা নৌকা যাবে, আবার ফাইনালি রাখলাম যে ১০টা টিপলে ৮টা চলে যাবে নৌকায় আর ২টা যাবে ধানের শীষে। যে বোতামেই টিপো ওইটাই হবে। আমি হাস্যকর কোন কথা বলছি না, যেটা সত্যি সেটাই বলছি। এমনি প্রোগ্রাম করে দিচ্ছে তারা (আওয়ামী লীগ) এবং সেভাবেই চলছে।

ফখরুল বলেন, আমাদের বিকল্প প্রস্তাব একটা সরকার চাই, নিরপেক্ষ সরকার চাই নির্বাচনের সময়, আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন চাই এবং ইভিএম বাতিল করে দিয়ে ব্যালট বাক্স চাই; আগে যেভাবে ভোট দেয়া হতো সেই ব্যবস্থা চাই। কারণ আমাদের দেশের মানুষ এখনো বুঝতেই পারেনা ইভিএম কি? ওইটা কি বলে একবার যদি আঙ্গুলের ছাপ দিতে ভুল হয়ে গেল তখন সবুজ দিয়ে কনফ্রাম করতে হবে, সেখানে যদি আবার লাল পরে যায় তখন সে বাতিল। সেজন্য আগে ওই ভোটারকে তো প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আজকে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ইউরোপ, ভারত ইভিএমের বিরুদ্ধে কথা বলছে। এই মেশিন কখনই সঠিক হয়না; যখন আমি আমার হাত দিয়ে ব্যালট পেপারে চিহ্ন দিয়ে ভোট দেই তখন সেটা সঠিক হয়।

৮০ শতাংশ ভোটার পৌরসভার নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সচিবের এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এই যে বলা হচ্ছে ৮০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন এটা সম্পূর্ণভাবে ভূয়া। কারণ নির্বাচন কমিশনটাই ভূয়া। চীফ ইলেকশন কমিশনার থেকে শুরু করে সবগুলোই চোর এটা আমি বলছি না, এটা বিশিষ্ট নাগরিকরা বলছেন এবং দেশের মানুষ বলছে। সুতরাং তাদের বিষয়ে প্রশ্ন করাও যুক্তিসংগত নয়, কিছুনা অপমানজনকও বটে।

পৌরসভার নির্বাচনের ভোটের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথম ধাপ, দ্বিতীয় ধাপ এগুলো তো সব হয়ে গেছে; আমি আগেই বলেছি এগুলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন তারা (আওয়ামী লীগ ) দখলে নিচ্ছে। যেটা আগে কখনই হয়নি। যেটা হোল্ড সিস্টেম এটা আমাদের দেশে প্রচলন ছিলনা যে মার্কা দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা; মার্কা দিয়ে নির্বাচন হওয়ার ফলে গোটা জাতিকে বিভাজন করে ফেলা হয়েছে।  আজকে স্বাধীনতা ৪৯ বছর শেষ করে ৫০ বছরে পরতে যাচ্ছি। কিন্তু এই ৪৯ বছরেই কিন্তু আমরা শুধু এই বিভাজনের কারণে, আমাদের এই ব্যর্থতার কারণে আমরা কিন্তু এখন পর্যন্ত একটা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর এই সিস্টেম আমরা তৈরি করতে পারলাম না।

আমরা রাজতৈনিক দলগুলো যে তাদের ভুমিকা পালন করবে যে সৃষ্টিশীল দৃষ্টিতে সেটাও আমরা করতে পারলাম না। আমরা এখানে পার্লামেন্ট তৈরি করতে পারলাম না, যে পার্লামেন্ট কেন্দ্রবিন্দু হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সেটাও আমরা পারিনাই এবং সেটার কারণটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগ ব্রিটিশদের যে পলিসি ছিল ডিভাইন এন রুল তারা সেই পলিসি নিয়ে এখানে কাজ করছে। তারা এখানে ডিভাইন এন রুল দিয়ে ক্ষমতা টিকে থাকতে চাইছে।

নির্বাচন কমিশন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানো তো আসলে নির্বাচন কমিশন বলেন আর সরকারই বলেন; এগুলো এখন মূলত হয় বেসামরিক আমলা অথবা সামরিক আমলা, তারাই সিদ্ধান্ত নেই এবং তারাই চালায়। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে রাজনীতিবীদদের এখন আর কোন জায়গা নেই, রাজনীতিবীদরা এখন পেছনে পড়ে গেছে। কতৃত্ববাদী শাসনে এটাই সবচেয়ে বিপদ হয়ে দাড়ায় যে রাজনীতিবিদরা পেছনে চলে যায় এবং দেখা যায় রাজনীতিবীদরা আমলাদের তুষ্ট করে কারণ তাদেরকে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। সেই আইয়ুব খানের আমলে তা হয়েছে, এরশাদের আমলেও তাই হয়েছে এবং দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আওয়ামী লীগের আমলেও সেটাই হচ্ছে; যে আওয়ামী লীগ জনগণের দল ছিল, যে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বের ভুমিকা পালন করেছিল বলে দাবি করে সেই আ.লীগ আজ পুরোপুরি একটা কতৃত্ববাদী দলে পরিণত হয়ে জনবিচ্ছিন্ন ও  লুটপাটের দলে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, যে দেশে গণতন্ত্র থাকেনা, যেদেশে কতৃত্ববাদী শাসন থাকে, যে দেশে পুলিশকে দিয়ে সরকারকে দেশ পরিচালনা করতে হয়, যে দেশে মানুষের ন্যূনতম অধিকার সেই অধিকারগুলো প্রতিষ্ঠিত নেই, যেদেশে মানবাধিকার পর্যন্ত নেই, যেদেশে জুডিসিয়াল কাস্টরিতে নিয়ে গিয়ে তারপর তাকে হত্যা করতে হয়, পুলিশ কাস্টরিতে নিয়ে হত্যা করা হয়; যে দেশে বিনা বিচারে এক্সট্রা জুডিসিয়াল কিলিং হয়, যে দেশে গুম করে ফেলা হয় সেখানে এ সমস্ত কথাগুলো একেবারে টেকে না।

আওয়ামী লীগ দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা যেহেতু জোর করে ক্ষমতা টিকে আছে, তারা যেহেতু জনগণের উপর নির্যাতন-নীপিরন করে ক্ষমতায় টিকে আছে; সেখানে তাকে তো বলতেই হবে নির্বাচন আমি করেছি, নির্বাচন ভাল হয়েছে। একথাগুলো বলতেই হবে। এটাতো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখনই কোন সরকার পরিবর্তন করেনা। কিন্তু সেখানেও আওয়ামী লীগ সরকার দুর্ভাগ্যজনক ভাবে প্রায় ক্ষেত্রেই তারা শক্তি প্রয়োগ করেছে; বিশেষ করে আপনার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জোগসাজেসে। নির্বাচন কমিশনের জোগসাজেশে; তারা সেখানে স্থানীয় সরকারের আসনগুলোতে নিয়ে গেছে। এটার পরিবর্তন আমরা কখনই আশা করিনা, যতক্ষণ না জনগণ এটার পরিবর্তন ঘটাচ্ছে।

২০২০ সালে বিএনপির অর্জন ও ২০২১ সালে বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ কি এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০২০ সাল শুধু বিএনপি নয়, সারা বিশে^ মানবজাতির জন্য সবচেয়ে একটা খারাপ বছর। এই সালে সারা বিশে^ কোটি মানুষ বেকার হয়েছে, তাদের জীবিকা হারিয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের প্রাণ হারিয়েছে এবং গোটা মানব সভ্যতার একটা পরিবর্তন সেটা সূচিত হয়েছে।

অনেকের মনে থাকার কথা যারা আপনারা খবরের কাগজ ও বইপত্র সবসময় দেখেন যে, হ্যান্ডিকিসিঞ্জার মার্চ মাসে তখন করোনা ভাইরাসের প্রথম দিক, তখন উনি বলেছিলেন- দ্যা ওয়াল্ড উইল নট বি দ্যা সেইম আফটার দিস করোনা ভাইরাস, এটা খুব সিক্রিফিকেন্স কথা আরকি; এই করোনা ভাইরাস যখণ শেষ হবে, তখন পৃথিবী আগের মত আর থাকবে না, আসলে পৃথিবী কিন্তু বদলে যাচ্ছে। উনার মুল কথা ছিল, বিশে^র রাজনৈতিক নেতারা যদি একত্রিত না হয়, পৃথিবীর মানুষগুলোকে যদি এক জায়গায় না আনতে পারে তাহলে মানবজাতির একটা সমুহ একটা বিপদের সম্মুখিন হবে; সেটা হচ্ছে এক্সজিসটেন্স এর প্রশ্ন এসে দাঁড়াবে। আজকে এটাকে হালকা করে দেখার কোন কারণ নাই এইজন্যে ইতিমধ্যে এই করোনা ভাইরাসের যে ভ্যাকসিন বেড়িয়েছে সেই ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর হবে সেটা নিয়েও অনেক বিশেষজ্ঞরা অনেক কথা তুলছেন। সঙ্গে সঙ্গে আবার যে দ্বিতীয় পর্যায়ে নতুন ধরনের একটা ভাইরাস, একই ভাইরাস করোনা ভাইরাস নতুন শক্তি নিয়ে ইউরোম আমেরিকায় আক্রমন শুরু করেছে।

বাংলাদেশে এই করোনা ভাইরাস আসার কারণে কয়েকটা বিষয় পরিস্কার হয়েছে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারে ভঙ্গুর, এখানে সরকারি যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সিস্টেম টোটালি ভালে কলাপ্স এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ সেটা কম। কয়জন মানুষের পক্ষে সম্ভব যে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে স্কয়ার, পপুলার, ল্যাবএইড সহ বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে ঐ অক্সিজেন ফ্যাসিলিটিস বা আইসিইউ ফ্যাসিলিটিস এবং ভ্যান্টিলেটর ফ্যাসিলিটিস তারা নিতে পারবে।

আমাদের ঠাকুরগাঁও একটা জেলা শহর, এখানে হাসপাতাল আছে, কিন্তু এখানে কোন রকমের এই ব্যবস্থাগুলো নেই। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে স্বাস্থ্যখাতে যে পরিমান টাকা বরাদ্দ করা হয় এবং ব্যয় হয়েছে তার ৮০ শতাংশ চুরি হয়েছে। সেটার প্রমাণ হচ্ছে যে স্বাস্থ্যখাতে কিভাবে চুরিটা হয় যে আপনার যন্ত্রপাতি কিনছে, ইকিউপমেন্টস কিনছে কিন্তু সেটা ব্যবহার হচ্ছেনা। আপনার ওটি ৩টা বানানো হয়েছে জেনারেটর নেই, জেনারেটর আসল কিন্তু তেল নেই, তেল খরচ দেওয়া হয়না, অ্যাম্বুলেন্স নেই, আইসিইউ ফ্যাসিলিটিসসহ যে অ্যাম্বুলেন্সগুলো দরকার তা নেই।

একি সঙ্গে আমাদের যে দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হচ্ছে এই যে ভ্যাকসিন সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিচ্ছে, ভ্যাকসিন সংগ্রহের ব্যাপারটা। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে যে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে ভারত থেকে সেটা হচ্ছে অক্সফোর্ড থেকে যেটা এসেছে সেটা এবং এটা কে সংগ্রহ করবেন একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন এডভাইজার মানে কোম্পানি, যার মালিক হচ্ছেন এই সরকারের এডভাইজার, তারা প্রায় দেড় ডলার বেশি দিয়ে এই ওষুধ মানে ভ্যাকসিন আনছে এবং সেগুলো আপনার বিতরণ হবে। এই যে সরকারের প্রতিটি ক্ষেত্রে চুরি করার যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেভাবেই তারা চুরি করছে।

এই বছরটা শুধু বিএনপির জন্য নয়, পুরো পৃথিবীর মানুষের জন্য খারাপ। আমাদের জন্য খারাপ দুটো কারণে প্রধানত , এই বছরই সরকারের যে কত্রিত্ববাদের যে চেহেরা সেটা প্রচন্ডভাবে সামনে এসেছে। সাংবাদিকদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সত্য লেখার জন্য, ডিজিটাল আইনে অনেক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষন এই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, দুর্নীতি এই বছরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে; আর জনগণের অধিকার হরনও এই বছরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

সুতরাং ২০২০ সালে কখনই আমরা ভাল কিছু দিতে পেরেছি দিয়েছি বলে বলতে পারিনা। তবে আশা করতে পারি ২০২১ সালে অন্তত কমপেক্ষ জনগণের যে অধিকার সে অধিকার ফিরে পাবার জন্য অবশ্যই আমরা প্রত্যাশা করব, সেই সাথে প্রত্যাশা করব জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পাবার জন্য ঐক্যবদ্ধ হবে।

এসময় ঠাকুরগাঁও বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন, সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিন সহ বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/30103
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ