Printed on Wed Jul 28 2021 4:35:58 PM

২৫টি পূর্ণবয়স্ক হাতির ওজনের সমান একটি নীল তিমি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভিডিও সংবাদ
নীল তিমি
নীল তিমি
সবচেয়ে বড় মাছের নাম কী? এমন প্রশ্ন যদি আপনাকে করা হয়ে নিশ্চয়ই ঝটপট বলবেন তিমি। কিন্তু উত্তরটা আংশিক ভুল । তিমি সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী হলেও মাছ নয় । একে মাছ বলে ভুল করে অনেকেই। একটা মাছের যেসব বৈশিষ্ট্য থাকে, তিমির ভেতর তার অনেক কিছুই অনুপস্থিত।

মাছ সাধারণত শীতল রক্ত বিশিষ্ট হয়, আর তিমিদের রক্ত উষ্ণ। মাছ ফুলকা দিয়ে নিশ্বাস নেয় কিন্তু তিমি শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ চলে ফুসফুসের মাধ্যমে। মাছ ডিম দেয়। কিন্তু তিমি আস্ত বাচ্চা প্রসব করে । সেই বাচ্চা কিস্তু মা-তিমির দুধ খেয়ে মায়ের যত্ন-আত্তি পেয়েই বিরাট সমুদ্রে রাজপুত্রের আদরে বড় হয়।

সমদ্রের বিশাল জলরাশির স্তন্যপায়ী প্রাণী তিমির বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে । নীল তিমি, কিলার তিমি, পাইলট তিমি, হাম্পব্যাক তিমি, বেলুগা তিমি, ফিন তিমি, গ্রে তিমি ইত্যাদি। এদের মধ্যে সব থেকে বড় নীল তিমি। আজ বলবো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমির কথা ।

এই প্রাণী মানুষের চেয়ে বহুগুণ বড়। আকৃতির মতোই নীল তিমি পৃথিবীর সবচেয়ে ওজনদার প্রাণীও। এটির ওজন প্রায় ১৫০ টন এবং এরা দৈর্ঘ্যে ৩০ মিটারের বেশি, অথাৎ ১০০ ফিট হতে পারে । একটি স্ত্রী নীল তিমি ওজনে ১৮০ টনও হয় । অর্থাৎ ২৫টি পূর্ণবয়স্ক হাতি আর একটি নীল তিমি এক পাল্লায় রাখলে তাদের ওজন সমান হবে। এখন পর্যন্ত আবিস্কৃত ডাউনোসরের চেয়ে বড় নীলি তিমি ।

মজার ব্যাপার হলো- নীল তিমি মোটেই নীল নয়, পানির নিচে থাকলে এটাকে দেখতে নীল মনে হয়। এটার আসল রং অনেকটা ফ্যাকাশে। তিমিরা সাধারণত ঘণ্টায় পাঁচ মাইল বেগে চলাচল করে। কিন্তু কখনো কখনো তাদের ছোটার গতি ২০ মাইলের কাছাকাছিও হয়। বাতাসে একবার শ্বাস নিয়ে নীল তিমি সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট পানির নিচে থাকতে পারে। ৩০ মিনিটের ভেতরে তাই পানির নিচ থেকে ওপরে উঠে শ্বাস নিতে হয় নীল তিমিকে।

বিশাল এই দৈত্যের খাবারও দৈত্যাকার হওয়ার কথা। তবে তা কিন্তু নয়। এরা ক্রিল নামের ফ্যাকাশে গোলাপি রঙের এক প্রকার সামুদ্রিক পতঙ্গ খায়। এই পতঙ্গগুলো বড়জোর আপনার-আমার আঙুলের সমান বড় হয়ে থাকে। নীল তিমি দিনে চার টন ক্রিল খেতে পারে। তিন কোটি ক্রিল একসঙ্গে দাঁড়িপাল্লায় রেখে ওজন করলে তিমির এক দিনের খাবারের ওজনের সমান হবে।

নবজাতক নীল তিমিও কম যায় না। সেও বিশ্বের সব থেকে বড় নবজাতকের স্থান দখল করে আছে। ওজন প্রায় তিন টন।
দীর্ঘদিন বাঁচে নীল তিমি। গড়ে তাদের আয়ু ৮০ থেকে ৯০ বছর। সব থেকে বেশি বয়স্ক যে নীল তিমি খুঁজে পাওয়া গেছে, তার বয়স ১১০ বছর।

পৃথিবীর প্রায় সব মহাসাগরে এরা রাজার মতো ঘুরে বেড়ায়। যেমন অ্যান্টার্কটিকা মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরে ঘুরতে দেখা যায়।

নীল তিমি অনেকটা জেগে থেকেই ঘুমায়। মানে সে কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না। তার মস্তিষ্কের অর্ধেক ঘুমায়, বাকি অর্ধেক জেগে থাকে। কারণ হিসেবে মনে করা হয়, তিমি যদি ঘুমিয়ে পড়ে এবং সময়মতো না জাগে, তাহলে দম আটকে মারাও যেতে পারে। ঘুমের এ বিষয়টি বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন ইলেকট্রো এনসেফালোগ্রাফির মাধ্যমে।

এক তিমি অন্য তিমির শব্দ প্রায় ১০০০ মাইল দূর থেকে শুনতে পারে। তিমির জিব্বার ওজন এক একটি হাতির সমান । আর যদি হৃদপিন্ডের আকারের কথা বলতে হয়- তা হলে কমপক্ষে একটি ছোট খাটো প্রাইভেট কারের সমান।

শিকার ছাড়াও জেলেদের হাতে তিমি নিধন হয়। তিমি জেলেদের জালে আটকা পড়ে ডুবে যায় অথবা অভুক্ত থেকে শেষে মারা যায়। সমুদ্রে জাহাজ যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুতগামী জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েও অনেক তিমি মারা যায়। আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা আইইউসিএন নীল তিমিকে বিপন্ন প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক আইনে নীল তিমি শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

ভয়েস টিভি/ডি
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/48115
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ