Printed on Sat Jul 31 2021 5:42:11 AM

নোবিপ্রবির ভবন নির্মাণ: ৩৭ মাসে এক তৃতীয়াংশ কাজও শেষ হয়নি

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
শিক্ষাঙ্গন
নোবিপ্রবির
নোবিপ্রবির
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সর্ববৃহৎ প্রকল্প একাডেমিক ভবন-৩ এর কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে বুঝিয়ে দিতে না পারায় প্রকল্পের কাজ শেষ করতে দ্বিতীয় মেয়াদে সময় বাড়িয়ে নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপরও গড়িয়েছে আরও ৭ মাস। তবে প্রকল্পের ২০ শতাংশ কাজও শেষ করতে পারে নি প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১০ তলা ভবনের দুই তলার কাজ এখনো অপূর্ণাঙ্গ এবং তিন তলার কাজ কিছুটা করা হলেও হাতেগোনা কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে চলছে বৃহৎ এ প্রকল্পের কাজ। আবার অধিকাংশ সময় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকতে দেখা যায় এই নির্মাণ কাজ।

জানা যায়, মূল প্রকল্পের ঠিকাদারি জিকেবিএল (জে.ভি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিলেও প্রকল্পের ইনচার্জ মইনুদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে এখন পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি প্রতিষ্ঠানটির মালিক জিকে স্বপন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের এপ্রিলে এ প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান করলে কাজ পায় জি কে স্বপনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য শুরুতে ৩০ মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু ৩৭ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তৃতীয় তলায় পড়ে আছে ১০ তলা এই ভবনের কাজ। এরমধ্যে দ্বিতীয় মেয়াদে সময় বাড়িয়ে নেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। বিলম্বিত হওয়ার পেছনে শ্রমিকদের অনুপস্থিতির কথা বলছেন প্রকল্পটির তদারক আবু মুসা ফাতহুলবারী টুটুল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করার জন্য ব্যাংক থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে পারফর্মেন্স গ্যারান্টি নিতে হয়। সেই পারফর্মেন্স গ্যারান্টি দেখিয়ে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশল দপ্তর থেকে বিল নিতে হয়। কিন্তু বর্তমান প্রকল্পটির পারফর্মেন্স গ্যারান্টির মেয়াদ কয়েকমাস আগে শেষ হলেও এখন পর্যন্ত নতুনভাবে ব্যাংক থেকে পারফর্মেন্স গ্যারান্টি নেয়নি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক থেকে পারফর্মেন্স গ্যারান্টি না নেয়া পর্যন্ত প্রকল্পের কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটি কোন বিল নিতে পারবে না।

আরও জানা যায়, নতুন বিল না নেওয়াতে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংক থেকে এই কাজের জন্য টাকা উত্তোলন করতে পারে নি। ফলে দীর্ঘদিন থেকে প্রকল্পের কাজ অগ্রসর হচ্ছে মন্থর গতিতে। এদিকে অযত্নে পড়ে আছে কয়েক লাখ টাকার সিমেন্ট ও রড।

প্রকল্পের সার্বিক অবস্থা নিয়ে আবু মুসা ফাতহুলবারী টুটুল জানান, করোনার পূর্ব পর্যন্ত কাজ ঠিকমত চললেও করোনার পরবর্তীতে কাজ খুবই ধীরে চলছে। কাজের ধীরগতির জন্য তিনি শ্রমিকদের অনুপস্থিতিকে দায়ী করেন। শ্রমিকরা কেন অনুপস্থিত এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, করোনা শুরু হওয়ার পর তারা বাড়িতে চলে গেছে এখনো তারা ফিরে আসেনি। তারা আসলেই কাজগুলো খুব দ্রুতভাবে অগ্রসর হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প ম্যানেজার মোহাম্মদ আরিফ জানান, নোবিপ্রবির প্রকল্পটির জন্য খুব শিগগিরই হেড অফিসে মিটিং করবেন। এছাড়া খুব শিগগিরই নতুনভাবে কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বলতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, কাজ শুরু করার জন্য আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেছি। তারা আমদের প্রতিবার আশ্বাস দিয়েও কাজ শুরু করেনি। গত কয়েকদিন আগে ফার্মের কাছে অফিসিয়াল নোটিশ দিয়েও এর কোন ফলাফল এখন পর্যন্ত পৌছায়নি আমাদের নিকট।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ দিদার-উল-আলম বলেন, প্রকল্পটি নিয়ে আমাদের কাছে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আমরা বিভিন্ন মেয়াদে সময় বেঁধে দিয়েও কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি পাইনি। আমরা প্রস্তাব করেছি তারা যদি কাজ করতে না পারে তাদের পরিচিত অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি হস্তান্তর করতে এবং বর্তমানে যে ৩য় তলা নির্মাণ করা হয়েছে এটি ক্লাসরুমের জন্য প্রস্তুত করে দেয়ার জন্য। দুটি প্রস্তাবের কোনো প্রস্তাবে তারা সাড়া দেয়নি। এছাড়া কাজটি দ্রুত শুরু করতে বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা করেছেন বলে জানান উপাচার্য প্রফেসর দিদার-উল-আলম।

ভয়েস টিভি/এসএফ
যোগাযোগঃ
ভয়েস টিভি ৮০/৩, ভিআইপি রোড, খান টাওয়ার, কাকরাইল,
ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮ ০২ ৯৩৩৮৫৩০
https://bn.voicetv.tv/news/46638
© স্বত্ব ভয়েস টিভি 2021 — ভয়েস টিভি
শাপলা মিডিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ সংবাদ